অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনে চমক! মার্কিন কংগ্রেসে মুসলিম রাজনীতিকদের একের পর এক জয়
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন আব্দুল এল-সায়েদ, প্রতিনিধি পরিষদেও ছয় মুসলিমের জয় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
৯,৬৫৮ বার পড়া হয়েছে ৮ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন মুসলিম আমেরিকান রাজনীতিকেরা। মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। একই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদেও ছয়জন মুসলিম রাজনীতিক জয়ী হয়েছেন। সব মিলিয়ে অন্তত সাতজন মুসলিম রাজনীতিকের জয় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত প্রতিবেদনেও এই ঐতিহাসিক অর্জনের বিষয়টি উঠে এসেছে। ৪ নভেম্বর প্রকাশিত আনাদোলুর প্রতিবেদনে সাতজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিজয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে নির্বাচনের ফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ও প্রত্যয়িত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকতে পারে।
মিশিগানের এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চকক্ষ সিনেটে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। এত দিন দেশটির সিনেটে কোনো মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হননি। আব্দুল এল-সায়েদের জয় সেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে দিয়েছে। তাঁর এই অর্জন শুধু একটি নির্বাচনী আসন জয়ের ঘটনা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়।
মিশিগানের উন্মুক্ত সিনেট আসনটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স। আসনটি দীর্ঘদিনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের অবসরের কারণে খালি হয়েছিল। নির্বাচনে এল-সায়েদ মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পূর্বাভাসে তাঁর জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
আব্দুল এল-সায়েদের বয়স ৪২ বছর। তিনি একজন চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি জনস্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মিশিগানের স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং রাজনীতিতে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমানোর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষ করে সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা চালুর প্রস্তাব তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক সামর্থ্য না থাকলেও প্রত্যেক নাগরিকের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত। পাশাপাশি শ্রমজীবী পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় এল-সায়েদকে নানা ধরনের রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর মুসলিম পরিচয়, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ফিলিস্তিন বিষয়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ও তাঁর সমর্থকদের পক্ষ থেকে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং মুসলিম সংগঠনের সঙ্গে কথিত সম্পর্ক নিয়েও অভিযোগ করা হয়। তবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এল-সায়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তাঁর সমর্থকদের মতে, ধর্মীয় পরিচয়কে নির্বাচনী প্রচারণায় আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। অন্যদিকে সমালোচকেরা তাঁর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনবিষয়ক অবস্থান নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। এল-সায়েদ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। নির্বাচনের শেষ পর্যায়েও এসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
তবে এসব বিতর্কের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত মিশিগানের ভোটাররা তাঁকে নির্বাচিত করেছেন। তাঁর জয় প্রমাণ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সিনেটে আব্দুল এল-সায়েদের ঐতিহাসিক জয়ের পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও ছয়জন মুসলিম রাজনীতিকের জয় বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে দুজন নতুন মুখ এবং চারজন আগে থেকেই কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন।
নিউ জার্সি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আদম হামাওয়ি। তিনি একজন চিকিৎসক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সামরিক চিকিৎসক। ইরাক যুদ্ধে চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলেকে পরাজিত করেন। তাঁর এই জয়ের মধ্য দিয়ে নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস তৈরি হয়েছে।
হামাওয়ি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও শিক্ষাঋণ কমানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। ২০২৪ সালে গাজায় চিকিৎসাসেবায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় মানবিক সহায়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছিল।
নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার। তাঁর বিজয়ও এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। তিনি নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা একজন অনুসন্ধানকারী এবং উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থী। ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে মুসলিম হয়েছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রাথমিক নির্বাচনে দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইয়াতকে পরাজিত করার পর সাধারণ নির্বাচনেও নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
আনাদোলুর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে তিনি ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রচারণায় নাগরিক অধিকার, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। নিউ ইয়র্কের এই আসনে তাঁর জয় প্রতিনিধি পরিষদে নতুন মুসলিম প্রতিনিধিত্বের পথ তৈরি করেছে।
মিশিগান থেকে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন রাশিদা তালিব। তিনি ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পরিচিত মুসলিম নারী সদস্যদের একজন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস হুপারকে পরাজিত করে পঞ্চমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
রাশিদা তালিব দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, মানবাধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার পক্ষে কথা বলে আসছেন। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় বিতর্কের মুখেও পড়েছেন। তবে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সমর্থকদের কাছে তিনি একজন পরিচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক প্রতিনিধি।
মিনেসোটা থেকে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন ইলহান ওমর। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক শৈশবে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে দেশটির রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ২০১৯ সালে প্রতিনিধি পরিষদে যোগ দিয়ে তিনি প্রথম সোমালি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফেডারেল আইনপ্রণেতা হওয়ার ইতিহাস গড়েছিলেন।
এবারও তিনি মিনেসোটার পঞ্চম নির্বাচনী এলাকা থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডেভেল জ্যাকসনকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন। অভিবাসীদের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, মানবাধিকার এবং পররাষ্ট্রনীতিতে তাঁর অবস্থান তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করেছে। বিশেষ করে শরণার্থী ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে তাঁর বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে।
ইন্ডিয়ানা থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন আন্দ্রে কারসন। তিনি ২০০৮ সাল থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইন্ডিয়ানাপোলিসের সপ্তম নির্বাচনী এলাকা থেকে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী প্যাট্রিক ম্যাকঅলিকে পরাজিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা মুসলিম রাজনীতিকদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
কারসন মানবিক মর্যাদা, আন্তর্জাতিক আইন, নাগরিক অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে কংগ্রেসে তাঁর অবস্থানও বেশ শক্তিশালী। এবারের নির্বাচনে তাঁর জয় মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন লতিফা সাইমন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার পূর্ব উপসাগরীয় এলাকার দ্বাদশ নির্বাচনী আসনের প্রতিনিধি। এবারের নির্বাচনে তিনি একই দলের প্রতিদ্বন্দ্বী জেমি জয়েসকে পরাজিত করেছেন। মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করার জন্য তিনি পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়েও তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
এভাবে সাতজনের তালিকায় রয়েছেন আব্দুল এল-সায়েদ, আদম হামাওয়ি, দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার, রাশিদা তালিব, ইলহান ওমর, আন্দ্রে কারসন এবং লতিফা সাইমন। তাঁদের মধ্যে একজন সিনেটে এবং ছয়জন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন।
এই সাতজনের বিজয়কে শুধু একটি ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর নির্বাচনী সাফল্য হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যাবে না। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে অনেক রাজনীতিককে বৈষম্য ও বিরূপ মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মুসলিম রাজনীতিকদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে।
আব্দুল এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়া সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। তবে তাঁর বিজয় দেখিয়ে দিয়েছে, মুসলিম পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও ভোটারদের সমর্থন অর্জন করে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় পৌঁছানো সম্ভব।
এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁদের রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈচিত্র্য। কেউ চিকিৎসক, কেউ মানবাধিকারকর্মী, কেউ অভিবাসী পরিবারের সন্তান, আবার কেউ দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের সবার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও কর্মসূচি এক নয়। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে তাঁরা নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব পেয়েছেন।
এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি। আনাদোলুর প্রতিবেদনে অন্তত সাতজন মুসলিম কংগ্রেস সদস্যের বিজয়ের কথা বলা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আরেক মুসলিম প্রার্থী আয়েশা ওয়াহাবের নির্বাচনী এলাকায় ভোট গণনার সময় প্রাথমিকভাবে এগিয়ে থাকার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁকে সাতজনের নিশ্চিত বিজয়ীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অর্থাৎ ভোট গণনা ও আনুষ্ঠানিক ফলের পর আরও পরিবর্তন আসতে পারে।
এই নির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে শুধু মুসলিম রাজনীতিকদের প্রতিনিধিত্বই বাড়েনি, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যেও পরিবর্তন এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে। ফলে নতুন কংগ্রেসে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি, অভিবাসন, পররাষ্ট্রনীতি ও মানবাধিকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিম, আরব, দক্ষিণ এশীয় এবং অন্যান্য অভিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। কারণ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শুধু নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয়, বরং তাঁদের নির্বাচনী এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা নিয়েও জাতীয় পর্যায়ে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার অর্থ এই নয় যে সব মুসলিম আমেরিকানের মতামত বা প্রত্যাশা একই। প্রত্যেক রাজনীতিকের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং দায়িত্ব রয়েছে। তাঁদের কাজের মূল্যায়ন হবে জনগণের জন্য কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন, তার ভিত্তিতে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আব্দুল এল-সায়েদের সিনেট বিজয় এবং প্রতিনিধি পরিষদে ছয় মুসলিম রাজনীতিকের সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
ধর্ম, বর্ণ কিংবা জন্মপরিচয় নয়, যোগ্যতা, নেতৃত্ব এবং জনগণের আস্থা যে রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, এবারের নির্বাচনের এই অর্জন সেই বার্তাই সামনে নিয়ে এসেছে।
আরও পড়ুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদার বাজিমাত, পঞ্চমবারও কংগ্রেসে মিশিগান জয়

নির্বাচনের পর ইলন মাস্কের মোট সম্পদে ক্ষতি হয়েছে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল এল-সাইয়েদ, মিশিগানে জয়






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।