জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপ তদন্তে দুই কর্মকর্তার মামলা খারিজ
হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপ তদন্ত নিয়ে দুই সাবেক এফবিআই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আলোচিত হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপ তদন্ত নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ ঘটনায় দুই সাবেক এফবিআই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। সোমবার, ২ নভেম্বর এই সিদ্ধান্ত দেন ওয়াশিংটনের ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক জিয়া ফারুকি। মামলার দুই সাবেক কর্মকর্তা হলেন নিকি ফ্লোরিস ও ব্র্যাডলি বেনাভিদেস। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপ এবং এ বিষয়ে এফবিআইয়ের তদন্ত সম্পর্কে তাঁরা ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির কাছে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। তবে বিচারক মনে করেছেন, তাঁরা জেনেশুনে মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন—এমন অভিযোগ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি সরকারি আইনজীবীরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক জিয়া ফারুকি মামলাটি প্রাথমিক পর্যায়েই খারিজ করে দেন। শুনানিতে তিনি সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিষয়েও কঠোর মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে মামলাটির পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন উঠে আসে।যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, নিকি ফ্লোরিস ও ব্র্যাডলি বেনাভিদেস দুজনই এফবিআইয়ের বিদেশি হস্তক্ষেপবিরোধী একটি বিশেষ দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বিদেশি শক্তির প্রভাব ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করত দলটি।
সরকারি অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০২৩ সালে কংগ্রেসের বিচারবিষয়ক কমিটির কাছে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁরা হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপ সম্পর্কে নিজেদের আগের জানা ও সংশ্লিষ্টতা কমিয়ে দেখিয়েছিলেন। অথচ তাঁদের দায়িত্ব পালনের সময় এ বিষয়ে এফবিআইয়ের ভেতরে বিভিন্ন আলোচনা হয়েছিল বলে সরকারি পক্ষ দাবি করে। এই অভিযোগের সূত্রপাত ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে। ২০১৯ সালে হান্টার বাইডেন ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের একটি কম্পিউটার মেরামতের দোকানে একটি ল্যাপটপ জমা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওই ল্যাপটপের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এতে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও বিদেশে ব্যবসায়িক যোগাযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর রিপাবলিকান দলের অনেক নেতা অভিযোগ করেছিলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনের আগে এফবিআই হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে বাধা দিয়েছিল। তাঁদের দাবি ছিল, এসব তথ্য প্রকাশিত হলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারতেন। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। অন্যদিকে, দুই সাবেক কর্মকর্তার আইনজীবীরা শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তাঁরা আদালতে মামলাটি বাতিলের আবেদনও জানিয়েছিলেন।
মামলাটি পরিচালনার পদ্ধতি নিয়েও বিচারকের আপত্তি ছিল। সরকারি পক্ষ প্রথমে সাধারণ ফৌজদারি অভিযোগের মাধ্যমে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। পরে নতুন একটি অভিযোগ যুক্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু বিচারকের অনুমোদন ছাড়াই নতুন অভিযোগ আদালতের নথিতে জমা দেওয়ায় তিনি সরকারি আইনজীবীদের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়নি। এই মামলার তদন্ত নিয়েও আদালতে প্রশ্ন ওঠে। শুনানিতে এফবিআইয়ের এক তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী নিরাপত্তাবিষয়ক বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর তদন্ত শুরু হয়েছিল। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল তদন্তটি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং নিয়মিত এর অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতেন বলে শুনানিতে তথ্য উঠে আসে।
তবে মামলা খারিজ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপ নিয়ে আগের সব বিতর্ক বা তদন্তের বিষয়গুলোও আদালত বাতিল করেছেন। এই সিদ্ধান্ত মূলত দুই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি মামলাকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ চাইলে গ্র্যান্ড জুরির মাধ্যমে নতুন করে অভিযোগ আনার চেষ্টা করতে পারে। গ্র্যান্ড জুরি হলো এমন একটি নাগরিক প্যানেল, যারা সরকারি পক্ষের উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা চালানোর মতো অভিযোগ আনার ভিত্তি আছে কি না, তা নির্ধারণ করে। মামলাটি খারিজের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে এই মামলা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বেড়েছে। এখন বিচার বিভাগ নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।