সুখবর! আমেরিকায় পড়ার স্বপ্ন? বাংলাদেশিদের জন্য ৪ স্কলারশিপ, আজ রাতেই ডেডলাইন ২টির
৮,৬৫৮ বার পড়া হয়েছে ১০ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন চারটি বৃত্তি ও গবেষণা সহায়তার সুযোগ সামনে এসেছে। স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি পর্যায়ে পড়তে আগ্রহীদের জন্য এসব সুযোগের মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ অর্থায়নে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, বছরে ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার ডলারের গবেষণা সহায়তা এবং ১ হাজার থেকে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত শিক্ষাবৃত্তি। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিং-মরিজ বৃত্তিটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সরাসরি যোগ্য দেশের তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিষয়ক গবেষণা সহায়তায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আগ্রহী হতে পারেন। তবে চিক-ফিল-এ বৃত্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অথবা পুয়ের্তো রিকোতে বসবাসের শর্ত রয়েছে। ফলে বিদেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এই চারটি সুযোগের জন্য সমানভাবে আবেদন করতে পারবেন না। বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, কয়েকটি আবেদনের সময়সীমা অত্যন্ত কাছাকাছি। এর মধ্যে দুটি বৃত্তির আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩ নভেম্বর ২০২৬। বাকি দুটি সুযোগের জন্য ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। তবে যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি এবং অর্থায়নের ধরন আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে প্রতিটি কর্মসূচির শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশবিষয়ক কলেজে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা সহকারীর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই গবেষণার মূল বিষয় পাইনগাছের বংশগত বৈশিষ্ট্য, বনভূমির স্থিতিশীলতা এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে গাছের অভিযোজনক্ষমতা। প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টি দুটি স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অথবা একজন পিএইচডি শিক্ষার্থী নিতে চায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থসহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২৬। গবেষণার কাজ শুরু হতে পারে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে অথবা ২০২৭ সালের শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষে। এই গবেষণায় দুটি পৃথক বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। প্রথম গবেষণায় লবললি পাইনগাছের বংশগত বৈশিষ্ট্য, দ্রুত বৃদ্ধি, কাণ্ডের গঠন এবং কাঠের গুণগত মান বিশ্লেষণ করা হবে। গবেষকেরা বিভিন্ন গাছের বংশগত তথ্য ও বৈশিষ্ট্য তুলনা করে কোন ধরনের গাছ বন ব্যবস্থাপনার জন্য বেশি উপযোগী, তা নির্ধারণের চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি গাছের বৃদ্ধির পূর্বাভাস, বনভূমির উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক দিকও বিশ্লেষণ করা হবে। দ্বিতীয় গবেষণার বিষয় আরও পরিবেশকেন্দ্রিক। এতে লবণাক্ত মাটিতে পাইনগাছের চারা কতটা ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে, তা পরীক্ষা করা হবে। বিশেষ করে গাছের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা উপকারী ছত্রাক চারার বেঁচে থাকা ও বৃদ্ধিতে কীভাবে সাহায্য করে, তা নিয়ে গবেষণা হবে। এ জন্য পরীক্ষাগার, গ্রিনহাউস এবং আলাবামার বিভিন্ন মাঠপর্যায়ের এলাকায় পরীক্ষা চালানো হবে। পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থী চাইলে দুটি গবেষণার বিষয় একত্র করে নিজের গবেষণাপত্র তৈরি করতে পারবেন। বনবিদ্যা, জীববিজ্ঞান, পরিবেশবিদ্যা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিসংখ্যান অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকা প্রয়োজন। গবেষণার অভিজ্ঞতা, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে উপাত্ত বিশ্লেষণের দক্ষতা থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যেতে পারে। আবেদনের জন্য জীবনবৃত্তান্ত, গবেষণার আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এক পৃষ্ঠার বিবৃতি, অনানুষ্ঠানিক নম্বরপত্র এবং তিনজন সুপারিশকারীর যোগাযোগের তথ্য একত্র করে একটি পিডিএফ ফাইল তৈরি করতে হবে। আবেদনপত্র পাঠাতে হবে অধ্যাপক হাও চেনকে। অনুলিপিতে রাখতে হবে অধ্যাপক ক্রিস অ্যান্ডারসন ও অধ্যাপক অজয় শর্মাকে। ইমেইল ঠিকানা হলো [email protected], [email protected] এবং [email protected]। আবেদনপত্রে কোন ডিগ্রি এবং কোন গবেষণায় আগ্রহী, তা স্পষ্ট করে লিখতে হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিং-মরিজ বৃত্তি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় সুযোগ। এই বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা চার বছর বা আট সেমিস্টার পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থায়নে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত হন। বৃত্তির আওতায় শুধু শিক্ষাব্যয় নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফি, আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা, বিমানযাত্রার খরচ এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য অতিরিক্ত অর্থও দেওয়া হয়। অর্থাৎ এটি কেবল টিউশন ফি মওকুফের বৃত্তি নয়; শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়গুলোও বহন করার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশ এই কর্মসূচির যোগ্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, ভুটান, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে আবেদন করতে পারেন। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। বাংলাদেশ তালিকায় থাকলেই যে প্রত্যেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন, বিষয়টি এমন নয়। আবেদনকারীকে অবশ্যই প্রথমবারের মতো স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে হবে। আগে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা শিক্ষার্থী, স্থানান্তরিত শিক্ষার্থী, স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সম্পন্ন করা ব্যক্তিরা এই বৃত্তির জন্য যোগ্য নন। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগাম ভর্তি কার্যক্রমের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে এবং সেই কার্যক্রমের আওতায় ভর্তির সিদ্ধান্ত পেতে হবে। ২০২৭ সালের শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আগাম ভর্তির শেষ তারিখ ছিল ১ নভেম্বর ২০২৬। বৃত্তির পৃথক আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২৬। অর্থাৎ ৩ নভেম্বরের হিসাবে যাঁরা ১ নভেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আগাম ভর্তির আবেদন করেননি, তাঁদের জন্য এই বছরের বৃত্তি পাওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে যাঁরা সময়মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছেন এবং আগাম ভর্তি কার্যক্রমে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন, তাঁরা ১৫ নভেম্বরের মধ্যে বৃত্তির আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের আর্থিক প্রয়োজন, শিক্ষাগত সাফল্য, নেতৃত্বের গুণাবলি, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং নিজ দেশের দারিদ্র্য ও উন্নয়নসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আগ্রহ বিবেচনা করা হবে। স্নাতক শেষ করে নিজ দেশে ফিরে সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনপত্রের সঙ্গে ৫০০ থেকে ৭০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ জমা দিতে হবে। সেখানে নিজের দেশের কোনো দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক বা সামাজিক উন্নয়নসংক্রান্ত সমস্যা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে সেটি সমাধানের পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় খাবার প্রতিষ্ঠান চিক-ফিল-এ ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য কমিউনিটি স্কলারস বৃত্তি দিচ্ছে। এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত শিক্ষাসহায়তা পেতে পারেন। প্রতিবছর সর্বোচ্চ ১৩ জনকে এই বৃত্তি দেওয়া হয়। আবেদনের শেষ দিন ৩ নভেম্বর ২০২৬। এই বৃত্তির অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন, ভর্তি ফি, বই এবং অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এক বছরব্যাপী নেতৃত্ব বিকাশ ও পরামর্শদান কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। শিক্ষাগত ফলাফল, সামাজিক কর্মকাণ্ড, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে আবেদনকারীদের মূল্যায়ন করা হবে। তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে বিশেষ সতর্কতা রয়েছে। বৃত্তিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত—এমনভাবে প্রচার করা ঠিক হবে না। আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অথবা পুয়ের্তো রিকোতে বসবাস করতে হবে। বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে ১৫ জুলাই ২০২৭ তারিখের মধ্যে। পাশাপাশি ২০২৭-২০২৮ শিক্ষাবর্ষে পূর্ণকালীন স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ার পরিকল্পনা থাকতে হবে এবং নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অথবা পুয়ের্তো রিকোতে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে আবেদন করতে পারেন। এমনকি এসব দেশে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু বাংলাদেশে কিংবা কাতারসহ অন্য কোনো দেশে বসবাসরত শিক্ষার্থীরা শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ের কারণে এই বৃত্তির জন্য যোগ্য হবেন না। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আবেদন শেষ হবে ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সময় বিকেল ৩টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালের বসন্তকালে ফলাফল জানানো হবে। আবেদনকারীদের শিক্ষাগত নম্বরপত্র, পরিবারের আয়সংক্রান্ত নির্ধারিত কাগজপত্র এবং সুপারিশকারীর তথ্য জমা দিতে হবে। চতুর্থ সুযোগটি তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএসএসিএর ডিজিটাল ট্রাস্ট বৃত্তির আওতায় ১৪ জন শিক্ষার্থীকে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত শিক্ষাসহায়তা দেওয়া হবে। এই বৃত্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন। ফলে বাংলাদেশে, যুক্তরাষ্ট্রে, কাতারে কিংবা অন্য কোনো দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ। তবে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। স্বীকৃত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকতে হবে কিংবা ভর্তির অনুমতি পেতে হবে। পড়াশোনার বিষয় হতে হবে তথ্যপ্রযুক্তি নিরীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা, পরিচালনব্যবস্থা অথবা সংশ্লিষ্ট কোনো ক্ষেত্র। আবেদনের সঙ্গে একজন শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরামর্শক, কর্মস্থলের দায়িত্বশীল ব্যক্তি অথবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের তত্ত্বাবধায়কের সুপারিশপত্র দিতে হবে। আবেদন করতে বিনা মূল্যে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে হিসাব খুলে নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। এই বৃত্তির আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩ নভেম্বর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সময়। নির্বাচিত ১৪ জনের মধ্যে প্রত্যেকে যোগ্যতা, আর্থিক প্রয়োজন, নিজ দেশের শিক্ষাব্যয়ের পরিস্থিতি এবং মেধার ভিত্তিতে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলার পাবেন। অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিতরণ করা হবে। এই কর্মসূচির আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হলো, নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা শুধু অর্থসহায়তা পাবেন না। তাঁদের জন্য এক বছরের শিক্ষার্থী সদস্যপদ, পেশাগত প্রশিক্ষণ, অনলাইন সনদ কোর্স, সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে বৃত্তি পাওয়ার পর ২০২৭ সালে সংস্থাটির অন্তত একটি সরাসরি অথবা অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং পরবর্তী দুই বছর বছরে দুবার নিজের পড়াশোনা ও কর্মজীবনের অগ্রগতি সম্পর্কে সংস্থাকে জানানো বাধ্যতামূলক। চারটি সুযোগের মধ্যে কোনটি কার জন্য উপযোগী, তা নির্ভর করছে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বর্তমান অবস্থানের ওপর। বনবিদ্যা, জীববিজ্ঞান কিংবা পরিবেশবিষয়ক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে এমন শিক্ষার্থীরা অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহায়তাকে গুরুত্ব দিতে পারেন। যাঁরা উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে প্রথমবার স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে চান এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল, তাঁদের জন্য উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি বিশেষ আকর্ষণীয়। তবে আগাম ভর্তি আবেদনের শর্তটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য আইএসএসিএর বৃত্তি তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য আন্তর্জাতিক সুযোগ হতে পারে। কারণ এখানে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব বা বসবাসের শর্ত উল্লেখ করা হয়নি। আর চিক-ফিল-এ বৃত্তির ক্ষেত্রে বসবাসের শর্ত পূরণ না করলে আবেদন করে সময় নষ্ট না করাই ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে বৃত্তির আবেদন করার ক্ষেত্রে শুধু অর্থের পরিমাণ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আবেদনকারীর বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি শর্ত, অর্থায়নের মেয়াদ, জীবনযাত্রার খরচ এবং বৃত্তির অর্থ কীভাবে দেওয়া হবে, এসব বিষয়ও বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গবেষণা সহায়তার ক্ষেত্রে বার্ষিক অর্থের পরিমাণ দেখেই পুরো শিক্ষাব্যয় বিনা মূল্যে হবে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বার্ষিক অর্থসহায়তার পরিমাণ উল্লেখ করা হলেও এই নির্দিষ্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফের বিষয়টি আলাদাভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে, কোনো বৃত্তির ওয়েবসাইটে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকলেই যে আবেদনকারী নির্বাচিত হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে কিংবা যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল হতে পারে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়া। বিশেষ করে ৩ নভেম্বর শেষ হতে যাওয়া আইএসএসিএ ও চিক-ফিল-এ বৃত্তির ক্ষেত্রে সময়সীমা খেয়াল রাখতে হবে। আর ১৫ নভেম্বরের মধ্যে অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহায়তা এবং উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। তবে দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে আগাম ভর্তি আবেদনের শর্ত আগে থেকেই পূরণ করা থাকতে হবে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতা এবং সময়সীমা আবারও যাচাই করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা মধ্যস্থতাকারীকে বৃত্তি নিশ্চিত করার নামে টাকা দেওয়া উচিত নয়। সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সময়মতো আবেদনই বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।
মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।