সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইউরোপে বিনা টিউশন ফিতে মাস্টার্স, মাসে মিলবে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার বেশি ভাতানিজের গাড়ি দুর্ঘটনায় চাপা, তবু অন্যদের উদ্ধারে ছুটলেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও সিদ্ধান্তে অনড়জামায়াত আমিরের সাড়া মেলেনি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমবড়দিনে হাজারো শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে বিশেষ উদ্যোগ, আবেদন নেওয়া শুরু ক্যালিফোর্নিয়ায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমেছে

এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রির চাপে নাসডাক সূচক প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে।

নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারে ব্যবসায়ীরা।
নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারে ব্যবসায়ীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে আবারও বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার চাপের মুখে পড়েছে প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজার নাসডাক। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এআই প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ লাভ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় এই পতন হয়েছে।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রায় ৪ শতাংশ কমে ২৪ হাজার ৭১২ দশমিক ৬০ পয়েন্টে নেমে আসে। এর ফলে গত ৬ অক্টোবরের রেকর্ড অবস্থানের তুলনায় সূচকটি ১০ শতাংশের বেশি নিচে নেমেছে। শেয়ারবাজারের প্রচলিত হিসাবে, কোনো সূচক সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ১০ শতাংশ বা তার বেশি কমলে তাকে বাজার সংশোধন বলা হয়। এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে নাসডাক।

এআই প্রযুক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনো রয়েছে। তবে এই প্রযুক্তি তৈরিতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত লাভ করতে পারবে, সেই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এআই চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যকেন্দ্র, কম্পিউটার চিপ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এসব বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় না এলে কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

বৃহস্পতিবারের দরপতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রযুক্তি ও চিপ তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো। এআই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য যেসব চিপ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো তৈরি করে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ ছাড়া তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারেও বড় পতন দেখা গেছে।

একপর্যায়ে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের সামগ্রিক সূচক ১১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এআই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এএমডি, মাইক্রন, ডেল এবং মার্ভেলের শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম একদিনেই ১০ শতাংশের বেশি নেমে যায়।

এদিকে কোয়ালকম ও এআরএমের আর্থিক ফলাফল নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্মার্টফোনের জন্য চিপ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় কোয়ালকমের শেয়ারের দাম কমেছে। প্রযুক্তি খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দুর্বল ব্যবসায়িক ফলাফলও পুরো বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

শেয়ারবাজারে এই পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলও একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের ওপর সরকারি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

এআই প্রযুক্তি চালানোর জন্য বড় বড় তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ করতে হয়। এসব কেন্দ্রে প্রচুর বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার হয়। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা বাড়ছে। নির্বাচনের পর এ ধরনের প্রকল্প অনুমোদন পেতে দেরি হতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে এআই প্রযুক্তির জন্য চিপ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য অনেক বড় প্রতিষ্ঠান ঋণ নিচ্ছে। ঋণের খরচ বেড়ে গেলে এসব প্রকল্প পরিচালনা করা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের তুলনায় আয় কম হলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম আরও চাপে পড়তে পারে।

তবে বাজারের এই পতনের অর্থ এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। বরং বিনিয়োগকারীরা এখন কোন প্রতিষ্ঠান সত্যিকার অর্থে এআই থেকে আয় করতে পারছে এবং কোন প্রতিষ্ঠান শুধু ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করছে, তা নতুন করে বিবেচনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই শেয়ারবাজারের পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ দেশটির বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও বিনিয়োগের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি জড়িত। শেয়ারের দাম দীর্ঘ সময় কম থাকলে নতুন বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে।

এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা, চিপ বিক্রির দুর্বল ফলাফল এবং নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে রাজনৈতিক চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন এআই খাতে ব্যয়ের তুলনায় প্রকৃত আয়ের হিসাব দেখতে চাইছেন। আগামী দিনে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক ফলাফল ও সরকারি নীতির ওপর নির্ভর করবে এই খাতের শেয়ারবাজার কোন দিকে এগোবে।

ট্যাগ: এআইপ্রযুক্তিশেয়ারবাজারযুক্তরাষ্ট্রেরঅর্থনীতিপ্রযুক্তিখাত

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।