সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে কাল মধ্যবর্তী নির্বাচন, আগাম ভোট দিয়েছেন ৫ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরটেক্সাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের সর্বকালের রেকর্ড ভাঙল, ভোটার সাত দশমিক সাত মিলিয়ন ছাড়ালযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে ঝড়ের দাপট বাড়ার শঙ্কা, ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারিনিউইয়র্কে ব্যাটারির আগুনে মা ও তিন সন্তানের মৃত্যু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

ডেমোক্র্যাট দলের নেত্রী হয়েও রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দিলেন হেইলি স্টিভেন্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দলের প্রার্থীকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন জানালেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। তাঁর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলের নেতারা।

রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে হেইলি স্টিভেন্স।
রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে হেইলি স্টিভেন্স।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। নিজ দলের প্রার্থীকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান দলের এক প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স। তাঁর এই সিদ্ধান্তে ডেমোক্র্যাট দলের নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে হেইলি স্টিভেন্স রিপাবলিকান দলের সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। মিশিগানে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট আসনের জন্য মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ।

হেইলি স্টিভেন্স এর আগে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এমনকি নির্বাচনের কয়েক দিন আগেও তিনি বলেছিলেন, নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষেই ভোট দেবেন। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে দাঁড়ান তিনি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বিরোধ কাজ করেছে। বিশেষ করে ইসরায়েল নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য এবং একটি প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়।হেইলি স্টিভেন্সের অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপনে যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে আবদুল এল-সায়েদের কাছে বিজ্ঞাপনটির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তবে আবদুল এল-সায়েদের প্রচারশিবির জানিয়েছে, ওই বিজ্ঞাপনটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারশিবির তৈরি করেনি এবং বিজ্ঞাপনের বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর প্রচারশিবিরের কোনো সম্পর্ক নেই। এল-সায়েদও বিজ্ঞাপনটির বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন বলে জানিয়েছেন।এ ছাড়া ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত অনলাইন আলোচক হাসান পিকারের সঙ্গে আবদুল এল-সায়েদের আগের নির্বাচনী প্রচারেও আপত্তি জানিয়েছিলেন হেইলি স্টিভেন্স। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রচারে ঘৃণা ছড়ানো বা কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করা উচিত নয়।

রোববার নিজের সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে হেইলি স্টিভেন্স বলেন, আবদুল এল-সায়েদ তাঁকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারে অংশ না নিতে বলেছেন। তাই তিনি আর তাঁর প্রচারশিবিরের অংশ নন। এ কারণেই মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে হেইলি স্টিভেন্স জানিয়েছেন, তিনি এখনো ডেমোক্র্যাট দলের একজন গর্বিত সদস্য। অর্থাৎ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দিলেও তিনি নিজে দল পরিবর্তনের ঘোষণা দেননি।

তাঁর এই সিদ্ধান্তের পর ডেমোক্র্যাট দলের নেতারা প্রকাশ্যে সমালোচনা শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার তাঁর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, ডেমোক্র্যাট দলের নেতারা আবদুল এল-সায়েদের পাশে রয়েছেন। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলের নেতারাও হেইলি স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজ দলের প্রার্থীর পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া দলের ঐক্যের জন্য বড় ধাক্কা।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হেইলি স্টিভেন্সের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি তাঁর প্রশংসা করেন। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রচারশিবিরও এই সমর্থনকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। হেইলি স্টিভেন্স এর আগে মিশিগানে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসেবে সিনেট নির্বাচনের মনোনয়ন পেতে আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। পরে এল-সায়েদ দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন।

মিশিগানের এই সিনেট নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি। আগামী ৩ নভেম্বর ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে হেইলি স্টিভেন্সের এই অবস্থান পরিবর্তন মিশিগানের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নির্বাচনে তাঁর এই সমর্থন কতটা প্রভাব ফেলে, তা ভোটের ফল প্রকাশের পর বোঝা যাবে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রমার্কিননির্বাচনহেইলিস্টিভেন্সরাজনীতিমিশিগান

প্রতিবেদক

Mukti Dipita

INTERNATIONAL BROADCAST JOURNALIST

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।