সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
বাফেলোতে ১০ দেশের ১০ জনের মার্কিন নাগরিকত্ব, তালিকায় একজন বাংলাদেশিওইউরোপে বিনা টিউশন ফিতে মাস্টার্স, মাসে মিলবে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার বেশি ভাতানিজের গাড়ি দুর্ঘটনায় চাপা, তবু অন্যদের উদ্ধারে ছুটলেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও সিদ্ধান্তে অনড়জামায়াত আমিরের সাড়া মেলেনি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

বাফেলোতে ১০ দেশের ১০ জনের মার্কিন নাগরিকত্ব, তালিকায় একজন বাংলাদেশিও

যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলোতে নাগরিকত্বের শপথ নিয়ে নতুন জীবনের সূচনা করলেন ১০ দেশের ১০ অভিবাসী, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন।

বাফেলোতে ১০ দেশের ১০ জনের মার্কিন নাগরিকত্ব, তালিকায় একজন বাংলাদেশিও
বাফেলোতে ১০ দেশের ১০ জনের মার্কিন নাগরিকত্ব, তালিকায় একজন বাংলাদেশিও

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে নাগরিকত্বের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন পরিচয় পেয়েছেন ১০ দেশের ১০ অভিবাসী। এই নতুন মার্কিন নাগরিকদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ থেকে আসা একজনও। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, নানা প্রক্রিয়া এবং নতুন দেশে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার পর নাগরিকত্ব পাওয়ার এই মুহূর্ত তাঁদের জীবনে বিশেষ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বাফেলোভিত্তিক আন্তর্জাতিক অভিবাসী সহায়তা সংস্থা ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, শহরের কেন্দ্রস্থলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার আয়োজিত নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে ১০ দেশের ১০ জন নতুন নাগরিক শপথ গ্রহণ করেন। তাঁদের নাগরিকত্ব অর্জনের এই যাত্রায় সংস্থাটি সহযোগিতা করেছে।
নতুন নাগরিকদের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, মিয়ানমার, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, ইথিওপিয়া, হাইতি, ইতালি, সোমালিয়া, সিরিয়া ও তানজানিয়া। অর্থাৎ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, ক্যারিবীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের একজন নাগরিকের এই অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের জন্যও আনন্দের খবর। তবে সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই বাংলাদেশির নাম, বয়স, যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁর পরিচয় বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নিশ্চিত নয়—এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা সমীচীন হবে না।
নাগরিকত্বের শপথ গ্রহণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি একজন অভিবাসীর জীবনে দীর্ঘ যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। নতুন দেশে বসবাস, কাজ, পরিবার গড়ে তোলা, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নাগরিকত্বের যোগ্যতা অর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে হয়।

নাগরিকত্ব পাওয়ার মাধ্যমে তাঁরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এই অর্জনের ফলে তাঁদের সামনে নতুন কিছু সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিক হিসেবে দেশের আইন মেনে চলা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়াটি সাধারণত বেশ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। আবেদনকারীকে প্রথমে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। এরপর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, আঙুলের ছাপ ও পরিচয় যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং নাগরিকত্ব পরীক্ষা দিতে হয়। সবকিছু সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হলে তাঁকে শপথ গ্রহণের জন্য ডাকা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হলেই একজন ব্যক্তি নাগরিক হয়ে যান না। আনুষ্ঠানিকভাবে আনুগত্যের শপথ গ্রহণের পরই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পান। শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর সাধারণত তাঁকে নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হয়।
এই শপথের গুরুত্ব অনেক। এর মাধ্যমে নতুন নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইনকে সমর্থন করার অঙ্গীকার করেন। দেশের প্রতি আনুগত্য, আইন মেনে চলা এবং প্রয়োজনে জাতীয় দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতিও শপথের অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনেও নাগরিকত্ব প্রদানের আগে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে এই শপথ গ্রহণের বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো মানুষের জন্য নাগরিকত্ব অর্জন অনেক সময় দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়। কেউ উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে দেশটিতে যান, কেউ চাকরি বা ব্যবসার জন্য, আবার কেউ পরিবারের সঙ্গে বসবাসের উদ্দেশ্যে সেখানে স্থায়ী হন। সময়ের সঙ্গে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কর্মজীবন, পরিবার ও সামাজিক অবস্থান গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে নাগরিকত্ব অর্জনের যোগ্যতা পূরণ করে আবেদন করেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না। অধিকাংশ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে নির্দিষ্ট সময় বসবাস, ভালো নৈতিক চরিত্র, ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং দেশটির ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি। সাধারণ নিয়মে পাঁচ বছর স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকার পর আবেদন করা যায়। তবে মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বিবাহিত কিছু আবেদনকারীর জন্য তিন বছরের বিশেষ যোগ্যতার সুযোগ রয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও আলাদা বিধান রয়েছে।
নাগরিকত্ব পরীক্ষার বিষয়টিও আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, সংবিধান, সরকারব্যবস্থা এবং নাগরিক জীবনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। ইংরেজি পড়া, লেখা ও বলার দক্ষতাও সাধারণত যাচাই করা হয়। তবে বয়স, স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাসের সময়কাল কিংবা নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে কিছু আবেদনকারী পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি বা বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন।

নাগরিকত্ব অর্জনের পর একজন ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার পান। মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন এবং যেসব সরকারি পদে নাগরিকত্ব বাধ্যতামূলক, সেসব চাকরির জন্যও যোগ্যতা অর্জন করেন। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার সুযোগও বাড়ে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।
বাফেলোর এই অনুষ্ঠানটি আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অংশ নেওয়া ১০ জনের জন্মভূমি ও সাংস্কৃতিক পরিচয় আলাদা হলেও নাগরিকত্ব অর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁরা একই দেশের নাগরিক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এশিয়ার বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের মানুষ; আফ্রিকার ইথিওপিয়া, সোমালিয়া ও তানজানিয়ার মানুষ; ইউরোপের ইতালির মানুষ; মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়ার মানুষ এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের হাইতি ও ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের মানুষ।

এ ধরনের নাগরিকত্ব অনুষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ইতিহাসের একটি পরিচিত অংশ। দেশটির বিভিন্ন শহরে নিয়মিতভাবে নতুন নাগরিকদের শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে কখনো আদালত ভবনে, কখনো ঐতিহাসিক স্থানে, আবার কখনো বিশেষ কোনো প্রতিষ্ঠানে শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।
বাফেলোর পশ্চিম নিউইয়র্ক অঞ্চলের নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানের সরকারি সময়সূচিও প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম নিউইয়র্কের জেলা আদালত। ২০২৬ সালের সময়সূচিতে ৪ নভেম্বর বাফেলোর রবার্ট এইচ জ্যাকসন আদালত ভবনে নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানের তারিখ উল্লেখ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসী সহায়তা সংস্থার ৪ নভেম্বরের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে এই তারিখের মিল পাওয়া যায়। ফলে অনুষ্ঠানটির তারিখ ও স্থান সম্পর্কে খবরটির মূল তথ্যের পক্ষে সরকারি সমর্থন রয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সহায়তা সংস্থার ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে বাফেলো ও পশ্চিম নিউইয়র্ক অঞ্চলে বসবাসকারী অভিবাসী এবং শরণার্থীদের সহায়তা করে আসছে। নতুন দেশে বসবাস শুরু করার সময় ভাষাগত সমস্যা, চাকরি খোঁজা, শিক্ষা, আইনি সহায়তা এবং সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা কাজ করে।

সংস্থাটির কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নতুন অভিবাসীদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত হতে সহায়তা করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, ভাষা শিক্ষা, অনুবাদসেবা এবং আইনি পরামর্শ। তাদের লক্ষ্য হলো অভিবাসীরা যেন নতুন পরিবেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন এবং স্থানীয় সমাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এই খবরটি আনন্দের হলেও এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বাংলাদেশির নাম, পেশা, পারিবারিক পরিচয় কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বসবাসের সময়কাল প্রকাশ করা হয়নি। তাই তাঁকে ঘিরে কোনো ব্যক্তিগত গল্প বা সাফল্যের কাহিনি নিশ্চিত তথ্য ছাড়া তুলে ধরা সম্ভব নয়।

তবে তাঁর নাগরিকত্ব অর্জনের খবরটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। প্রবাসে নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আসা মানুষের কাছে নাগরিকত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন অধিকার, নতুন দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আরও বিস্তৃত সুযোগ।
১০ দেশের ১০ জন নতুন নাগরিকের এই অর্জন মনে করিয়ে দেয়, ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও জন্মভূমির মানুষও একটি দেশের অভিন্ন নাগরিক পরিচয়ে এক হতে পারেন। বাফেলোর এই শপথ অনুষ্ঠান তাই শুধু ১০ জন মানুষের নাগরিকত্ব পাওয়ার ঘটনা নয়; এটি অভিবাসীদের নতুন করে জীবন শুরু করার একটি মানবিক গল্প।

ট্যাগ: :বাফেলোযুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ববাংলাদেশি প্রবাসীনাগরিকত্ব শপথনতুন মার্কিন নাগরিকবাংলাদেশি অভিবাসীপ্রবাসের খবরনিউইয়র্ক সংবাদঅভিবাসীদের জীবন।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।