অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল এল-সাইয়েদ, মিশিগানে জয়
মার্কিন রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। তাঁর এই জয় দেশটির মুসলিম ও অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তাঁর এই বিজয়কে মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোরে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) আবদুল এল-সাইয়েদকে বিজয়ী ঘোষণা করে। এপির প্রাথমিক ফলাফলে তিনি প্রায় ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট।
৪২ বছর বয়সী আবদুল এল-সাইয়েদ মিশিগানের একজন সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তাঁর বাবা-মা মিসর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছিলেন। পেশাগত জীবনে জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে রাজনীতিতে একটি আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং রাজনীতিতে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তাঁর নির্বাচনী কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘মেডিকেয়ার ফর অল’। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নির্বাচনী অর্থায়ন ব্যবস্থায় সংস্কার এবং ধনীদের রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর কথাও বলেছেন।
মিশিগানের এই নির্বাচন জাতীয় পর্যায়েও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। কারণ, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে ছিল এই আসন। দুই পক্ষই নির্বাচনী প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয় করে।
আবদুল এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স একজন সাবেক কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান নেতৃত্বের সমর্থন পেয়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালেও তিনি মিশিগান থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে এবারও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর কাছে পরাজিত হলেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় আবদুল এল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু এবং তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। রিপাবলিকান পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। তবে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নির্বাচনে তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার কয়েকজন পরিচিত নেতা। তাঁদের মধ্যে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ উল্লেখযোগ্য।
বিজয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্যে এল-সাইয়েদ বলেন, তাঁরা শুধু একটি নির্বাচনী প্রচারণা নয়, বরং মানুষের অংশগ্রহণে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। তিনি এমন একটি আমেরিকার স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান গুরুত্ব ও সুযোগ পাবে।
তাঁর এই বিজয়ের ফলে মিশিগানের সিনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলেই থাকছে। অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া বর্তমান সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। সিনেটে যোগ দেওয়ার পর আবদুল এল-সাইয়েদ হবেন দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি, দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম অভিবাসী কমিউনিটির কাছেও এই নির্বাচন বিশেষ আগ্রহের বিষয়। যদিও তাঁর বিজয় সরাসরি কোনো অভিবাসন নীতির পরিবর্তন নিশ্চিত করে না, তবু মার্কিন জাতীয় রাজনীতির সর্বোচ্চ আইনসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় তৈরি হয়েছে।
আবদুল এল-সাইয়েদ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর, মিশিগান নির্বাচন ২০২৬, মার্কিন সিনেট নির্বাচন, মুসলিম প্রতিনিধিত্ব, আমেরিকার নির্বাচনে ইতিহাস, বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি, অভিবাসী রাজনীতি, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, মার্কিন রাজনীতি

ইরান যুদ্ধই কাল হলো রিপাবলিকানদের, নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ স্বীকার করলেন ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের দখলে, ঐতিহাসিক ফলাফলে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন জিতে আলোচনায় আবদুল এল-সায়েদ, সমর্থকদের অভিনন্দনে উচ্ছ্বাস





মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।