অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে কাল মধ্যবর্তী নির্বাচন, আগাম ভোট দিয়েছেন ৫ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় নির্বাচনী লড়াইয়ের শেষ মুহূর্ত চলছে। আগামীকাল ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন। এরই মধ্যে ৫ কোটি ৪০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই প্রধান দলের মধ্যে চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক—দুই দলই শেষ মুহূর্তে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে ৫ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন। ফলে নির্বাচনের আগেই বিপুলসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয়ের চেষ্টা করছে। আলাস্কা, কানসাস, টেক্সাস, নর্থ ক্যারোলাইনা ও মিশিগানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলো নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইওয়া ও কানসাসে জনসভা করেছেন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলের বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও জর্জিয়ায় ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জন অসফের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। দুই দলের নেতারাই তরুণ ভোটার এবং সাধারণ পরিবারের সমর্থন পেতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, অভিবাসননীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের জন্যও নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণ—সব ক্ষেত্রেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত অভিবাসী পরিবার, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হতে পারে।
আগামীকালের ভোটের ফল যুক্তরাষ্ট্রের আগামী দিনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং প্রেসিডেন্টের বাকি মেয়াদের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

টেক্সাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের সর্বকালের রেকর্ড ভাঙল, ভোটার সাত দশমিক সাত মিলিয়ন ছাড়াল

ট্রাম্পের রাতের ফোনে ঘুম হারাম, অনুকরণ করে হাসালেন স্পিকার মাইক জনসন

ট্রাম্পের প্রশংসা, ডেমোক্র্যাট শিবিরে বিদ্রোহ; দলীয় প্রার্থীকে বাদ দিয়ে প্রতিপক্ষের পাশে হ্যালি স্টিভেন্স






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।