আফগানদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল আফগানিস্তানের শাসকগোষ্ঠী
যুক্তরাষ্ট্রে আটক আফগান অভিবাসীদের পাকিস্তান হয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনায় উদ্বেগ জানিয়েছে তালেবান সরকার। নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে আটক আফগান অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ও সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে আফগান নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কথা বলেছে তারা। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র কিছু আফগান নাগরিককে পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে তারা জানতে পেরেছে। এসব আফগান নাগরিক এখনো পাকিস্তানে বৈধভাবে থাকার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাননি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালেবান সরকারের দাবি, বিশ্বের যেখানেই আফগান নাগরিকরা থাকুন না কেন, তাদের অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি। তাই তাদের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে পরিষ্কার বোঝাপড়া ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় থাকা উচিত। তালেবান সরকার আরও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানে তারা প্রস্তুত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দেশটিতে আটক কিছু আফগান অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে জমা দেওয়া নথির তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। নথি অনুযায়ী, লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্য থেকে একটি বিশেষ উড়োজাহাজে করে আফগান নাগরিকদের প্রথমে পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরে সেখান থেকে তাদের আফগানিস্তানে নেওয়া হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবান সরকারের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় সরাসরি আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা কঠিন। এ কারণে পাকিস্তানকে মধ্যবর্তী দেশ হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
১৫০ জনের বেশি আফগান অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে। তবে এই সংখ্যা এবং পুরো কার্যক্রম সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভবিষ্যৎ ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এই পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আফগানদের সহায়তাকারী সংগঠন উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দেশে ফেরত পাঠানো হলে কিছু আফগান নাগরিক তালেবান সরকারের অধীনে নির্যাতন, আটক বা প্রতিশোধের শিকার হতে পারেন।
যারা আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেশি। ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর অনেক আফগান প্রাণের ভয়ে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে সাবেক মার্কিন সহযোগীদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, আদালতে জমা দেওয়া নথিতে অন্তত দুই আফগান নাগরিককে পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের মধ্যে কারও দেশে ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
আফগানদের সহায়তায় কাজ করা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, যেসব ব্যক্তি আগে মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরত পাঠানো হলে তারা বিশেষ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। এ কারণে সংগঠনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে পরিকল্পনাটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তালেবান সরকারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো তৃতীয় দেশ যেন সাময়িক সুবিধা বা অন্য কোনো স্বার্থের বিনিময়ে অন্য দেশের নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দর-কষাকষি না করে। মানুষের অধিকার ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান সরকারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে তালেবান সরকার নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পুরো কার্যক্রমের বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে কতজন আফগানকে শেষ পর্যন্ত ফেরত পাঠানো হবে এবং তাদের প্রত্যাবর্তনের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।