প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
শুধু ডিগ্রি ও জিপিএ-৫ নয়, গবেষণা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তায় তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
মেধাভিত্তিক ও জ্ঞানসমৃদ্ধ সমাজ গঠনে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে হবে।
সোমবার দুপুরে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবনী গবেষণা এবং মেধাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কল্যাণে জনহিতকর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হওয়া উচিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে জনগণ’। দেশ বলতে শুধু ভূখণ্ড কিংবা জাতীয় পতাকাকে বোঝায় না; দেশের মানুষের অধিকার, অংশগ্রহণ ও মালিকানাবোধও এর সঙ্গে জড়িত।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শহীদ নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ বিভিন্ন ছাত্রনেতার প্রচেষ্টা এবং তৎকালীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইচ্ছায় ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের মেয়াদে ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়।
তিনি জানান, বর্তমান ক্যাম্পাসের পাশাপাশি কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর আধুনিক আবাসিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া পূরণের বিষয়েও সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু সনদ কিংবা জিপিএ-৫ অর্জন করলেই একটি জাতি উন্নত হতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন, গবেষণার সুযোগ এবং বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জন। বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু চাকরিপ্রার্থী তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে চলবে না; এগুলোকে মুক্তবুদ্ধির চর্চা, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং উচ্চতর গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সবাইকে সাধারণ শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের দিকে না ছুটে আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তিতে পরিণত হতে হবে। শিক্ষিত বেকারত্ব কমাতে কর্মমুখী শিক্ষা এবং বাস্তব দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই।
বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে নতুন ধারণা, প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও দেশপ্রেম ধারণ করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।