অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে জিনিসপত্রের বাড়তি দামে অসন্তুষ্ট ভোটাররা, নির্বাচনে পড়তে পারে প্রভাব
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি ও বাড়িভাড়ার বাড়তি খরচে চাপে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন অনেক ভোটার। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, জ্বালানি খরচ, বাড়িভাড়া ও ঋণের সুদের চাপ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এসব বিষয় ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও রাজনীতি বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। অনেক ভোটার মনে করছেন, আয় বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে কেনাকাটা, গাড়িতে জ্বালানি নেওয়া, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য বিল পরিশোধ করতে গিয়ে পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে এপি-নরক পরিচালিত একটি জাতীয় জরিপেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। গত ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পরিচালিত ওই জরিপে ৮৫ শতাংশ ভোটার বলেছেন, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অর্থনীতি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যদিকে ৮৪ শতাংশ ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয়কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৮ জন ভোটারের কাছে অর্থনীতি ও দ্রব্যমূল্য এবারের নির্বাচনের বড় বিবেচ্য বিষয়। জরিপে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনা নিয়ে অনেক ভোটার অসন্তুষ্ট। প্রায় ৭৪ শতাংশ ভোটার অর্থনীতি পরিচালনায় তাঁর ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাঁর পদক্ষেপ নিয়েও প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোটার অসন্তুষ্ট বলে জরিপে উঠে এসেছে।এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পরিচালিত আরেকটি জরিপে দেখা যায়, ৬৫ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, দ্রব্যমূল্য বেশি থাকার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির দায় রয়েছে। বিশেষ করে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে সব ভোটারের মত এক নয়। অনেক রিপাবলিকান ভোটার মনে করেন, মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণও রয়েছে।
অর্থনীতির চিত্র অবশ্য পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। পাশাপাশি গত প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি বার্ষিক হিসাবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বেড়েছে। শেয়ারবাজারেও ভালো অবস্থান দেখা গেছে। অর্থাৎ, অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচক ভালো থাকলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের চাপ কমেনি।
মানুষের আয় ও পণ্যের দামের পরিবর্তন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোগ্যপণ্যের দাম এবং কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি—দুটিই প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে মানুষের কেনাকাটার ক্ষমতায় বড় কোনো উন্নতি হয়নি। অর্থাৎ, বেতন বাড়লেও সেই বাড়তি টাকা দিয়ে আগের চেয়ে বেশি পণ্য বা সেবা কেনার সুযোগ তৈরি হয়নি।
বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও মানুষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের গৃহঋণের সুদের হার ৭ শতাংশের ওপরে ওঠায় অনেক পরিবারের পক্ষে বাড়ি কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বাড়ির সরবরাহ কম থাকায় দামও বেশি রয়েছে। ফলে নতুন বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন এমন মানুষদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কংগ্রেসের দুই কক্ষ। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চায়। নির্বাচনে ভোটাররা শুধু প্রার্থীদের নয়, বর্তমান সরকারের অর্থনীতি পরিচালনা এবং জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকেও বিবেচনায় নিতে পারেন।
অর্থনীতি ভালো আছে কি না, সেটি শুধু সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বা শেয়ারবাজারের অবস্থা দিয়ে বোঝা যায় না। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন বাজারে কত টাকা খরচ করছেন, জ্বালানি কিনতে কত ব্যয় হচ্ছে এবং মাস শেষে পরিবারের হাতে কত টাকা থাকছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই অর্থনীতির কিছু সূচক ভালো থাকার পরও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি খরচ, বাড়িভাড়া ও অর্থনীতি নিয়ে মানুষের অসন্তোষ বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এই অসন্তোষ নির্বাচনের ফলাফলে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে, তা ভোট গণনার পরই বোঝা যাবে।

নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

নির্বাচনের আগে লাখ লাখ ভোটের কাগজ পৌঁছে দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় কোন দল বেশি আসন পাবে, তা ঠিক করবে মধ্যবর্তী নির্বাচন




মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।