ইরানের সঙ্গে উত্তেজনায় বাড়ল তেলের দাম, চাপে পড়তে পারেন মার্কিন চালকরা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এবং ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৬ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ৯৮ দশমিক ০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়।
এই প্রণালিতে সামরিক সংঘাত বা জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যেতে পারে।
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো অনেক দূরে। ওয়াশিংটনের শর্তগুলোকে অতিরিক্ত দাবি হিসেবে দেখছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া, সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, কেনাকাটা এবং অন্যান্য কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। তেলের আন্তর্জাতিক দাম বাড়তে থাকলে পরবর্তী সময়ে পেট্রল ও ডিজেলের দামও বাড়তে পারে।
এর প্রভাব পড়তে পারে—
ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের মাসিক খরচে।
পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয়ে।
খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে।
ছোট ব্যবসা ও পরিবহননির্ভর প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়ে।
পরিবারগুলোর দৈনন্দিন বাজেটে।
যুক্তরাষ্ট্রে আজ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যেই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও পেট্রলের দাম ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে ইরান পরিস্থিতির কোনো দ্রুত সমাধানের ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তার ওপর নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পরবর্তী গতিপথ। আর এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খরচেও পড়তে পারে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।