সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মধ্যবর্তী নির্বাচনে চমক! মার্কিন কংগ্রেসে মুসলিম রাজনীতিকদের একের পর এক জয়যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে সন্দ্বীপের দুই তরুণের মৃত্যু, শোকে প্রবাসী বাংলাদেশিরানূহের নৌকার সন্ধানে তুরস্কে নতুন অভিযান, ভূগর্ভের ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্যইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত ৪০, নিখোঁজ আরও ৫৯ জনব্রঙ্কসে ১২ বছরের শিশুকে গুলি, তিন সপ্তাহ পর গ্রেপ্তার ২৬ বছরের যুবক

ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত ৪০, নিখোঁজ আরও ৫৯ জন

ইউক্রেনের একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে রাশিয়ার বিমান হামলায় প্রাণহানি বেড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আটকে থাকতে পারেন বহু মানুষ।

ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত ৪০, নিখোঁজ আরও ৫৯ জন
ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত ৪০, নিখোঁজ আরও ৫৯ জন

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই ঘটনায় এখনো ৫৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশের সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৩৭। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা নিয়ে এই পার্থক্য রয়েছে।

গত ২ নভেম্বর সোমবার জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি পুরোনো স্কুল ভবনকে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রতি সোমবার স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ভবনে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে আসতেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মানুষ যখন ত্রাণ নিতে ওই ভবনে জড়ো হচ্ছিলেন, তখন রুশ বাহিনী প্রথম দফায় বিমান থেকে বোমা হামলা চালায়। এরপর হামলার শিকার স্থানটিতে আবারও বোমা ফেলা হয়। তাঁর অভিযোগ, দ্বিতীয় দফায় আরও নয়টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এতে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।

হামলার পরপরই উদ্ধারকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু সেখানেও আবার হামলা চালানো হয় বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দুই উদ্ধারকর্মী ও চার পুলিশ সদস্য নিহত হন। ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরাও প্রাণ হারিয়েছেন।

ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কয়েকজনের মরদেহ এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে চেহারা দেখে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে স্বজনদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ওই এলাকার ইউক্রেনীয় সামরিক অবস্থান। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, সেখানে ২৫ জন পর্যন্ত ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। তবে ইউক্রেনের অভিযোগ, হামলার লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষকে ত্রাণ দেওয়া এবং তাঁদের আশ্রয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি ভবন।

জাতিসংঘও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সমন্বয়কারী মাতিয়াস শ্মালে বলেছেন, হামলায় সাধারণ মানুষ ও উদ্ধারকর্মীরা নিহত হয়েছেন। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

এদিকে, ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ চলছে। হামলার আগের দিন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওলেশকি শহর থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ছয় দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই যুদ্ধবিরতিতে প্রায় ৮০০ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং উত্তেজনা কমানোর বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

তবে নতুন এই হামলার পর শান্তি আলোচনার পরিবেশ নিয়ে আবারও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছে, অন্যদিকে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনায় ইউক্রেনে মানবিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।



ট্যাগ: ইউক্রেনরাশিয়াজাপোরিঝিয়াকোমিশুভাখাবিমান হামলাত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রইউক্রেন যুদ্ধজেলেনস্কি

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।