মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিতে সংসদের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেল ডেমোক্র্যাটরা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি গভর্নর পদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনেও বড় সাফল্য পেয়েছেন তারা। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি দুই বছরের শাসনামলে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর ডেমোক্র্যাটদের নজরদারি আরও বাড়বে।
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু নির্বাচনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পাওয়ায় সেই চিত্র বদলে গেছে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অন্তত সাতটি আসন বাড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদেও অন্তত ৩০টি আসন বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন তারা।
সিনেটের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত সাফল্য এসেছে টেক্সাস, কানসাস, সাউথ ক্যারোলাইনা ও মেইনের মতো রাজ্যে। এসব রাজ্যে রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থান থাকলেও এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। টেক্সাসে জেমস টালারিকো সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম রাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলেন।
কানসাসেও দীর্ঘদিন পর ডেমোক্র্যাটরা সিনেট আসন পেয়েছেন। অন্যদিকে মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদ সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন।
গভর্নর নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। টেক্সাস, জর্জিয়া, আইওয়া ও ওহাইওসহ কয়েকটি রাজ্যে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে গভর্নরের পদ ছিনিয়ে নিয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট গভর্নর পদের সংখ্যাতেও ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন।
জর্জিয়ায় কেইশা ল্যান্স বটমস প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। টেক্সাসে জিনা হিনোজোসা রাজ্যটির প্রথম লাতিনা নারী গভর্নর হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন। এসব জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নির্বাচনের এই ফলের পেছনে জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ, দ্রব্যমূল্য, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নির্বাচনে জয়ের পর ডেমোক্র্যাট নেতারা জানিয়েছেন, তারা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ করবেন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও বলেছেন, তারা বাধা সৃষ্টি করলে নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করবেন।
এই জয়ের ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে। তারা সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে শুনানি করতে পারবেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জবাব চাইতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবেন।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।