যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ট্রাম্পের জন্য দেশ চালানো কঠিন হবে, বললেন ইউরোপের প্রধানমন্ত্রী
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে অভিশংসন ও রাজনৈতিক সংঘাত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চেক প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিস। তাঁর আশঙ্কা, আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্পকে অভিশংসনের চেষ্টা এবং বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই দলের মধ্যে বিরোধ বাড়তে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাবিস। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটদের জয় প্রত্যাশিত হলেও তাদের জয়ের পরিমাণ অনেক বড়। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছে। কয়েকটি এলাকায় বহু বছর পর ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে।
বাবিসের মতে, এই নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। তাঁর ভাষায়, ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময় অভিশংসন ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়েই বেশি আলোচনা হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এক ধরনের অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, এত চাপের মধ্যেও ট্রাম্প নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।
এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। এর ফলে ট্রাম্পের রিপাবলিকান প্রশাসনের জন্য নতুন আইন পাস করা এবং নিজেদের রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। কারণ গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করতে কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন।
নির্বাচনের পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর আগে ট্রাম্প দুইবার অভিশংসিত হয়েছিলেন। প্রথমবার ২০১৯ সালে ইউক্রেনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অভিযোগে এবং দ্বিতীয়বার ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনার পর। তবে দুইবারই সিনেটে তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি এবং প্রেসিডেন্টের পদে বহাল ছিলেন।
এবারও ডেমোক্র্যাটরা চাইলে প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আনতে পারে। তবে অভিশংসন হলেই প্রেসিডেন্টকে পদ ছাড়তে হয় না। তাঁকে পদ থেকে সরাতে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। তাই নতুন করে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ হবে না। এদিকে বাবিস শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়েই মন্তব্য করেননি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ট্রাম্প ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আবার মনোযোগ দেবেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির চলমান সংকটের সমাধানেও উদ্যোগ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন। এতে আগামী দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই দলের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে। তবে চেক প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য মূলত নির্বাচনের ফল নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও আশঙ্কা। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা এই বক্তব্যে দেওয়া হয়নি।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।