সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে ঝড়ের দাপট বাড়ার শঙ্কা, ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারিনিউইয়র্কে ব্যাটারির আগুনে মা ও তিন সন্তানের মৃত্যু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবাযুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের নতুন সেবা শিবির, ছুটি ও শিক্ষার্থীদের ঘটনায় বিজ্ঞপ্তিট্রাম্পের রাতের ফোনে ঘুম হারাম, অনুকরণ করে হাসালেন স্পিকার মাইক জনসনফ্লোরিডায় যাত্রীবাহী ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯ আরোহ

যুক্তরাষ্ট্রে ডিভি লটারি বন্ধই থাকছে, ট্রাম্পের পক্ষে আদালতের নতুন সিদ্ধান

যুক্তরাষ্ট্রের আপিল আদালতের নতুন আদেশে ২০২৭ সালের ডিভি লটারি আপাতত স্থগিত থাকছে, আবেদনপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা বাড়ছে, অনিশ্চয়তায় অভিবাসনের স্বপ্ন।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিভি লটারি বন্ধই থাকছে, ট্রাম্পের পক্ষে আদালতের নতুন সিদ্ধান
যুক্তরাষ্ট্রে ডিভি লটারি বন্ধই থাকছে, ট্রাম্পের পক্ষে আদালতের নতুন সিদ্ধান

যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ২০২৭ অর্থবছরের বৈচিত্র্যময় অভিবাসী ভিসা লটারি নিয়ে নতুন আইনি মোড় তৈরি হয়েছে। দেশটির নবম সার্কিট আপিল আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া লটারি আবেদনপ্রক্রিয়া পুনরায় চালুর নির্দেশ স্থগিত করেছেন। গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ দেওয়া এই আদেশের ফলে আপাতত ২০২৭ সালের লটারির নিবন্ধন শুরু করতে হচ্ছে না মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে। এতে কর্মসূচি পুনরায় চালুর দাবিতে করা মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সাময়িক আইনি স্বস্তি পেয়েছে। তবে আদালতের এই আদেশকে লটারি স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

মামলার নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারপতির একটি প্যানেল সরকারের জরুরি স্থগিতাদেশের আবেদন মঞ্জুর করেন। বিচারপতি এম. মার্গারেট ম্যাককিওন, এন. র‌্যান্ডি স্মিথ এবং হলি এ. থমাস এই আদেশে অংশ নেন। আদালত নিম্ন আদালতের ১৪ অক্টোবরের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ কার্যকর হওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন। ওই নির্দেশে পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে লটারির নিবন্ধনসংক্রান্ত ঘোষণা প্রকাশ এবং ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচিত ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় ২০২৭ অর্থবছরের লটারির নিবন্ধন শুরু না হওয়াকে কেন্দ্র করে। রেড ঈগল ল নামের একটি অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান ২০২৬ সালের আগস্টে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ ছিল, পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই নিবন্ধনপ্রক্রিয়া চালু করেনি। এর ফলে কর্মসূচিটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। তাদের দাবি ছিল, সরকারের এমন নিষ্ক্রিয়তা স্বেচ্ছাচারী এবং প্রচলিত প্রশাসনিক আইনের পরিপন্থী।

মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা আদালতে ওঠে। বিচারক জিনসুক ওহতা ১৪ অক্টোবর সরকারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের ঘোষণা প্রকাশ, আবেদন গ্রহণ এবং নির্বাচিত ব্যক্তিদের পরবর্তী যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করতে হতো। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, নিম্ন আদালতের নির্দেশ কার্যকর থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পরে নবম সার্কিট আদালত সরকারের আবেদন গ্রহণ করেন।

আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মামলাকারী প্রতিষ্ঠানটি ডিভি লটারি পরিচালনাকারী আইনের উদ্দেশ্যের আওতায় সুরক্ষিত স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। আদালতের মতে, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম অভিবাসী পাঠানো দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসনের সুযোগ দেওয়া। কোনো আইন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক আয় বাড়ানো বা সম্ভাব্য গ্রাহক তৈরির জন্য এই কর্মসূচি তৈরি করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে সম্ভাব্য গ্রাহক হারানোর আশঙ্কা দেখালেও সেই ক্ষতি যথেষ্ট নির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ নয় বলে আদালত মনে করেছেন।

আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, রেড ঈগল ল নিজে কোনো সম্ভাব্য ডিভি লটারি আবেদনকারীর পক্ষে মামলা করেনি। প্রতিষ্ঠানটি কেবল ভবিষ্যতে লটারিতে নির্বাচিত হতে পারেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে সম্ভাব্য কাজ ও আয়ের সুযোগ হারানোর যুক্তি দেখিয়েছে। অথচ একজন ব্যক্তিকে প্রথমে লটারিতে আবেদন করতে হবে, পরে নির্বাচিত হতে হবে, এরপর ভিসার যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং সবশেষে আইন প্রতিষ্ঠানের সেবা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এতগুলো অনিশ্চিত ধাপের ওপর নির্ভরশীল সম্ভাব্য আয়কে আদালত সরাসরি আইনগত ক্ষতি হিসেবে গ্রহণ করেননি।

তবে এই রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আদালত পররাষ্ট্র দপ্তরের নিবন্ধন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেননি। মূল আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারের নিবন্ধনপ্রক্রিয়া চালু না করার ব্যর্থতাকে আদালত অনুমোদন দিচ্ছেন না। বরং মামলাকারী প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় মামলা করার উপযুক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বলে সরকারের স্থগিতাদেশের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। বিচারপতি এন. র‌্যান্ডি স্মিথ পৃথক সম্মতিমূলক মতামতে সংবিধানের অধীনে মামলা করার আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটিও ব্যাখ্যা করেছেন।

ডিভি লটারি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। দেশটিতে অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম এমন দেশের নাগরিকদের জন্য প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দের বিধান রয়েছে। সাধারণত লাখ লাখ মানুষ এই কর্মসূচিতে আবেদন করেন। সেখান থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ আবেদনকারীকে পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়। তবে লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা নির্ধারিত কর্ম-অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। সবকিছু সন্তোষজনক হলে তবেই ভিসা পাওয়া সম্ভব।

২০২৭ অর্থবছরের কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু হয় ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর। ওই দিন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, আবেদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং নিবন্ধন শুরুর তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়েও নিবন্ধনের তারিখ প্রকাশ করা হয়নি। একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলির ঘটনা এবং ম্যাসাচুসেটস প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক হত্যাকাণ্ডের পর নিরাপত্তা যাচাইয়ের কথা উল্লেখ করে বৈচিত্র্যময় অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়। তবে নিবন্ধন গ্রহণ না করা এবং নির্বাচিত ব্যক্তিদের ভিসা প্রদান স্থগিত রাখা দুটি পৃথক প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং নয়জন আহত হন। পরে তদন্তকারীরা পর্তুগালের নাগরিক ক্লাউদিও ম্যানুয়েল নেভেস ভ্যালেন্তেকে হামলার সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করেন। ১৫ ডিসেম্বর ম্যাসাচুসেটসের ব্রুকলাইনে অধ্যাপক নুনো লুরেইরোকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। তদন্তে দুই ঘটনার সঙ্গে একই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। ১৮ ডিসেম্বর নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি গুদামে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তদন্তের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। এই ঘটনাগুলোর পর অভিবাসন কর্মসূচির নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বৈচিত্র্যময় অভিবাসী ভিসা লটারির বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁর অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ক্ষেত্রে দৈবচয়নের পরিবর্তে দক্ষতা, যোগ্যতা ও অর্থনৈতিক অবদানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তবে কর্মসূচিটি পরিচালনার জন্য বিদ্যমান অভিবাসন আইন রয়েছে। ফলে প্রশাসনের যেকোনো পরিবর্তন বা স্থগিতাদেশের ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

সর্বশেষ আদালতের আদেশের পর ২০২৭ অর্থবছরের লটারির আবেদনপ্রক্রিয়া আপাতত বন্ধই থাকছে। তবে মূল আপিলের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। ভবিষ্যতে মামলার অগ্রগতি, নতুন আবেদন কিংবা অন্য কোনো আদালতের সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এখনই আবেদন শুরু হয়েছে বা লটারি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

আগ্রহীদের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ঘোষণা এবং লটারির নির্ধারিত সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আবেদন শুরুর নিশ্চয়তা, নির্বাচনের নিশ্চয়তা কিংবা অর্থের বিনিময়ে লটারিতে জেতার প্রতিশ্রুতি পেলে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ সরকারি ঘোষণা ছাড়া কোনো অনানুষ্ঠানিক তথ্যকে আবেদন শুরুর প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।

নবম সার্কিট আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনকে সাময়িক আইনি সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু ২০২৭ সালের ডিভি লটারি কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। মামলার চূড়ান্ত ফলাফল এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর অপেক্ষার অবসান।


ট্যাগ: িভি লটারিযুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনট্রাম্প প্রশাসনমার্কিন আদালতঅভিবাসন আইন২০২৭ সালের লটারিবাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীযুক্তরাষ্ট্রের ভিসা

প্রতিবেদক

Tasfiq Azad

International Broadcast Journalist

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।