শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা দেওয়া হবে জুলাইয়ে শহীদ ও আহত পরিবারকে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিতদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ থেকে ১২ জনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এসব সম্পত্তির বিক্রয়লব্ধ অর্থের ৫০ শতাংশ জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদদের পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি সম্পত্তিগুলো দ্রুত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন রায়ে যেসব পলাতক আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ রয়েছে, সেগুলো শনাক্ত করে সরকারের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রসিকিউশনের তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফসহ আরও কয়েকজন। সব রায় ও আদেশ যাচাই করে প্রায় ১১ থেকে ১২ জনের সম্পত্তির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রসিকিউশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হবে। এরপর সম্পত্তিগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। বিক্রির অর্থের ৫০ শতাংশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত এসব সম্পত্তির মোট পরিমাণ বা আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। কোন ব্যক্তির নামে কোথায় কত জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব কিংবা অন্য সম্পদ রয়েছে, তা শনাক্ত ও যাচাই করতে হবে। সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা এবং বাজারমূল্য নির্ধারণের পরই সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ জানা সম্ভব হবে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রায় ঘোষণার পর নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে যেসব পলাতক আসামি আপিল করেননি, তাদের ক্ষেত্রে আপিলের সময়সীমা শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনোভাবে সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকায় দ্রুত সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারার আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তবে বাস্তবে সম্পত্তি শনাক্ত, জব্দ, মূল্যায়ন ও বিক্রির প্রতিটি ধাপ সংশ্লিষ্ট আইন ও আদালতের আদেশ অনুসরণ করেই সম্পন্ন করতে হবে।
প্রাপ্ত অর্থ শহীদ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রসিকিউশন। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কীভাবে অর্থ পাবেন, কারা অগ্রাধিকার পাবেন এবং ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেসব বিষয়েও পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে।
এখন পর্যন্ত উদ্যোগটি সম্পত্তি শনাক্ত ও আদালতের রায় বাস্তবায়নের প্রশাসনিক পর্যায়ে রয়েছে। সম্পত্তি বিক্রি সম্পন্ন হয়নি এবং শহীদ পরিবারগুলোর হাতে অর্থ পৌঁছানোর নির্দিষ্ট সময়ও ঘোষণা করা হয়নি।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই উদ্যোগের পর এখন নজর রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ, সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষতিপূরণ বিতরণের প্রক্রিয়ার দিকে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।