সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইউরোপে বিনা টিউশন ফিতে মাস্টার্স, মাসে মিলবে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার বেশি ভাতানিজের গাড়ি দুর্ঘটনায় চাপা, তবু অন্যদের উদ্ধারে ছুটলেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও সিদ্ধান্তে অনড়জামায়াত আমিরের সাড়া মেলেনি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমবড়দিনে হাজারো শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে বিশেষ উদ্যোগ, আবেদন নেওয়া শুরু ক্যালিফোর্নিয়ায়

ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাহায্য বন্ধ করতে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত আবদুল এল-সায়েদ

ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে দেশটির কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রিও বন্ধের দাবি তুলেছেন নতুন নির্বাচিত সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ।

আবদুল এল সায়েদ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
আবদুল এল সায়েদ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বার্ষিক সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছেন মিশিগান থেকে নির্বাচিত নতুন সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। তবে শুধু আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করলেই হবে না, ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রিও বন্ধ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর মতের মিল থাকলেও অস্ত্র বিক্রির প্রশ্নে দুজনের অবস্থান আলাদা।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গণমাধ্যম এনপিআরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ বলেন, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার নীতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সঠিক অবস্থান নিয়েছেন। তবে ইসরায়েলের কাছে এমন অস্ত্র বিক্রিও বন্ধ করা উচিত, যেগুলো দিয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে জয়ী হওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন এল-সায়েদ। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি অন্যতম আলোচিত ইস্যু ছিল।

এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সমঝোতা হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সহায়তা বন্ধ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েল এখন অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই দেশটির আর আগের মতো মার্কিন সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সহযোগিতা করবে এবং দেশটির কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এখানেই ট্রাম্প ও এল-সায়েদের অবস্থানের মূল পার্থক্য। ট্রাম্প সামরিক সহায়তা বন্ধের কথা বললেও অস্ত্র বিক্রি চালু রাখতে চান। অন্যদিকে এল-সায়েদ সামরিক সহায়তার পাশাপাশি অস্ত্র বিক্রিও বন্ধ করার পক্ষে।

এল-সায়েদ শুধু ইসরায়েল নয়, মিশর, সৌদি আরব, জর্ডান ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও নতুন করে পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিদেশে সামরিক খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে ব্যবহার করা উচিত।

তবে ট্রাম্পের ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান ১০ বছর মেয়াদি সামরিক সহায়তা চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত ইসরায়েলকে মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার কাঠামো রয়েছে। এর আওতায় বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়।

এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও ট্রাম্প ২০২৭ সাল থেকে সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনার কথা বলেছেন। কিন্তু কীভাবে নির্ধারিত সময়ের আগেই এই সহায়তা বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসেরও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবছরের সামরিক সহায়তার অর্থ অনুমোদন ও বরাদ্দের সঙ্গে কংগ্রেস জড়িত। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হলে বিদ্যমান অর্থ বরাদ্দ, আইন এবং দুই দেশের চুক্তির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটও ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ক ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এত বড় পরিবর্তনের বিষয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিভাগ ও সাধারণ মানুষ গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে বাধ্য হওয়া নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু সহায়তা বন্ধ হবে, নাকি ভবিষ্যতে অস্ত্র বিক্রি ও সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ট্যাগ: আবদুল এল সায়েদডোনাল্ড ট্রাম্পইসরায়েলযুক্তরাষ্ট্রসামরিক সহায়তা

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।