সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
৩০ বছরের ইতিহাসে প্রথম, হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুর মৃত্যু নিউইয়র্কেশ্রমিকের মুখোশে রাজপথে কারা? প্রকৃত শ্রমিকদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সম্পর্ক নেই! বিস্ফোরক মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্তের পর ঘরছাড়া ৬০০ মানুষ, কবে ফিরবেন জানেন না কেউমার্কিন মিডটার্মে টানটান উত্তেজনা: পর্যবেক্ষক মোতায়েনে রেকর্ড, দুই রাজ্যে আদালতের বড় রায়সুখবর! আমেরিকায় পড়ার স্বপ্ন? বাংলাদেশিদের জন্য ৪ স্কলারশিপ, আজ রাতেই ডেডলাইন ২টির

হেলসিঙ্কির বক্তব্যে শেখ হাসিনার অভিযোগ, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার চরম চাপে বিতর্কে

হেলসিঙ্কিতে ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নারী নির্যাতন, শিশুমৃত্যু ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে নতুন অভিযোগ তুলেছেন শেখ হাসিনা।

হেলসিঙ্কির বক্তব্যে শেখ হাসিনার অভিযোগ, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার চরম চাপে বিতর্কে
হেলসিঙ্কির বক্তব্যে শেখ হাসিনার অভিযোগ, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার চরম চাপে বিতর্কে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং উগ্রবাদী তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে আল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক নিপীড়ন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতার তদন্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন।

‘বাংলাদেশ এক সন্ধিক্ষণে: গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও উগ্রবাদ’ শিরোনামে দেওয়া বক্তব্যটি আয়োজন করেছে গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স। শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনার দাবি, গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হয়রানি চলছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতি শুধু আওয়ামী লীগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মুক্তিযোদ্ধা, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকেরাও ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্যের একটি বড় অংশ ব্যয় করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি মানবাধিকার সহায়তা সংস্থার একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৫৩ জন নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫৪ জন শিশু এবং ধর্ষণের পর ১২ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই পরিসংখ্যানের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখা যায়, মানবাধিকার সহায়তা সংস্থার ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে একই তথ্য রয়েছে। সংস্থাটি দেশের ১৬টি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর, নিজেদের সংগৃহীত তথ্য এবং অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই হিসাব তৈরি করেছে। ফলে সংখ্যাগুলোর একটি প্রকাশিত তথ্যসূত্র রয়েছে। তবে এগুলো সংস্থাটির নথিভুক্ত ঘটনা, দেশের সব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব নয়। প্রতিবেদনটি পড়ুন।

শিশুদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্যে বলা হয়, মার্চ থেকে হামের কারণে ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি শিশু মারা গেছে। এ বিষয়ে সর্বশেষ প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যও ভয়াবহ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ও পরীক্ষাগারে নিশ্চিত—দুই ধরনের হামজনিত মৃত্যু মিলিয়ে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২৫২-তে পৌঁছেছিল। তবে সব মৃত্যুই পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু নয়। ১ হাজার ১৪৭টি মৃত্যু ছিল সন্দেহভাজন এবং ১০৫টি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছিল। তাই শেখ হাসিনার বক্তব্যে উল্লিখিত সংখ্যাটি মোট সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যুর কাছাকাছি হলেও একে শুধু নিশ্চিত হামজনিত শিশুমৃত্যু বলা সঠিক হবে না। স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদন।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বর্তমান সরকারের সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, গত দুই বছরে শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। বিশেষ করে পোশাকশিল্পে কর্মরত নারীরা এর কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

কারখানা বন্ধের বিষয়টি যাচাই করে দেখা যায়, এ অভিযোগের পেছনে বাস্তব তথ্য রয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে বাংলাদেশের ৪০০টির বেশি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ২৮২টি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির এবং ১২০টি বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সদস্য কারখানা। তবে এসব কারখানা বন্ধের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের চাপ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাসহ একাধিক কারণ রয়েছে। সব বন্ধের জন্য এককভাবে বর্তমান সরকারকে দায়ী করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারখানা বন্ধের তথ্য।

বক্তব্যে ময়মনসিংহের নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারের গ্রেপ্তারের ঘটনাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি প্রশ্ন করেন, নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করার কারণে একজন নারীকে কারাগারে পাঠানো হলে সেটি কেমন গণতন্ত্রের পরিচয় দেয়।

এই ঘটনাটিরও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য রয়েছে। ময়মনসিংহের ভালুকায় সাথী আক্তার নামের এক নারী উদ্যোক্তা নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার তার চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি ভোট দিয়ে বিএনপি সরকারকে ক্ষমতায় আনার পর নিজেই ভুক্তভোগী হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে পুলিশ তাঁকে আটক করে এবং আদালতে পাঠায়। ২৮ অক্টোবর আদালত তাঁকে জামিন দেন। পুলিশ জানিয়েছিল, তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করে। সাথী আক্তারের জামিনের প্রতিবেদন।

নিজের সরকারের সময়কার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুচিকিৎসা উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য কমাতে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে কমে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণেও অগ্রগতি হয়েছিল। তবে এসব সাফল্যের পরিসংখ্যান তাঁর নিজের সরকারের সময়কার অর্জন হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এগুলো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করা প্রয়োজন।

শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক দশকের সশস্ত্র সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার এই চুক্তি করেছিল। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকেও মানবিক দায়িত্ব পালনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্তিশালী করা হয়েছিল এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো আবারও প্রভাব বিস্তার করছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও তাঁদের কারাবন্দি করার ঘটনাও তিনি সমালোচনা করেন। তবে দেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর প্রভাব কতটা বেড়েছে, সে বিষয়ে বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা স্বাধীন তদন্তের ফল তুলে ধরা হয়নি।

বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার এবং নিজের বিরুদ্ধে প্রচারণা নিয়ে অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার, হামলা এবং আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তাঁর বিকৃত ছবি তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁকে এবং আওয়ামী লীগকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে বক্তব্যে নির্দিষ্ট ছবি, প্রচারণার উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা স্বাধীন তদন্তের তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়গুলো শেখ হাসিনার অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের সহিংসতার তদন্ত নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। ওই সময়ের আন্দোলনে প্রাণহানির জন্য তাঁর সরকারকে দায়ী করার অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর দাবি, ১৮ জুলাই ২০২৪ সালে তিনি একজন উচ্চ আদালতের বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন। পরে ১ আগস্ট সেটিকে তিন সদস্যের কমিশনে রূপান্তর করা হয়। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। শেখ হাসিনার বক্তব্যে তদন্ত কমিশন বন্ধ হওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার পক্ষে স্বাধীন সরকারি নথি বা নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধানের ফল এই প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে জুলাই ও আগস্টের সহিংসতা নিয়ে একটি স্বাধীন অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কার কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে তৎকালীন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংস গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কথা উঠে আসে। প্রতিবেদনটি ২৫০ জনের বেশি প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী, চিকিৎসাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। জাতিসংঘের হিসাবটি চূড়ান্ত নামভিত্তিক মৃত্যুতালিকা নয়, বরং বিভিন্ন উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা একটি অনুমান। জাতিসংঘের অনুসন্ধান প্রতিবেদন।

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। তাঁর প্রশ্ন, যদি প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কেন বন্ধ করা হলো এবং হত্যাকাণ্ডের দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত কেন করা হচ্ছে না?

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হারানোর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতায় স্বজন হারানোর বেদনা তিনি জানেন। তাই অন্য কোনো পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে দেখতে চান না।

বক্তব্যের শেষ অংশে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গণতান্ত্রিক দেশ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে হবে। একই সঙ্গে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

সব মিলিয়ে হেলসিঙ্কিতে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। বক্তব্যে নারী ও শিশু নির্যাতন, হামজনিত মৃত্যু, কারখানা বন্ধ এবং একজন নারী উদ্যোক্তার আটকের মতো কয়েকটি বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। আবার ২০২৪ সালের তদন্ত বন্ধ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং উগ্রবাদ বৃদ্ধির মতো অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের সহিংসতার প্রকৃত দায় নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া এবং সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, প্রতিটি মৃত্যুর বিচার, নাগরিকের নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।


ট্যাগ: েখ হাসিনাবাংলাদেশ রাজনীতিআওয়ামী লীগহেলসিঙ্কিফিনল্যান্ডমানবাধিকারগণতন্ত্ররাজনৈতিক সংকটজুলাই আগস্ট আন্দোলনমুহাম্মদ ইউনূসনারী নির্যাতনশিশু নির্যাতনহাম পরিস্থিতিবাংলাদেশের অর্থনীতিআন্তর্জাতিক রাজনীতি।

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।