দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ওয়াই আকৃতিতে করার পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করতে ওয়াই আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ওয়াই আকৃতিতে নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য নকশা ও সংযোগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় সেতুটিকে ওয়াই আকৃতির করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধরনের সংযোগব্যবস্থা তৈরি হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এখনই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে না। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এই সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা এবং নির্মাণে সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হতে পারে। বর্তমানে পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন আরেকটি সেতু তৈরি হলে যানবাহনের চলাচল এবং পণ্য পরিবহনে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন সেতুটি নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনে সুবিধা বাড়তে পারে।
এ ছাড়া পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কমানো, কৃষিকাজে পানির সরবরাহ বাড়ানো এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ তৈরির সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়েছে।
তিনটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থের সংস্থান, জমি অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এসব কাজে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ—এই তিনটি প্রকল্প দেশের যোগাযোগ, কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রকল্পগুলোর অবস্থান, নকশা, ব্যয় এবং নির্মাণের সময়সীমা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হওয়ার পর। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে আপাতত প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।