নির্বাচনে জিতে ট্রাম্প সরকারের বিভিন্ন কাজের তদন্ত করতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা
নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। তদন্তে উঠতে পারে প্রেসিডেন্টের ব্যবসা, অভিবাসন নীতি ও সরকারি কাজের নানা বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। দেশটির আইনসভার দুই কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর আগামী দিনে সরকারের বিভিন্ন কাজের হিসাব চাইতে পারবেন তারা।
গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। এর ফলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন আইনসভার কার্যক্রম শুরু হলে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ, নথিপত্র চাওয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত করার সুযোগ পাবেন তারা।
ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্তের তালিকায় রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক, অভিবাসন নীতি এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক লেনদেন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চান দলটির নেতারা।
প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান রবার্ট গার্সিয়া নির্বাচনে জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তদন্তের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে সিনেটের অর্থবিষয়ক কমিটির সম্ভাব্য প্রধান রন ওয়াইডেন ওষুধের দাম কমানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর চুক্তি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশে বিলম্ব, অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজের ধরন, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েও তদন্তের পরিকল্পনা রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের।
প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির সম্ভাব্য প্রধান জেমি রাসকিন বিচার বিভাগ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলতে চান। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির সম্ভাব্য প্রধান অ্যাডাম স্মিথ পেন্টাগনের কাজ, ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত এবং সামরিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা করছেন।
তবে এসব তদন্তের পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আপত্তি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তদন্ত শুরু করে, তাহলে তা জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে। ট্রাম্প প্রশাসন কোনো অন্যায়ের অভিযোগও অস্বীকার করেছে।
আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে মতবিরোধ বাড়তে পারে। ডেমোক্র্যাটরা তদন্তের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের জবাব চাইতে পারবেন। তবে তদন্তের ফল কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।