সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে কাল মধ্যবর্তী নির্বাচন, আগাম ভোট দিয়েছেন ৫ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরটেক্সাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের সর্বকালের রেকর্ড ভাঙল, ভোটার সাত দশমিক সাত মিলিয়ন ছাড়ালযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে ঝড়ের দাপট বাড়ার শঙ্কা, ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারিনিউইয়র্কে ব্যাটারির আগুনে মা ও তিন সন্তানের মৃত্যু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা

আদালতে মুক্তি পেয়েও আবার আটক হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশিরা

আদালতের নির্দেশে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও আবার আটক হচ্ছেন কিছু অভিবাসী। এমন অন্তত ২০টি ঘটনার তথ্য সামনে এনেছে নতুন এক প্রতিবেদন।

অভিবাসীকে গাড়িতে তোলার দৃশ্য।
অভিবাসীকে গাড়িতে তোলার দৃশ্য।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আদালতের নির্দেশে আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও আবার গ্রেপ্তার হচ্ছেন কিছু অভিবাসী। দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। আদালতে নিজেদের আটকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার পরও অনেককে দ্রুত আবার আটক করা হচ্ছে। এতে অভিবাসীদের আইনি অধিকার এবং আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত এক বছরে আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পর আবার আটক হয়েছেন, এমন অন্তত ২০টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। আদালতের নথি, আইনজীবীদের বক্তব্য এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের আটকের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

অনেক অভিবাসী তাঁদের আটককে বেআইনি দাবি করে ফেডারেল আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। আদালতে তাঁরা এমন আবেদন করছেন, যার মাধ্যমে সরকার কোনো ব্যক্তিকে আটকে রাখার আইনগত অধিকার রাখে কি না, তা বিচারক যাচাই করেন। এই আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তির মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, কিছু ক্ষেত্রে মুক্তির পরপরই আবার তাঁকে আটক করা হচ্ছে। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের কাছে একটি কেন্দ্রীয় সরকারি ভবনে এমন ঘটনা ঘটেছে। সেখানে আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পর সাতজন অভিবাসীকে ভবন থেকে বের হওয়ার আগেই আবার আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে অন্য আটককেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল।

মিনেসোটার আরেকটি ঘটনায় মিল্টন সালতোস ভেলাসকেস নামের এক অভিবাসীকে আদালতের নির্দেশে মুক্তি দেওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু ভবন থেকে বের হওয়ার আগেই তাঁকে আবার হাতকড়া পরিয়ে আটক করা হয়। পরে তাঁকে গাড়িতে তুলে অন্য একটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছিল। তাঁর আইনজীবী বিষয়টি বিচারককে জানান। এরপর বিচারক দ্রুত মুক্তির নির্দেশ দেন এবং তা কার্যকর না করলে সরকারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দেন। শেষ পর্যন্ত গাড়ি ঘুরিয়ে তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় কর্মকর্তারা। এ ধরনের ঘটনা শুধু মিনেসোটাতেই সীমাবদ্ধ নয়। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। ৭৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি আকরাম মাহমুদ ওমর আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার মাত্র ১০ দিনের মধ্যে আবার আটক হন। আটক থাকা অবস্থায় তাঁর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তাঁর আইনজীবীর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁকে আবার আটক করা হয়েছে।

এদিকে লুইজিয়ানার আরেকটি মামলায় ইব্রাহিম মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তিকে আইসিই তিনবার পুনরায় আটক করে। পরে একজন ফেডারেল বিচারক সরকারি অভিবাসন বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ওই ব্যক্তির মুক্তির নির্দেশ দেন। পেনসিলভানিয়া ও মিনেসোটার কয়েকজন বিচারকও একই ধরনের ঘটনায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন অথবা ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দিয়েছেন। অভিবাসীদের আটকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইও বেড়েছে। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার গবেষণার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, অভিবাসীরা আটক থেকে মুক্তি পেতে ফেডারেল আদালতে ৯১ হাজারের বেশি আবেদন করেছেন। গত ২৫ জানুয়ারির পর করা এসব আবেদনের সংখ্যা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদসহ আগের তিন প্রেসিডেন্টের পুরো মেয়াদে করা এ ধরনের আবেদনের মোট সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

আইনজীবীদের একটি অংশ মনে করছেন, তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসীদের পাঠানোর সরকারি উদ্যোগের সঙ্গেও কিছু পুনরায় আটকের ঘটনা জড়িত থাকতে পারে। যেসব অভিবাসীকে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না, তাঁদের অন্য দেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওই দেশের সঙ্গে অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বা পারিবারিক সম্পর্কও নেই। তবে সব পুনরায় আটকের ঘটনা এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, আইসিই সব বৈধ আদালতের নির্দেশ মেনে চলে। তবে কোনো অভিবাসীকে বিচারক মুক্তি দিলেই ভবিষ্যতে তাঁকে আর আটক করা যাবে না, এমন নয়। সরকারের বক্তব্য, আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন মেনে প্রয়োজনে আবার আটক করার সুযোগ রয়েছে।

আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পরও আবার আটকের এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আইনজীবীরা বলছেন, আদালতে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার পরও যদি অভিবাসীদের আবার আটক হতে হয়, তাহলে তাঁদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। বিশেষ করে যাঁদের আশ্রয়ের আবেদন বিচারাধীন, তাঁদের জন্য বিষয়টি আরও উদ্বেগের। এখন আদালতগুলো এসব পুনরায় আটকের ঘটনায় কী ধরনের সিদ্ধান্ত দেয় এবং আইসিইর কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকে নজর রাখছেন অভিবাসী ও তাঁদের আইনজীবীরা।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রঅভিবাসীঅভিবাসনআইসিইআদালত

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।