বিদেশি নাগরিকদের ধরতে সহযোগিতা না করলেও রাজ্যের সরকারি টাকা বন্ধ করতে পারবে না ট্রাম্প সরকার
অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহযোগিতা না করলে রাজ্যগুলোর কিছু সরকারি অনুদান বন্ধ করার চেষ্টা আটকে দিয়েছেন আদালত। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে নতুন আইনি বাধা তৈরি হয়েছে।
অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহযোগিতা না করলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যকে দেওয়া কিছু সরকারি অনুদান বন্ধ করার শর্ত দিতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন। গত ৪ নভেম্বর রোড আইল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালত এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এর ফলে রাজ্যগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি সরকারি অনুদান নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা আটকে গেছে।
মামলাটি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির প্রশাসন। তাদের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার এমন কিছু সরকারি অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত যুক্ত করেছে, যার সঙ্গে ওই অনুদানের মূল উদ্দেশ্যের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
মামলার শুনানি শেষে প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের দেওয়া এসব শর্ত বাতিল করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এসব শর্ত কার্যকর করা বা প্রয়োগ করার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন।
বিচারকের বক্তব্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের নির্ধারিত নিয়মে দেওয়া সরকারি অনুদানের সঙ্গে বিচার বিভাগ নিজের ইচ্ছামতো নতুন শর্ত যুক্ত করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতারও আইনি সীমা রয়েছে।
সরকারের নতুন শর্ত অনুযায়ী, রাজ্যগুলোকে তাদের হেফাজতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসের সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতে হতো। কোনো আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হলে সে বিষয়েও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগকে জানাতে হতো।
কিন্তু রাজ্যগুলোর অভিযোগ ছিল, এসব শর্ত না মানলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও কিশোর বিচারব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অর্থ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। অথচ এসব অনুদানের মূল উদ্দেশ্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পুলিশকে সহায়তা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আদালতের এই রায় মূলত দুটি সরকারি অনুদান কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর মধ্যে একটি রাজ্য পর্যায়ে অস্ত্র সহিংসতা কমানোর কর্মসূচি এবং অন্যটি কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি।
এর আগে অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থের ক্ষেত্রেও একই ধরনের শর্ত দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। রাজ্যগুলোর মামলা করার পর সরকার সেই শর্ত থেকে সরে আসে। পরে অন্য কয়েকটি সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিয়ম যুক্ত করা হলে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়।
নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ডেভেনপোর্ট আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে রাজ্যগুলোকে সব ধরনের অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহযোগিতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রায়টি শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি সরকারি অনুদানের সঙ্গে যুক্ত নতুন শর্তের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।