সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
স্প্যাংলের গুলিতে তিনজন নিহত, প্রাণসংকটে দুই পুলিশ সদস্য, আহত আরও একজনহরমুজ প্রণালীতে কাতারসহ ৪ দেশের জাহাজকে ছাড় দিল ইরানযুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল এল-সাইয়েদ, মিশিগানে জয়সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতৃণমূলের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা শুনলেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব , উপস্থাপিত হলো ১৭ বছরের নির্যাতনের নথি

কৃষিকে লাভজনক করতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আন্তর্জাতিক কৃষি মেলার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কৃষিকে লাভজনক করতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কৃষিকে লাভজনক করতে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশের কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক খাতে পরিণত করতে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। প্রচলিত কৃষিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মকে কৃষিতে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।
আগামী ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানী ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬। এ মেলা উপলক্ষে বুধবার (৪ নভেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এ আয়োজন চলবে। পল্লি উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে মেলার আয়োজন করছে।
সরকারপ্রধান তাঁর বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। দেশের মানুষের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নে কৃষি ও কৃষকের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি খাত শক্তিশালী না হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বে কৃষির ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, জমির সীমাবদ্ধতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কৃষিশ্রমিকের সংকটের মতো বিষয়গুলো কৃষির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত বীজ, সঠিক সেচব্যবস্থা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক উৎপাদন পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিকে শুধু উৎপাদননির্ভর খাত হিসেবে দেখলে চলবে না। এটিকে আধুনিক, লাভজনক এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম একটি শিল্পভিত্তিক খাতে রূপান্তর করতে হবে। এ জন্য কৃষকের কাছে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া, উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

কৃষকেরা অনেক সময় ফসল উৎপাদনের পর ন্যায্য দাম পান না। বিশেষ করে মৌসুমে একই ধরনের ফসল বাজারে বেশি আসায় দাম কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। আবার সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করেন। ফলে উৎপাদনের পরও তাঁদের কাঙ্ক্ষিত আয় নিশ্চিত হয় না।
এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কৃষকদের জন্য উন্নত সংরক্ষণাগার, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত গুদাম, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং সহজ বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ফসলের অপচয়ও কমানো সম্ভব হবে।
এবারের আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলায় কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রের আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি প্রদর্শনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নতমানের বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শস্য সংরক্ষণ, দুগ্ধ উৎপাদন, হাঁস-মুরগি পালন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি।
মেলায় কৃষি গবেষক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা একত্র হওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার কৃষকের সময় ও শ্রম বাঁচাতে পারে। জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, চারা রোপণ, ফসল কাটা এবং মাড়াইয়ের কাজে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়লে একই সময়ে বেশি জমিতে কাজ করা সম্ভব হয়। এতে উৎপাদনের সময় কমে এবং শ্রমিকসংকটের চাপও কিছুটা কমানো যায়।

একইভাবে উন্নত বীজ ও বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু উন্নত যন্ত্রপাতি কিনলেই কৃষির উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। এসব যন্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ, মেরামত সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ এবং কৃষকের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে সরকারের কৃষিবিষয়ক অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাকে কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি উপকরণ ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে সঠিক কৃষক তালিকা তৈরি, স্বচ্ছতা এবং বাস্তবায়নের কার্যকারিতার ওপর।
কৃষি বিমার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকের ফসল নষ্ট হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর কৃষি বিমা চালু ও সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের কৃষিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমানে অনেক তরুণ কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী নন। তাঁদের একটি বড় অংশ শহরমুখী হচ্ছেন। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ এবং বাজারসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কৃষি তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মাছ ও পশুপালন, দুগ্ধশিল্প, হাঁস-মুরগির খামার, উন্নত সেচব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য বিপণনে তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কৃষির সঙ্গে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ঘটাতে পারলে এ খাতের সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হবে।

মেলার আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, এবারের আয়োজনে ১৬টি দেশের কৃষি ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। আধুনিক কৃষিযন্ত্র, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শস্য সংরক্ষণ, পশুপালন এবং কৃষিশিল্পের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।
এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেসব প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং বাংলাদেশের মাটি, আবহাওয়া ও কৃষকের আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তি বেছে নেওয়া প্রয়োজন।
তবে কৃষির প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি সাধারণ কৃষকের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা জরুরি। বড় কৃষি প্রতিষ্ঠান কিংবা উচ্চ বিনিয়োগক্ষমতাসম্পন্ন উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্যও প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে হবে। যন্ত্রপাতি ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা, কৃষি সমবায়, প্রশিক্ষণ এবং সহজ অর্থায়ন এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, পানির সঠিক ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে কৃষির উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে আশা প্রকাশ করেন, ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা গবেষক, উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশেও এ আয়োজন ইতিবাচক অবদান রাখবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে জনগণ। কৃষকের শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদনকে লাভজনক করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেছেন।
সব মিলিয়ে এবারের মেলা শুধু আধুনিক কৃষিযন্ত্র প্রদর্শনের আয়োজন নয়; বরং বাংলাদেশের কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। তবে মেলার প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে প্রদর্শিত প্রযুক্তি কতটা সহজে সাধারণ কৃষকের কাছে পৌঁছায় এবং কৃষকের আয় ও উৎপাদন খরচ কমাতে কতটা বাস্তব ভূমিকা রাখতে পারে তার ওপর।


ট্যাগ: কৃষিকৃষি প্রযুক্তিআন্তর্জাতিক কৃষি মেলাতারেক রহমানকৃষক কার্ডকৃষি উন্নয়নবাংলাদেশের কৃষিকৃষি যন্ত্রপাতিখাদ্যনিরাপত্তাকৃষি উদ্যোক্তাকৃষি অর্থনীতিকৃষি বিমা।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।