অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে ২০ হাজার ভোট গণনা বন্ধ রাখতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করল ট্রাম্প প্রশাসন
নির্বাচনের ঠিক আগে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার ডাকযোগে দেওয়া ভোটের গণনা আটকে রাখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২০ হাজার ডাকযোগে দেওয়া ভোটের গণনা আটকে রাখার আবেদন করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এসব ভোট আলাদা করে রাখার দাবি জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।সোমবার, ২ নভেম্বর, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের কাছে জরুরি আবেদন জানায়। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই আবেদন করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় এমন প্রায় ২০ হাজার মানুষের নাম রয়েছে, যাঁদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ আছে। তাঁদের নামে ডাকযোগে ভোট পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রশাসন চায়, এসব ভোট গণনার সময় অন্য ভোট থেকে আলাদা রাখা হোক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক কি না, তা যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ভোটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিচার বিভাগ।
তবে বিষয়টি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ চলছে। অঙ্গরাজ্যটির কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া ২০ হাজার মানুষের তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তালিকায় এমন অনেক মানুষের নাম থাকতে পারে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। কেউ জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক, আবার কেউ বৈধভাবে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ভুল তথ্যের কারণে তাঁদের ভোট আটকে গেলে বৈধ ভোটাররাও ভোট দেওয়ার অধিকার হারাতে পারেন।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কেন্দ্রীয় আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন নাকচ করে দেন। আদালতের বিচারক ডেভিড কার্টার বলেন, শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে হাজার হাজার ভোট আলাদা করে রাখা হলে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য সরকারের তৈরি তালিকার পদ্ধতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আদালতে যাওয়ার চেষ্টা করে। ২৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নবম আপিল আদালতও জরুরি ভিত্তিতে ভোটগুলো আটকে রাখার আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালতের বিচারকদের মতে, নিম্ন আদালতকে যথেষ্ট সময় না দিয়েই কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনের কার্যক্রম চলার সময় এত বিপুলসংখ্যক ভোট আলাদা করে যাচাই করা কঠিন। তাঁদের আশঙ্কা, ভুল তথ্যের কারণে বৈধ ভোটারদের ভোটও গণনার বাইরে চলে যেতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে শুধু দেশটির নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, তাঁদের ভোট গণনার আগে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলেই কাউকে ভোট দেওয়ার অযোগ্য বলা যায় না। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। তাঁদের জন্য ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে লাখ লাখ ভোট জমা পড়েছে এবং সেগুলোর গণনার প্রস্তুতিও চলছে। এখন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আবেদন কীভাবে বিবেচনা করে, সেদিকেই নজর রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার ভোটের ভবিষ্যৎ নির্ভর করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এসব ভোট বাতিল হয়ে গেছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

নির্বাচনের আগের দিন ওয়াশিংটনের জলাধারে বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিলেন ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাট দলের নেত্রী হয়েও রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দিলেন হেইলি স্টিভেন্স

নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন




মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।