সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মিশিগানে এল-সাইয়েদের পক্ষে ম্যাকমরোর জোরালো আহ্বান, ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাকমধ্যবর্তী নির্বাচন আজ, আগাম ভোটে ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি ভোটারের অংশগ্রহণবলিউড অভিনেতা তুষার কাপুরের কাছে ৫ কোটি রুপি দাবি, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম ঘিরে আতঙ্কইরানের সঙ্গে উত্তেজনায় বাড়ল তেলের দাম, চাপে পড়তে পারেন মার্কিন চালকরা৩০ বছরের ইতিহাসে প্রথম, হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুর মৃত্যু নিউইয়র্কে

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

মিশিগানে এল-সাইয়েদের পক্ষে ম্যাকমরোর জোরালো আহ্বান, ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক

মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ড. আবদুল এল-সাইয়েদের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন ম্যালরি ম্যাকমরো, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মিশিগানে এল-সাইয়েদের পক্ষে ম্যাকমরোর জোরালো আহ্বান, ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক
মিশিগানে এল-সাইয়েদের পক্ষে ম্যাকমরোর জোরালো আহ্বান, ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. আবদুল এল-সাইয়েদের পক্ষে জোরালো প্রচারে নেমেছেন অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ম্যালরি ম্যাকমরো। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তাঁর এই সক্রিয় অবস্থান ডেমোক্র্যাট শিবিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মিশিগানের ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, দলীয় বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে এবং আবদুল এল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
ম্যাকমরোকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রচারমূলক ভিডিওতে তাঁকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও উদ্দীপ্ত ভঙ্গিতে এল-সাইয়েদের পক্ষে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হচ্ছে, এই নির্বাচন কেবল একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করার লড়াই নয়; বরং মিশিগানের ভবিষ্যৎ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
৩ নভেম্বর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের এই সিনেট আসনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। আসনটি বর্তমানে ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের দখলে ছিল। তিনি পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি নিয়ে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে।
ম্যাকমরোর সমর্থনের পেছনে রয়েছে এবারের নির্বাচনের দীর্ঘ ও বিতর্কিত প্রাথমিক নির্বাচনের ইতিহাস। তিনি নিজেও শুরুতে ডেমোক্র্যাট দলের পক্ষ থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন আবদুল এল-সাইয়েদ এবং কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স। তিনজনের এই লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরে আদর্শিক বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
তবে ২০২৬ সালের ৫ জুলাই ম্যাকমরো নিজের নির্বাচনী প্রচার স্থগিত করার ঘোষণা দেন। এরপর প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত এল-সাইয়েদ ও স্টিভেন্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সাইয়েদ অল্প ব্যবধানে স্টিভেন্সকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন পান। অনানুষ্ঠানিক ফল অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ১৪ হাজার। অন্যদিকে প্রচার স্থগিত করার পরও আগেই পাঠানো অনুপস্থিত ভোটের কারণে ম্যাকমরো ৬১ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন।

৫ আগস্ট এল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর ম্যাকমরো তাঁকে প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানান এবং পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দেন। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রাথমিক নির্বাচন ছিল কঠিন এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে মতপার্থক্যও ছিল। কিন্তু নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের মোকাবিলা করার স্বার্থে ডেমোক্র্যাটদের এক হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা চাইছে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত থাকুক। কিন্তু সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না। মিশিগানের মানুষকে একত্রিত করে নির্বাচনে জয়ী হওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
ম্যাকমরোর এই অবস্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তিনি একসময় এল-সাইয়েদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। দলের মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে দুই প্রার্থীর রাজনৈতিক অবস্থান ও অগ্রাধিকারের মধ্যে পার্থক্য ছিল। তারপরও নিজের পরাজয়ের পর বিজয়ী প্রার্থীকে সমর্থন করে তিনি দলের বৃহত্তর স্বার্থকে সামনে এনেছেন।
মিশিগানের রাজনীতিতে ম্যাকমরো একজন পরিচিত মুখ। তিনি রয়্যাল ওক এলাকার প্রতিনিধিত্বকারী অঙ্গরাজ্য সিনেটর এবং ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে মধ্যপন্থা ও প্রগতিশীল অবস্থানের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন। নিজের নির্বাচনী প্রচারে তিনি স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিকদের অধিকার, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সাধারণ মানুষের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে আবদুল এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক পরিচয় কিছুটা ভিন্ন। তিনি একজন চিকিৎসাবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। মিশিগানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সুযোগ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলো তাঁর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

এল-সাইয়েদের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি হলো সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার পক্ষে কথা বলেছেন, যেখানে অর্থের অভাবে কোনো মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন না। এ ছাড়া বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া প্রভাব কমানো, ধনীদের ওপর ন্যায্য কর আরোপ এবং সাধারণ পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
তাঁর নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এল-সাইয়েদের বক্তব্য, প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, বিদ্যুতের বিল এবং পানির ব্যবহারের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বার্থ রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে তাঁর অবস্থানও এবারের নির্বাচনে বড় আলোচনার বিষয় হয়েছে। এল-সাইয়েদ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ইসরায়েলকে শর্তহীন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। এই অবস্থানের কারণে প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি যেমন প্রগতিশীল ভোটারদের সমর্থন পেয়েছেন, তেমনি রাজনৈতিক বিরোধিতারও মুখে পড়েছেন।
এদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের নির্বাচনী অবস্থানও বেশ শক্তিশালী। তিনি মিশিগানের সাবেক কংগ্রেস সদস্য। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা এবং কংগ্রেসের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান। ২০২৪ সালের সিনেট নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে সে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এলিসা স্লটকিনের কাছে পরাজিত হন।
এবারের নির্বাচনে রজার্সের প্রচারের অন্যতম বিষয় হচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তা, উৎপাদনশিল্পের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং মিশিগানের অর্থনৈতিক অগ্রগতি। তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সমস্যা সমাধানে আগ্রহী একজন রক্ষণশীল নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও তাঁর নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে ডেমোক্র্যাট শিবিরে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। ১ নভেম্বর সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্স রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দেন। ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তাঁর এই ঘোষণা ডেমোক্র্যাট নেতাদের বিস্মিত করে। কারণ প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর স্টিভেন্স এল-সাইয়েদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

এই ঘটনায় ডেমোক্র্যাট দলের মধ্যে নতুন করে বিভক্তির আশঙ্কা দেখা দেয়। দলের কয়েকজন নেতা স্টিভেন্সের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। দলের নেতারা মনে করেন, নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে একজন গুরুত্বপূর্ণ ডেমোক্র্যাট নেতার রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করা এল-সাইয়েদের প্রচারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ম্যাকমরো আবারও এল-সাইয়েদের পাশে দাঁড়ান। ১ নভেম্বর ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় এল-সাইয়েদের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। সেখানে অন্যান্য ডেমোক্র্যাট নেতাও উপস্থিত ছিলেন। ম্যাকমরো দলীয় বিরোধ ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পরিবর্তে নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এই নির্বাচন কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় নয়; বরং মিশিগানের মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লড়াই।
২ নভেম্বরও এল-সাইয়েদের সঙ্গে প্রচারে অংশ নেন ম্যাকমরো। রয়্যাল ওক এলাকায় তাঁদের যৌথ নির্বাচনী কর্মসূচির খবর প্রকাশ করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। সেখানে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, বাজারের উচ্চমূল্য এবং সাধারণ পরিবারের আর্থিক সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। এল-সাইয়েদ বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা পর্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। পরিবারের আয় বাড়লেও ব্যয়ের চাপ কমছে না। এ অবস্থায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করা।
ম্যাকমরোর এই প্রচারকে তাই শুধু একজন প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর মধ্যে রয়েছে ডেমোক্র্যাট দলের নির্বাচনী ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা। কারণ প্রাথমিক নির্বাচনের সময় এল-সাইয়েদ ও স্টিভেন্সের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। একদিকে ছিলেন প্রগতিশীল রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে থাকা এল-সাইয়েদ, অন্যদিকে ছিলেন দলের প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া স্টিভেন্স। ম্যাকমরো এই দুই অবস্থানের মাঝামাঝি একটি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন।
মিশিগান পাবলিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকমরো বলেছিলেন, ডেমোক্র্যাট দলের প্রত্যেক সদস্যকে সব বিষয়ে একমত হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বরং দলের মধ্যে বিভিন্ন মত ও অবস্থানের মানুষ থাকতে পারেন। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য তাঁদের একটি সম্মিলিত লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, দলকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট হিসেবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও মনে করেন, মিশিগানের ভোটারদের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রিপাবলিকান প্রার্থীকে পরাজিত করা। স্বাস্থ্যসেবা, ভোটাধিকার, অভিবাসন নীতি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি দুর্নীতির মতো বিষয়গুলোতে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে হবে।
এবারের নির্বাচনে মিশিগানের গুরুত্ব শুধু অঙ্গরাজ্যটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কোন দলের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, সেটিও এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে চাইলে মিশিগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয়ী হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে এই আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগান এমন একটি অঙ্গরাজ্য যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ভোটার রয়েছেন। এখানে শহরাঞ্চলের ডেমোক্র্যাট সমর্থক, শ্রমিকশ্রেণি, কৃষিপ্রধান এলাকার ভোটার, আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এবং রক্ষণশীল ভোটারদের অবস্থান নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে শুধু দলের সমর্থন থাকলেই কোনো প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হয় না। ভোটারদের বিভিন্ন অংশের আস্থা অর্জন করতে হয়।
বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখা এল-সাইয়েদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে আরব বংশোদ্ভূত ও তরুণ প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন নির্বাচনী প্রচারে শক্তি জোগাতে পারে। ইসরায়েল ও গাজা নিয়ে তাঁর অবস্থান, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক নীতিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। 
নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীর প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন, প্রচারসভা এবং প্রচারমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন তাঁরা। এল-সাইয়েদ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি সামনে এনেছেন। অন্যদিকে রজার্স নিরাপত্তা, উৎপাদনশিল্প এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারে ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান এবং মুসলিম। নির্বাচিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে পারেন। তাঁর বিরোধীরা তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। এল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর সমর্থকেরা এসব বক্তব্যকে মুসলিমবিরোধী রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে সমালোচনা করেছেন। 
সব মিলিয়ে ৩ নভেম্বরের ভোটকে কেন্দ্র করে মিশিগানে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। ম্যাকমরোর মতো সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বীর সক্রিয় সমর্থন এল-সাইয়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দলের ভেতরের বিভক্তি কমিয়ে ভোটারদের এক জায়গায় আনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
তবে ম্যাকমরোর প্রচার কিংবা অন্য ডেমোক্র্যাট নেতাদের সমর্থন এল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত করে না। নির্বাচনের প্রকৃত ফল নির্ভর করবে ভোটারদের উপস্থিতি, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমর্থন এবং শেষ পর্যন্ত প্রদত্ত ভোটের ওপর। মিশিগানের এই আসনে জয়ী কে হবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোট গণনার ফলাফলের জন্য।


ট্যাগ: মিশিগান নির্বাচনআবদুল এল-সাইয়েদম্যালরি ম্যাকমরোযুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনমার্কিন রাজনীতিডেমোক্র্যাট দলমাইক রজার্সহ্যালি স্টিভেন্সমধ্যবর্তী নির্বাচনযুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন।

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।