মেডিকেইড সুবিধা কেড়ে নেওয়ার পথে আদালতের বাধা, স্বস্তিতে অসুস্থ আমেরিকানরা
ট্রাম্প প্রশাসনের মেডিকেইড নীতিতে আদালতের বাধা। গুরুতর অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী রোগীদের চিকিৎসাগত ছাড় পাওয়ার সুযোগ রক্ষায় এলো গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকেইড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিতে বড় ধরনের আইনি বাধা তৈরি হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সুবিধা অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান বাতিল করেছেন ফেডারেল আদালত। এতে নতুন কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শর্তের কারণে চিকিৎসা বীমা হারানোর ঝুঁকিতে থাকা অনেক রোগীর জন্য স্বস্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক রিচার্ড স্টিয়ার্নস এ সিদ্ধান্ত দেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে করা মামলায় ২৫টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির পক্ষে রায় দেন তিনি।
মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত একটি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি। নিম্ন আয়ের মানুষ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন নাগরিকেরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন।
২০২৫ সালে পাস হওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের কর ও ব্যয়সংক্রান্ত বৃহৎ আইনের আওতায় মেডিকেইডে নতুন কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শর্ত যুক্ত করা হয়।
নতুন বিধান অনুযায়ী, ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী অনেক মেডিকেইড গ্রহীতাকে প্রতি মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম অথবা নির্ধারিত অন্যান্য কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে। বিকল্প হিসেবে অন্তত অর্ধসময়ের শিক্ষাকার্যক্রমে যুক্ত থাকার সুযোগও রয়েছে।
এই শর্ত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
তবে আইনে গুরুতর অসুস্থ, অন্ধ, প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চিকিৎসাগত প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিতর্ক তৈরি হয় যখন যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার সেবা কেন্দ্র নতুন নির্দেশনায় চিকিৎসাগত ছাড় পাওয়ার সংজ্ঞা আরও সীমিত করে।
নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শুধু গুরুতর অসুস্থ হলেই ছাড় পাওয়া যাবে না; অসুস্থতার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শর্ত পূরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে—এটিও প্রমাণ করতে হবে।
২৫টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির কর্মকর্তারা মনে করেন, এই অতিরিক্ত শর্ত কংগ্রেসের মূল আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে যোগ্য অনেক রোগীও চিকিৎসা সুবিধা হারাতে পারেন।
বিচারক রিচার্ড স্টিয়ার্নস প্রশাসনের নির্ধারিত চিকিৎসাগত অক্ষমতার অতিরিক্ত সংজ্ঞাকে আইনবহির্ভূত বলে ঘোষণা করেন। ফলে ওই সংজ্ঞা প্রয়োগের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বেআইনি সংজ্ঞা প্রয়োগের কারণে যোগ্য ও অসুস্থ ব্যক্তিদের মেডিকেইড সুবিধা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে তাদের নিয়মিত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে।
রায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোকে নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা হালনাগাদ করতে ছয় মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।
তবে আদালত মেডিকেইডের সব কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শর্ত বাতিল করেননি। চিকিৎসাগত অক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ১২ মাসের বেশি পুরোনো নথি গ্রহণ না করার বিধানসহ কিছু শর্ত বহাল রয়েছে।
কারা এই সিদ্ধান্তের সুবিধা পেতে পারেন?
এই সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে—
১. দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগে আক্রান্ত মেডিকেইড গ্রহীতাদের জন্য।
২. শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য।
৩. নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের ওপর নির্ভরশীল নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য।
৪. যেসব রোগীর চিকিৎসা বন্ধ হলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৫. চিকিৎসাগত ছাড় পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে পারেন এমন ব্যক্তিদের জন্য।



মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।