জিম্মি ৫৭ জনকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ গেল সেনাসদস্যের, টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে ভয়াবহ গোলাগুলি
কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযানে সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সেনাসদস্যের নাম সৈনিক মো. তিতাস শেখ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা যায়, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারী একটি সশস্ত্র চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। অভিযানে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই পাহাড়ি এলাকায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিককে জিম্মি করে রাখার খবর পেয়ে অভিযান শুরু হয়। যৌথবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা অতর্কিত গুলিবর্ষণ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়।
এ সময় সেনাসদস্য তিতাস শেখ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
অভিযান চলাকালে মানবপাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনজন সন্দেহভাজন মানবপাচারকারীকে আটক এবং একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আইএসপিআরের তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে।
মানবপাচারের আড়ালে পাহাড়ে সশস্ত্র অপরাধী চক্র
টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মানবপাচারকারী চক্রের এমন সশস্ত্র তৎপরতা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং পাচারের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের।
এ ঘটনায় একজন দায়িত্বশীল সেনাসদস্যের প্রাণহানি শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং মানবপাচার ও সশস্ত্র অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে।
মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই, পাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত এবং তাদের অর্থায়ন ও অস্ত্রের উৎস অনুসন্ধান এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার বন্ধে শুধু অভিযান নয়, চক্রের মূল নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগও জরুরি।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।