রাজধানীর পাঁচ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, আগারগাঁও ও পল্লবী মেট্রো স্টেশন এলাকাও বাদ যায়নি
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এক রাতে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পল্লবী মেট্রো স্টেশনের নিচেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
রাজধানী ঢাকার পাঁচটি এলাকায় একই রাতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে আগারগাঁও, মিরপুর, হাতিরঝিল, পল্লবী ও বিমানবন্দর এলাকা। তবে আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনের নিচে বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়া যায়নি। সেখানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভবনের পাশে বিস্ফোরণ ঘটে। অন্যদিকে পল্লবী মেট্রো স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
২ নভেম্বর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, আগের রাতে এসব ঘটনা ঘটে। আগারগাঁওয়ে রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে এডিবি ভবনের পাশে টহলরত পুলিশ সদস্যদের কাছাকাছি একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান।
পুলিশ জানিয়েছে, আগারগাঁওয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিআরটিএ কার্যালয়ের ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর হাতিরঝিলের মধুবাগ সেতু থেকে সড়কের ওপর আরেকটি ককটেল ছোড়া হয়। এতে একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এসব ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে উদ্বেগের ঘটনা ঘটে পল্লবী এলাকায়। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে পল্লবী মেট্রো স্টেশনের ১৭৭ নম্বর পিলারের নিচে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তি বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে স্টেশনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে। রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশ দেখছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেলে আসা ব্যক্তিদের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও তদন্ত চলছে। তবে এসব ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই রাতে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন বিস্ফোরণের ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মেট্রো স্টেশন ও রেলস্টেশনের মতো জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঘটনা যাত্রীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে এনেছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এখন পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।