নিজের গাড়ি দুর্ঘটনায় চাপা, তবু অন্যদের উদ্ধারে ছুটলেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী
ভয়াবহ নয় গাড়ির সংঘর্ষে নিজের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিপদে পড়া মানুষদের সাহায্য করতে পিছপা হননি এক নিরাপত্তাকর্মী।
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের হনলুলুতে নয়টি গাড়ির সংঘর্ষের ঘটনায় মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিমানবন্দরের এক নিরাপত্তাকর্মী। দুর্ঘটনার সময় নিজের গাড়িও অন্য একটি গাড়ির নিচে চাপা পড়ে যায়। কিন্তু নিজের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে তিনি এগিয়ে যান দুর্ঘটনায় পড়া অন্য মানুষদের সহায়তায়।
নিরাপত্তাকর্মীর নাম কেপোইকাই ‘কাই’ লায়ন্স। তিনি হনলুলুর ড্যানিয়েল কে ইনোয়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (টিএসএ) কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে হাওয়াইয়ের এইচ-১ ফ্রিওয়েতে ভয়াবহ সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে একাধিক গাড়ি পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনায় একটি গাড়ি উল্টে যায় এবং আরেকটি গাড়ি লায়ন্সের গাড়ির পেছনে সজোরে আঘাত করে। শেষ পর্যন্ত তাঁর গাড়িটি অন্য একটি গাড়ির নিচে আটকে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে যে কেউ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন। কিন্তু লায়ন্স প্রথমেই খোঁজ নিতে শুরু করেন অন্য গাড়ির যাত্রীরা আহত হয়েছেন কি না এবং কারও জরুরি সহায়তা প্রয়োজন কি না।
তিনি জানান, চারপাশে গাড়িগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেতে দেখে তিনি বুঝতে পারেন, অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাই শান্ত থেকে পরিস্থিতি বোঝার এবং যাঁদের সাহায্য প্রয়োজন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সৌভাগ্যক্রমে লায়ন্স নিজে আহত হননি। তবে তাঁর গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরও তিনি নিজের নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করতে পৌঁছান।
লায়ন্স নিজের কাজকে বীরত্ব হিসেবে দেখতে চান না। তাঁর ভাষায়, বিপদে কাউকে সাহায্য করার সুযোগ থাকলে এগিয়ে আসা উচিত। সাহায্য করতে সব সময় বিশেষ কোনো পদ বা পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না। কখনো কারও খোঁজ নেওয়া, আশ্বস্ত করা কিংবা জরুরি সেবায় ফোন করাও বড় সহায়তা হতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করেছেন, সাহায্য করতে গিয়ে নিজের বা অন্য কারও জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করা উচিত নয়। পরিস্থিতি বুঝে নিরাপদভাবে সহায়তা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
লায়ন্সের এই সাহসিকতা ও মানবিক আচরণ নজরে আসে তাঁর কর্মস্থলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও। টিএসএর সুপারভাইজরি কর্মকর্তা জুলিয়ানা সামপোয়াং তাঁকে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতির জন্য মনোনীত করেন।
টিএসএর প্যাসিফিক অঞ্চলের ফেডারেল নিরাপত্তা পরিচালক নানেয়া জি ভাস্তা বলেন, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা, মানুষের প্রয়োজন বুঝে সহায়তা করা এবং জননিরাপত্তার প্রতি দায়িত্বশীলতা দেখানোর মাধ্যমে লায়ন্স পেশাদারত্ব ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই মানুষের জীবন ওলটপালট করে দিতে পারে। কিন্তু সেই বিপদের মধ্যেও অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা সমাজে আশার আলো দেখায়। হাওয়াইয়ের এই নিরাপত্তাকর্মীর ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, মানবিক হতে বড় কোনো পরিচয়ের প্রয়োজন নেই—প্রয়োজন শুধু বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহস।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।