কর্মীদের বেতন ও পদ বাড়ানোর সুযোগে অন্যায়ের অভিযোগ, ২৯৫ কোটি টাকা দিচ্ছে মার্কিন কোম্পানি
কর্মীদের বেতন ও পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগ মেটাতে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। সমঝোতা অনুযায়ী, এক হাজারের বেশি কর্মীও অর্থ পাবেন।
কর্মীদের বেতন, পদোন্নতি ও চাকরির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ মেটাতে মোট ২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ কয়েক শ কোটি টাকা।
গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং সমান কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশন (ইইওসি) এই সমঝোতার ঘোষণা দেয়। অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে বৈচিত্র্য বাড়ানোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শ্বেতাঙ্গ কর্মীদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, মোট অর্থের মধ্যে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে দেবে প্রতিষ্ঠানটি। বাকি ৭৫ লাখ ডলার দেওয়া হবে এক হাজারের বেশি কর্মীকে। এসব কর্মী প্রতিষ্ঠানের কথিত বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে লকহিড মার্টিন কর্মীদের অতিরিক্ত বেতন ও পুরস্কার দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিভাগে সেরা ২০ শতাংশ কর্মীকে নিয়মিত বেতন বৃদ্ধির বাইরে অতিরিক্ত বেতন বাড়ানোর সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল।
শুরুতে কর্মীদের কাজের মান, দক্ষতা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকারি অভিযোগ অনুযায়ী, পরে কর্মীদের জাতিগত পরিচয় ও লিঙ্গ বিবেচনায় নিয়ে তালিকা পরিবর্তনের জন্য কিছু কর্মকর্তার ওপর চাপ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তালিকায় থাকা কয়েকজন শ্বেতাঙ্গ কর্মীর নাম বাদ দিয়ে অন্য কর্মীদের যুক্ত করতে বলা হয়েছিল।
এ ছাড়া নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ এবং কর্মীদের বিশেষ সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও জাতিগত পরিচয় ও লিঙ্গ বিবেচনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিম বুহারের অভিযোগ থেকে। তিনি ২০২৫ সালে আদালতে মামলা করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশন আইনি পদক্ষেপ নেয়।
তবে লকহিড মার্টিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দীর্ঘ আইনি লড়াই ও অতিরিক্ত খরচ এড়াতে তারা সমঝোতায় রাজি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের আইন ভঙ্গের দায় স্বীকার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মক্ষেত্রে জাতিগত পরিচয় বা লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য রোধে দেশটির আইন রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা বেসরকারি কোম্পানিগুলোকেও এসব আইন মেনে চলার শর্ত পূরণ করতে হয়।
এই সমঝোতার মাধ্যমে এক হাজারের বেশি কর্মী আর্থিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। তবে আদালত বা কোনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় লকহিড মার্টিনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ অস্বীকার করেই সমঝোতা করেছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।