অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোটের রায়, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পেছনে ফেলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর ফলে ওয়াশিংটনে আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধী দলের শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখোমুখি হতে হবে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় জায়গায় বড় জয় পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকানদের একক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটেছে।
এই নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
নির্বাচনের পর ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে আট মাসের যুদ্ধ এবং এর ফলে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ক্ষতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফরিসের স্পিকার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার সুযোগ পাবেন।
এবারের নির্বাচনে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে। তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিনেটর, প্রথম আদিবাসী আমেরিকান নারী সিনেটর, প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সিনেটর এবং প্রথম মুসলিম সিনেটরের আগমন মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।
ডেমোক্র্যাটরা আগামী ১০০ দিনের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, আবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আগের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এই পরিবর্তনের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি আমেরিকানদের জীবনেও পড়তে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিমা, মেডিকেইড, খাদ্যসহায়তা, বাড়িভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হবে।
তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানেই সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়ে যাওয়া নয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকবে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করতে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন হতে পারে।








মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।