প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ছয়টি স্বর্ণের ডিম জব্দ, চোরাচালান চক্রের সন্ধানে গোয়েন্দারা
ঢাকায় পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ছয়টি স্বর্ণের ডিম জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দারা, তদন্ত চলছে।
প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণের ছয়টি বিশেষ আকৃতির ডিম জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দ করা স্বর্ণের মোট ওজন ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পৃথক দুটি অভিযানে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১২৭ ফ্লাইটের এক যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
ওই যাত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম ওজনের তিনটি স্বর্ণের ডিম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের পরিমাণ ও মূল্য বিবেচনায় ঘটনাটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, একই অভিযানের ধারাবাহিকতায় বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় ফেলে রাখা আরও তিনটি স্বর্ণের ডিম জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এসব স্বর্ণের ওজনও ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম। ফলে পৃথক দুটি ঘটনায় মোট ছয়টি স্বর্ণের ডিম উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, স্বর্ণের ডিমগুলো আগে আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। তবে দেশের বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেগুলো আবার আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, স্বর্ণগুলো কীভাবে দেশে আনা হয়েছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলো আবার বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র কাজ করছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ, স্বর্ণের প্রকৃত উৎস এবং এর আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশে স্বর্ণের চোরাচালান প্রতিরোধে বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাত্রীদের মাধ্যমে স্বর্ণ পরিবহনের চেষ্টা ঠেকাতে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আসা এবং বিদেশগামী যাত্রীদের চলাচলের ক্ষেত্রে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা হয়।
এ ঘটনায় জব্দ করা স্বর্ণের পরিমাণ ও বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি সম্ভাব্য চোরাচালান নেটওয়ার্ক শনাক্তের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সম্ভাব্য চোরাচালান চক্র এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তদন্তের মাধ্যমে স্বর্ণের মালিকানা, পরিবহনের উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়ার কথা।
প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের এই স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা আবারও দেশের বিমানবন্দরগুলোতে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার পেছনে থাকা পুরো চক্রের পরিচয় ও কার্যক্রম প্রকাশ পায় কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।