স্কুলে যাওয়ার পথেই গুলিতে প্রাণ গেল ১৫ বছরের কিশোরের, মায়ের শেষ বিদায়ের জন্য ভিসা দিতে রাজি ট্রাম্প
নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ঘানা থেকে নিউইয়র্কে এসেছিল কিশোর জাভিটস। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার পথেই গুলিতে থেমে গেল তার জীবন। ছেলেকে শেষবার দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চান তার মা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১৫ বছর বয়সী অভিবাসী কিশোর জাভিটস ফ্রিমপং। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা মা যুক্তরাষ্ট্রে এসে শেষবারের মতো সন্তানকে দেখতে চান। তাঁর সেই আকুতিতে সাড়া দিয়ে ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন তথ্য জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) মেয়র মামদানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তিনি জানতে পেরেছেন, জাভিটসের মাকে দ্রুত ভিসা দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প সম্মত হয়েছেন।
জাভিটস বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার কিছু আগে ব্রঙ্কসের একটি এলাকায় স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়। তার পেটে গুলি লাগে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
জাভিটস প্রায় এক বছর আগে ঘানা থেকে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে এসেছিল। বাবার সঙ্গে বসবাস এবং নতুন জীবন শুরু করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন পূরণের আগেই ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হলো সে।
তার বাবা থমাস ফ্রিমপং সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ছেলের স্কুলে কয়েকজন শিক্ষার্থীর হয়রানির বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছিলেন। স্কুলের অধ্যক্ষ তাঁকে জানিয়েছিলেন, দুই শিক্ষার্থী জাভিটসকে বিরক্ত করছিল এবং তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
ছেলের সঙ্গে কথা বলার পর বাবা আশ্বস্ত হয়েছিলেন। জাভিটসও তাঁকে জানিয়েছিল, সে ভালো আছে।কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই পরিবারের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়।
মেয়র মামদানি বলেছেন, সন্তান হারানোর এই যন্ত্রণা কোনো মা-বাবারই সহ্য করার কথা নয়। বিশেষ করে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকে সন্তানের শেষ বিদায় জানাতে না পারা আরও বেদনাদায়ক।
তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে জাভিটসের মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে আসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন।তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত হোয়াইট হাউস ভিসা দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
এদিকে ব্রঙ্কসের কংগ্রেস সদস্য রিচি টরেস এই হত্যাকাণ্ডে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রতিটি শিশুর নিরাপদে স্কুলে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো অভিভাবককে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে এমন আতঙ্কে থাকতে হওয়া উচিত নয়।
ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যাম ওকুদজেতো আবলাকওয়া জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে ঘানার কর্মকর্তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
একটি পরিবারের কাছে এই ঘটনা শুধু একজন সন্তান হারানোর শোক নয়; এটি অভিবাসী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, স্কুলে শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং শিশুদের সুরক্ষা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।জাভিটসের মা যেন অন্তত শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখতে পারেন—এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা সেটিই।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।