সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ কমানোর নিয়ম আদালতে দেশজুড়ে আপাতত আটকে গেলযুক্তরাষ্ট্রের ১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনাযুক্তরাষ্ট্রে ৮২৯ শ্রমিকের বকেয়া মজুরি আদায়, ফেরত পাচ্ছেন ছয় লাখ ডলারের বেশিযুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের নিয়ম নিয়ে মামলা, অনিশ্চয়তায় কাজের অভিজ্ঞতাইরান যুদ্ধের ব্যয় ৪৭.১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল, বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা বেতন বা বড় বৃত্তিতে স্নাতকোত্তরের সুযোগ থাকলেও আবেদনকারীদের যোগ্যতা, বিষয়ভিত্তিক শর্ত ও জীবনযাত্রার ব্যয় যাচাই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার ব্যয় কমানোর নতুন সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। দেশটির উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্টাডি ইন্টারন্যাশনাল ২৮ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য তুলে ধরেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে পড়াশোনা, সম্পূর্ণ বেতন মওকুফ, আংশিক বৃত্তি কিংবা বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে প্রতিবেদনটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা খরচে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নেই। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট বিষয়ে বিনা বেতনে পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আবার কোথাও প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি, গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শর্ত পূরণের মাধ্যমে খরচ কমানোর সুযোগ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনার খরচ অত্যন্ত বেশি। এর সঙ্গে আবাসন, খাবার, যাতায়াত, স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যয় যুক্ত হয়। ফলে সম্পূর্ণ বৃত্তি পাওয়া না গেলেও আংশিক আর্থিক সহায়তা একজন শিক্ষার্থীর পরিবারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ কমাতে পারে।
স্টাডি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে প্রথমেই রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসন, শিক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ব্যবসায় প্রশাসন এবং তথ্যপ্রযুক্তির স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৫ হাজার ৯৪০ মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে। শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য আনুমানিক ব্যয় ৫ হাজার ৭৮০ ডলার। এর মধ্যে আবেদন ফি ও প্রতিটি বিষয়ের মূল্যায়ন ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ এখানে পড়াশোনা বিনা বেতনের হলেও সম্পূর্ণ বিনা খরচের নয়।

দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান কার্টিস ইনস্টিটিউট অব মিউজিক। সংগীত বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহীদের জন্য এটি বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ভর্তি হওয়া স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সব শিক্ষার্থী পূর্ণ শিক্ষাবেতন মওকুফ পান। তবে এখানে ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। সংগীতের নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা, অডিশন এবং অন্যান্য ভর্তি শর্ত পূরণ করতে হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সাধারণ শেষ তারিখ ১০ ডিসেম্বর।
তৃতীয় প্রতিষ্ঠান নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্রসম্যান স্কুল অব মেডিসিন। এখানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পেশাগত ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ শিক্ষাবেতন মওকুফের ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমার খরচেও সহায়তা দেওয়া হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সাধারণ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নয়; চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশেষ পেশাগত ডিগ্রি। তাই সাধারণ বিষয়ে মাস্টার্স করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের এই সুযোগকে নিজেদের জন্য প্রযোজ্য মনে করা ঠিক হবে না।

চতুর্থ প্রতিষ্ঠান কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত অনলাইন শিক্ষামাধ্যমের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে বিনা মূল্যে পাঠ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ, অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনলাইন পাঠ ও বিশেষায়িত শিক্ষাক্রম পাওয়া যায়। তবে এসব অনলাইন পাঠের সবগুলো পূর্ণাঙ্গ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নয়। স্বীকৃত সনদ পেতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থ দিতে হয়।

পঞ্চম প্রতিষ্ঠান হাই পয়েন্ট ইউনিভার্সিটি। এখানে ব্যবসায় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা এবং জীববিজ্ঞানসংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে শিক্ষাবেতন মওকুফের সুযোগ রয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, বিনা বেতনে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ার সুবিধাটি মূলত ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য। পাশাপাশি নির্দিষ্ট আবাসিক শর্তও রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি স্নাতক শেষ করে আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সাধারণ উন্মুক্ত বৃত্তি নয়।
ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠান বেলহেভেন ইউনিভার্সিটি। এখানে ব্যবসা, শিক্ষা, তথ্যবিজ্ঞান, নেতৃত্ব, জনপ্রশাসন এবং স্বাস্থ্যসেবাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনলাইন স্নাতকোত্তর শিক্ষার জন্য পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ রয়েছে। তবে এ সুযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করে পড়াশোনা করতে হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একই ধরনের সুযোগ নয়।
সপ্তম প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডকোয়ান্ট ইউনিভার্সিটি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি তালিকার অন্যতম আকর্ষণীয় সুযোগ। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রকৌশল বিষয়ে দুই বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পূর্ণ বিনা বেতনে অনলাইনে করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদনের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি, পরিমাণগত দক্ষতার পরীক্ষায় নির্ধারিত নম্বর এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ঘণ্টা পড়াশোনার জন্য সময় দিতে হয়।

বাকি দশটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি, ব্রাউন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম, ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক স্কুল, ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেন, ব্র্যান্ডাইস ইউনিভার্সিটি এবং সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটি।

সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের বিভিন্ন কলেজ ও বিভাগে এক হাজারের বেশি বৃত্তি, পুরস্কার এবং আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন শিক্ষার্থী কী পরিমাণ সহায়তা পাবেন, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কলেজ, বিষয় এবং বৃত্তির যোগ্যতার ওপর।
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে জননীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ কিছু স্নাতকোত্তর শিক্ষাক্রমে সম্পূর্ণ শিক্ষাবেতন ও বাধ্যতামূলক ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জনবিষয়ক প্রশাসন এবং জননীতির শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পেতে পারেন। অন্য শিক্ষাক্রমের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে মেধা, আর্থিক প্রয়োজন এবং নির্দিষ্ট শিক্ষাক্রমের ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে নগরভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ে বিশেষ বৃত্তির সুযোগ রয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ শিক্ষাবেতন মওকুফ পেতে পারেন। তবে এ বৃত্তির বিনিময়ে স্নাতক শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময় স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার শর্ত রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি, গবেষণা সহকারী এবং শিক্ষকতা সহকারীর সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় সব পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য একই সুবিধা নিশ্চিত নয়। বিষয় ও বিভাগ অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা ভিন্ন হতে পারে।

ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন গবেষণা অনুদান, বৃত্তি এবং বিশেষ শিক্ষাক্রমভিত্তিক আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ থাকলেও সেটি সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত নয়।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির নাইট-হেনেসি স্কলারস কর্মসূচি তালিকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় আর্থিক সহায়তাগুলোর একটি। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত শিক্ষাবেতন, আবাসন ও জীবনযাত্রার জন্য অর্থ, শিক্ষা উপকরণের খরচ এবং বছরে একবার যাতায়াতের জন্য সহায়তা পেতে পারেন। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও যোগ্যতা পূরণ করে আবেদন করতে পারেন। তবে এটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি। শুধু স্ট্যানফোর্ডে ভর্তি হলেই এই সুবিধা পাওয়া যায় না। আলাদা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সফল হতে হয়।
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক স্কুলে মেধা ও আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিভিন্ন বৃত্তি দেওয়া হয়। কিছু বিশেষ বৃত্তির মাধ্যমে প্রথম বছরের শিক্ষাবেতনের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সুযোগ রয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রথমটি হলো প্রভোস্টের সহকারী কর্মসূচি। এতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় গবেষণা বা শিক্ষকতাসংশ্লিষ্ট কাজে সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা সময় দিয়ে শিক্ষাবেতনের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা এবং ঘণ্টাভিত্তিক পারিশ্রমিক পেতে পারেন। দ্বিতীয়টি হলো ডিনের বৃত্তি, যেখানে শিক্ষাবেতনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া সম্ভব।
ব্র্যান্ডাইস ইউনিভার্সিটিতে মেধাভিত্তিক ও আর্থিক প্রয়োজনভিত্তিক বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বিশেষ মেধাবৃত্তির মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত শিক্ষাব্যয় কমিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সমপর্যায়ের শিক্ষাব্যয় পরিশোধের সুযোগ পেতে পারেন। পাশাপাশি গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারী হিসেবেও কাজের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এসব সুযোগ কাজে লাগাতে হলে শুরুতেই কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। প্রথমত, নিজের স্নাতক পর্যায়ের ফলাফল, পছন্দের বিষয় এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত লক্ষ্য অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখে আবেদন করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ওয়েবসাইটে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। সাধারণত স্নাতক পর্যায়ের নম্বরপত্র, সনদ, শিক্ষকদের সুপারিশপত্র, উদ্দেশ্য ব্যাখ্যামূলক বিবরণী, জীবনবৃত্তান্ত এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার পরীক্ষার ফল প্রয়োজন হতে পারে। কোনো কোনো বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফল বা গবেষণার অভিজ্ঞতাও চাওয়া হয়।
তৃতীয়ত, আবেদনের সময়সীমার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শসেবা এডুকেশনইউএসএ জানিয়েছে, কিছু বৃত্তি ও অনুদানের আবেদন শিক্ষাক্রম শুরু হওয়ার প্রায় ১৮ মাস আগেও শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই শেষ মুহূর্তে আবেদন না করে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
চতুর্থত, বৃত্তি পাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিকল্পনা করতে হবে। শিক্ষাবেতন মওকুফ হলেও আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা, বই, যাতায়াত এবং ব্যক্তিগত খরচ বহন করতে হতে পারে। এ ছাড়া শিক্ষার্থী ভিসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ করে নিউইয়র্কের মতো ব্যয়বহুল শহরে পড়তে গেলে শুধু শিক্ষাবেতন মওকুফের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক কম ব্যয়ের অঞ্চলগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করলে সামগ্রিক খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এডুকেশনইউএসএ শিক্ষার্থীদের শিক্ষকতা সহকারী ও গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজের সুযোগ খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছে। এসব দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবেতন মওকুফের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থও দিয়ে থাকে। তবে এ ধরনের সুযোগ সব বিষয়ে বা সব শিক্ষার্থীর জন্য নিশ্চিত নয়।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১৭টি প্রতিষ্ঠানের তালিকাটি সম্ভাবনাময় হলেও একে ১৭টি সম্পূর্ণ বিনা খরচের শিক্ষার সুযোগ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিশেষ করে ওয়ার্ল্ডকোয়ান্ট ইউনিভার্সিটির আর্থিক প্রকৌশল কর্মসূচি, কার্টিস ইনস্টিটিউটের সংগীতশিক্ষা এবং স্ট্যানফোর্ডের নাইট-হেনেসি বৃত্তি যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।

শিক্ষার্থীদের উচিত আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে শিক্ষাব্যয়, বৃত্তির শর্ত, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা এবং আবেদনের শেষ তারিখ যাচাই করা। সঠিক পরিকল্পনা ও যোগ্যতা থাকলে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় না করেও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি হতে পারে।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষাবাংলাদেশি শিক্ষার্থীবিদেশে পড়াশোনাস্নাতকোত্তর বৃত্তিবিনা বেতনে পড়াশোনাযুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীবিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগশিক্ষাবৃত্তিবিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।