অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটসংক্রান্ত তদন্ত ও আইনি কার্যক্রমে সরাসরি ভূমিকা বাড়িয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির বিচার বিভাগ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা, ভোট দেওয়ার যোগ্যতা এবং নির্বাচনের নিয়ম নিয়ে তদন্ত ও মামলা পরিচালনা করছে। এসব পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ২ নভেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়া ও আলাস্কাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের ভোটসংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা এবং ভোটার তালিকার সঠিকতা নিশ্চিত করতেই এসব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট আলাদা করে রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল বিচার বিভাগ। প্রশাসনের সন্দেহ, এসব ভোটারের মধ্যে এমন ব্যক্তি থাকতে পারেন, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। তবে রাজ্য কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য, ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে আবেদন করেও সুবিধা করতে পারেনি ট্রাম্প প্রশাসন। আদালত ভোটারদের ব্যালট আলাদা করে রাখার আবেদন গ্রহণ করেনি। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্তের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আলাস্কাতেও ভোটসংক্রান্ত আরেকটি বিরোধ তৈরি হয়েছে। সেখানে একই নামের দুই প্রার্থী সিনেট নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে দাবি করেছে বিচার বিভাগ। এ কারণে কোনো একটি প্রার্থী হেরে গেলে নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছে। পরে বিচার বিভাগ এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। শুধু মামলা নয়, ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও প্রশাসনের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কাছে ভোটার তালিকার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিল বিচার বিভাগ। এসব তথ্যের মধ্যে ভোটারদের ঠিকানা, জন্মতারিখ, গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্রের নম্বর এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের আংশিক তথ্যও রয়েছে।
প্রশাসনের যুক্তি, ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং নির্বাচনী আইন ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে এসব তথ্য প্রয়োজন। তবে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এ নিয়ে একাধিক মামলায় আদালত বিচার বিভাগের দাবির পক্ষে রায় দেয়নি। অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে ভোটার জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত ও মামলা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এমন কেউ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে ভোট দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে অতীতের বিভিন্ন তদন্তে ব্যাপক হারে অযোগ্য ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তা ও ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের আশঙ্কা, নির্বাচনের ঠিক আগে এ ধরনের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচন পরিচালনার কাজে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনী আইন কার্যকর করা এবং ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের কারণে নির্বাচনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর। কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচনী আইন প্রয়োগ ও ভোটাধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেই ক্ষমতার সীমা কতটুকু, তা নিয়েও আইনি বিতর্ক রয়েছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এসব মামলা, তদন্ত ও ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের ফলাফল এবং ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে শেষ পর্যন্ত এসব আইনি বিরোধ কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, সেদিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচনের আগে লাখ লাখ ভোটের কাগজ পৌঁছে দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রে জিনিসপত্রের বাড়তি দামে অসন্তুষ্ট ভোটাররা, নির্বাচনে পড়তে পারে প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় কোন দল বেশি আসন পাবে, তা ঠিক করবে মধ্যবর্তী নির্বাচন




মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।