সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
টেক্সাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের সর্বকালের রেকর্ড ভাঙল, ভোটার সাত দশমিক সাত মিলিয়ন ছাড়ালযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে ঝড়ের দাপট বাড়ার শঙ্কা, ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারিনিউইয়র্কে ব্যাটারির আগুনে মা ও তিন সন্তানের মৃত্যু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবাযুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের নতুন সেবা শিবির, ছুটি ও শিক্ষার্থীদের ঘটনায় বিজ্ঞপ্তিট্রাম্পের রাতের ফোনে ঘুম হারাম, অনুকরণ করে হাসালেন স্পিকার মাইক জনসন

নির্বাচনের পর ইরানে বড় হামলার ছক কষছেন ট্রাম্প, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা

নির্বাচনের পর ইরানে আবার হামলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ওয়াশিংটন; তবে ট্রাম্প এখনো নির্দেশ দেননি, কূটনৈতিক আলোচনাও চলছে, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ।

নির্বাচনের পর ইরানে বড় হামলার ছক কষছেন ট্রাম্প, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা
নির্বাচনের পর ইরানে বড় হামলার ছক কষছেন ট্রাম্প, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে একাধিক সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি। ফলে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী দ্য আটলান্টিকের ১ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হলে সেটি কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন কিংবা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ট্রাম্পের সামনে একাধিক সামরিক বিকল্প তুলে ধরেছেন প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে এসব পরিকল্পনার কোনটি বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রতিবেদনটির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দুই উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে নতুন করে হামলা শুরু হতে পারে। ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করাই সম্ভাব্য অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সামনে কয়েকটি সামরিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা। পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও হামলার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব লক্ষ্যবস্তু নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেই যে সেগুলোতে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সামনে তিন ধরনের পথ রয়েছে। প্রথমত, সীমিত সময়ের সামরিক অভিযান চালানো। দ্বিতীয়ত, কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে বড় পরিসরে হামলা অব্যাহত রাখা। তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ বজায় রেখে সামরিক হামলার হুমকিকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করা। চাইলে তিনি সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে এসে কূটনৈতিক সমাধানের পথও বেছে নিতে পারেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও আঞ্চলিক মিত্রকে সম্ভাব্য নতুন হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। দুই কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে বলে মিত্র দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও নিশ্চিত করেছে, ট্রাম্প এখনো নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সম্ভাব্য অভিযানের সময়কাল কয়েক দিন হতে পারে বলে মিত্র দেশগুলোকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান পাল্টা হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরির পেছনে ইসরায়েলের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে ১ নভেম্বর ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পরপরই ইরানে হামলা চালানোর জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ দিচ্ছেন। তবে ট্রাম্প আপাতত ইরানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ শেষ করে দিতে চাইছেন না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। সেখানে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং আবার সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, কথোপকথনটি ছিল সরাসরি এবং স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরানে নতুন হামলা চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর ভাষায়, প্রশাসন বিষয়টি হালকাভাবে দেখছে না এবং কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প নিজেও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক বা দুটি স্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। তেহরানের বক্তব্য, আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে নিজেদের অবস্থান ও শর্তের বিষয়ে ইরান অনড় রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনায়। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আল জাজিরার ২ নভেম্বরের সরাসরি সংবাদ হালনাগাদে বলা হয়েছে, প্রণালিতে দুটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার খবর জানিয়েছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী। ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট এবং কয়েকটি নৌযানের সঙ্গে প্রায় নয় হাজার সেনা সদস্যকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এই মোতায়েনকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির একটি অংশ হিসেবে দেখা হলেও সেনা মোতায়েনের অর্থ এই নয় যে হামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান শুরু হলে তেলের দাম বাড়তে পারে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও যুদ্ধের ব্যয় এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের ব্যয় ইতোমধ্যে মার্কিন করদাতাদের জন্য ৪৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছে। ফলে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হলে তার আর্থিক ও রাজনৈতিক দায়ভার নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে।

দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর প্রশাসনের সামরিক নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ও জেনারেল কেইনের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মহলে আলোচনা করছেন বলে কয়েকজন উপদেষ্টার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট উভয় কর্মকর্তার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন করে হামলা চালালেও ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং তেহরান পাল্টা আক্রমণ চালালে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। এতে বেসামরিক মানুষের জীবন, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ইরান পরিস্থিতি নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের সামনে সামরিক অভিযান, নৌ অবরোধ এবং কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। তবে নতুন হামলার কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ এখনো দেওয়া হয়নি। আগামী কয়েক দিনে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করতে পারে মধ্যপ্রাচ্য আবার বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর নতুন সুযোগ তৈরি হবে।


ট্যাগ: োনাল্ড ট্রাম্পইরানযুক্তরাষ্ট্রমধ্যপ্রাচ্যসামরিক অভিযানমার্কিন নির্বাচনইরান যুদ্ধহরমুজ প্রণালিবেনিয়ামিন নেতানিয়াহুআন্তর্জাতিক রাজনীতি

প্রতিবেদক

Tasfiq Azad

International Broadcast Journalist

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।