অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদার বাজিমাত, পঞ্চমবারও কংগ্রেসে মিশিগান জয়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের ১২তম কংগ্রেশনাল জেলা থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবারও জয় পেয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব। মিশিগানের ১২তম কংগ্রেশনাল জেলা থেকে পঞ্চমবারের মতো মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর জয় নিশ্চিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং সিবিএস নিউজ।
সিবিএস নিউজ ডেট্রয়েটের ৩ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস হুপার এবং গ্রিন পার্টির প্রার্থী ব্রেন্ডা স্যান্ডার্সকে পরাজিত করে পঞ্চম মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন তালিব। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তাঁর এই জয় মিশিগানের রাজনীতিতে ডেমোক্রেটিক শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মিশিগানের ১২তম কংগ্রেশনাল জেলায় ডেট্রয়েট, ডিয়ারবর্ন, সাউথফিল্ড, লিভোনিয়া এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকার ভোটাররা এই নির্বাচনে অংশ নেন। এ জেলায় দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্ত অবস্থান রয়েছে।
১৯৭৬ সালের ২৪ জুলাই ডেট্রয়েটে জন্মগ্রহণ করেন রাশিদা হারবি তালিব। তাঁর বাবা-মা ফিলিস্তিনি অভিবাসী। ১৪ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।
রাজনীতিতে তাঁর যাত্রা শুরু মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আইনসভা দিয়ে। ২০০৮ সালে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত হন। একই নির্বাচনে ইলহান ওমরও কংগ্রেসে জয়ী হন। তাঁরা দুজন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর অন্তর্ভুক্ত হন। রাশিদা তালিব একই সঙ্গে কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী।
কংগ্রেসে দায়িত্ব পালনকালে তালিব স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলোতে সরব ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী এলাকার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।
ফিলিস্তিন ইস্যুতেও তিনি মার্কিন রাজনীতির অন্যতম আলোচিত কণ্ঠ। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তার সমালোচনা করে আসছেন তিনি। এ কারণে মার্কিন রাজনীতিতে তাঁকে ঘিরে সমর্থন ও বিতর্ক—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর ইসরায়েল-হামাস সংঘাতসংক্রান্ত বক্তব্যের কারণে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করেছিল।
এবারের নির্বাচনে তাঁর পঞ্চম জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম আমেরিকান প্রার্থীদের সাফল্যও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কংগ্রেসের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়েও মুসলিম প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন।
রাশিদা তালিবের নতুন মেয়াদ শুরু হলে মিশিগানের ১২তম জেলার প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ধরে রাখার সুযোগও বাড়বে। ফিলিস্তিন, অভিবাসী অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো ইস্যুতে তাঁর অবস্থান আগামী দিনেও মার্কিন রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।








মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।