সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে ঝড়ের দাপট বাড়ার শঙ্কা, ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারিনিউইয়র্কে ব্যাটারির আগুনে মা ও তিন সন্তানের মৃত্যু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবাযুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের নতুন সেবা শিবির, ছুটি ও শিক্ষার্থীদের ঘটনায় বিজ্ঞপ্তিট্রাম্পের রাতের ফোনে ঘুম হারাম, অনুকরণ করে হাসালেন স্পিকার মাইক জনসনফ্লোরিডায় যাত্রীবাহী ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯ আরোহ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, শুরু পাঁচ দিনের বিশেষ মহড়া

ঢাকা সেনানিবাসে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের মহড়ায় দুই দেশের ১৩৮ সদস্য অংশ নিচ্ছেন; লক্ষ্য পরিচালনা, নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, শুরু পাঁচ দিনের বিশেষ মহড়া
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, শুরু পাঁচ দিনের বিশেষ মহড়া

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা ও বিমান পরিচালনায় পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পাঁচ দিনব্যাপী যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। ঢাকার সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কোপ সাউথ-২০২৬’। ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মহড়াটির উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা এবং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বীর উত্তম এ কে খন্দকার ঘাঁটিতে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের ১২০ জন বিমানবাহিনীর সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিমানবাহিনীর ১৮ জন সদস্য অংশ নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে দুই দেশের ১৩৮ জন সামরিক সদস্য এই যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন।

মহড়াটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এ কে খন্দকার ঘাঁটির অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল হায়দার আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপমিশনপ্রধান তৃষিতা মওলা।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নির্দেশনায় এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই মহড়া পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিমানবাহিনী মহড়াটিতে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং বিমান পরিচালনায় পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোই এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

মহড়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সি-১৩০জে এবং সি-১৩০বি সামরিক পরিবহন বিমানের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ। এসব বিমানের নিরাপদ ব্যবহার, কারিগরি ত্রুটি শনাক্তকরণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।

এ ছাড়া বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিপজ্জনক পদার্থ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সামরিক বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বিপজ্জনক পদার্থ পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মহড়ায় বিমান চলাচলসংক্রান্ত চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরবৃত্তীয় বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উচ্চতায় উড্ডয়ন, দীর্ঘ সময় বিমান পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালনের সময় বিমানসেনাদের শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মধ্যে পেশাগত জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ থাকবে।

আকাশপথে পণ্য পরিবহন ও মালামাল ব্যবস্থাপনাও মহড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামরিক পরিবহন বিমান ব্যবহার করে কীভাবে দ্রুত ও নিরাপদে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, খাদ্য, ওষুধ এবং ত্রাণসামগ্রী পরিবহন করা যায়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবিক সংকটের সময় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই দক্ষতা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া বিমানঘাঁটির প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বাহিনীর সদস্য ও স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। কোনো বিমানঘাঁটি বা সামরিক স্থাপনায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হলে কীভাবে তা মোকাবিলা করতে হয়, সে বিষয়ে দুই দেশের সদস্যরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।

বিমান দুর্ঘটনার সময় অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রমও এই মহড়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্ঘটনাকবলিত বিমানে আগুন লাগলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, এই যৌথ প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবিক জরুরি পরিস্থিতিতে দুই দেশের বিমানবাহিনীর সমন্বিত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে দুর্যোগের সময় জরুরি সরঞ্জাম ও ত্রাণসামগ্রী পরিবহন, উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় সামরিক পরিবহন বিমানের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, চরাঞ্চল, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা কিংবা বন্যাকবলিত অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আকাশপথে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দক্ষ বিমানসেনা, কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিধস কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সামরিক পরিবহন বিমান কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ফলে এই মহড়ায় অর্জিত অভিজ্ঞতা শুধু সামরিক কার্যক্রমের জন্য নয়, ভবিষ্যতে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে যৌথ প্রশিক্ষণ নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগেও দুই দেশের বিমানবাহিনী ‘কোপ সাউথ’ নামে যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছে। ২০২৪ সালের মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০ জন সামরিক সদস্য এবং দুটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান অংশ নিয়েছিল। সেই প্রশিক্ষণে বিমান পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, আকাশপথে মালামাল সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়েছিল।

এবারের মহড়ায় দুই দেশের মোট ১৩৮ জন সদস্যের অংশগ্রহণ পেশাগত সহযোগিতার ধারাবাহিকতা তুলে ধরছে। তবে এই আয়োজনকে কোনো যুদ্ধ প্রস্তুতি বা নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করার মতো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মহড়াটির মূল গুরুত্ব বিমান পরিচালনার দক্ষতা, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছে এ ধরনের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব রয়েছে মূলত বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দুই বাহিনীর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় তৈরির ক্ষেত্রে। ভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিলে তাদের কাজের পদ্ধতি, নিরাপত্তাবিধি এবং কারিগরি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি হয়।

‘কোপ সাউথ-২০২৬’ বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর পেশাগত দক্ষতা, সামরিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পাঁচ দিনের এই প্রশিক্ষণ শেষে দুই দেশের সদস্যদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে কতটা কাজে লাগে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


ট্যাগ: বাংলাদেশযুক্তরাষ্ট্রযৌথ সামরিক মহড়াকোপ সাউথ ২০২৬বাংলাদেশ বিমানবাহিনীমার্কিন বিমানবাহিনীঢাকা সেনানিবাসসামরিক সহযোগিতাবিমান নিরাপত্তাদুর্যোগ মোকাবিলা

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।