অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
নির্বাচনের আগে লাখ লাখ ভোটের কাগজ পৌঁছে দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে লাখ লাখ ভোটপত্র সময়মতো পৌঁছে দিতে অতিরিক্ত কর্মী, বিশেষ কাউন্টার ও দ্রুত ডাক সরবরাহের ব্যবস্থা নিয়েছে ডাক বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডাকযোগে পাঠানো লাখ লাখ ভোটপত্র সময়মতো পৌঁছে দিতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির ডাক বিভাগ। ভোটারদের কাছে ব্যালট পৌঁছানো এবং ভোটারদের পাঠানো ব্যালট নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হাতে সময়মতো পৌঁছে দিতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন রাজনৈতিক দলের হাতে থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে। ফলে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যেও ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ভোটপত্র দ্রুত পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগ কর্মীদের কাজের সময় বাড়িয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ, দ্রুত ডাক বাছাই, বিশেষ সংগ্রহ এবং অতিরিক্ত সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু ডাকঘরে ভোটপত্রের জন্য আলাদা কাউন্টারও চালু করা হয়েছে।
ডাক বিভাগের কর্মীরা শুধু সাধারণ ডাক সরবরাহের ওপর নির্ভর করছেন না। নির্বাচনের আগে যেসব ভোটপত্র এখনো ডাকঘর বা বাছাই কেন্দ্রে পড়ে রয়েছে, সেগুলো খুঁজে বের করতে বিশেষ তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কোনো কোনো ডাককেন্দ্রে প্রতিদিন একাধিকবার এসব ভোটপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো খাম বাদ না পড়ে। এ ছাড়া নির্বাচনের শেষ সময়ে অতিরিক্ত গাড়ি ও কর্মী ব্যবহার করে ভোটপত্র সংগ্রহ এবং পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ডাক বিভাগের কর্মীরা সরাসরি নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে ভোটপত্র পৌঁছে দেবেন। কিছু এলাকায় ভোটারদের জন্য বিশেষভাবে চিহ্নিত কাউন্টার এবং গাড়ি থেকে ভোটপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ডাক বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে তারা কয়েক কোটি ভোটপত্র সংগ্রহ ও সরবরাহ করেছে। একই সময়ে নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রচারণার জন্য পাঠানো প্রায় ৪২০ কোটি প্রচারপত্রও ডাক বিভাগের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। এসব প্রচারপত্রের মধ্যে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রচারণার কাগজ রয়েছে। তবে এই সংখ্যাকে ভোটপত্রের সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় ভোটপত্র নিরাপদে ও নিরপেক্ষভাবে পৌঁছে দেওয়া তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ কাজে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া হবে না। ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটপত্র সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এবারও একইভাবে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। ডাক বিভাগের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অ্যাম্বার ম্যাকরেনল্ডস জানিয়েছেন, ভোটপত্র সরবরাহের কাজে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় ভোটপত্র পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুধু ডাক বিভাগের সাধারণ দায়িত্ব নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গেও জড়িত।
তবে এবারের নির্বাচনে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই শুরু হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত নতুন নিয়ম কার্যকর করার পথে বাধা বহাল রাখে। ফলে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাক বিভাগ আগের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভোটপত্র সরবরাহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে ডাকযোগে ভোটের সময়সীমা নিয়ে ভোটারদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে ভোটপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম এক নয়। কোনো কোনো অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ডাকের খামের সিল গ্রহণযোগ্য হলে ভোট গণনায় আসতে পারে। আবার কিছু অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভোটপত্র নির্বাচনী কার্যালয়ে পৌঁছাতে হয়। তাই শুধু নির্বাচনের দিন ডাকযোগে ভোটপত্র পাঠালেই সেটি গণনা হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
এই পরিস্থিতিতে ডাক বিভাগ ভোটারদের যত দ্রুত সম্ভব ভোটপত্র পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব ভোটার ডাকযোগে ভোট দিতে চান, তাদের নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এদিকে ভোটপত্রের ডাকসংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য ডাক বিভাগ একটি বিশেষ অনলাইন ব্যবস্থাও চালু করেছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তারা ভোটপত্র সরবরাহ নিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ডাক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডাক বিভাগের মাধ্যমে ভোটার ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় ৯ কোটি ৯২ লাখ ভোটপত্র সরবরাহ করা হয়েছিল। এবারও বিপুলসংখ্যক ভোটপত্র সামলাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডাক বিভাগের এই বিশেষ উদ্যোগ ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে ভোটপত্র সময়মতো পৌঁছানোর পাশাপাশি ভোটারদেরও নিজেদের অঙ্গরাজ্যের নিয়ম মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট জমা দিতে হবে।







মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।