অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যে ভোট দেখতে ১ হাজার কর্মকর্তা পাঠাল বিচার বিভাগ
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটের নিয়ম ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা দেখতে ৫০টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১ হাজার কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১ হাজার কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে বিচার বিভাগ। মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর নির্বাচনের দিন এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের দাবি, তাদের ইতিহাসে এবারই প্রথম একসঙ্গে ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ভোট পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগ এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর আওতায় বিচার বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর, সরকারি আইন কর্মকর্তাদের কার্যালয় এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। এসব কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব হলো ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের নিয়ম ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, ভোটাররা কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারছেন কি না এবং বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা দেখা।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ভোটারদের অধিকার রক্ষায় আগে থেকেই এ ধরনের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তবে এবার পর্যবেক্ষণের পরিধি বাড়িয়ে দেশের সব অঙ্গরাজ্যে কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের একাধিক এলাকায় পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। বিচার বিভাগের প্রকাশিত তালিকায় এসব এলাকার নাম রয়েছে।
তবে এই কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে ভয় বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালারড পিপল বা এনএএসিপি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। সংগঠনটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা বন্ধ করার আবেদন জানায়।
তবে ২ নভেম্বর সোমবার এক ফেডারেল বিচারক জরুরি আবেদনটি নাকচ করেন। একই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন, ভোট পর্যবেক্ষণে থাকা ব্যক্তিরা সশস্ত্র হবেন না, পুলিশের পোশাক পরবেন না এবং কাউকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাবেন না। বিচার বিভাগের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষকদের কাজ শুধু নির্বাচনের নিয়ম ও ভোটারদের অধিকার ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা দেখা। তাঁরা ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দিতে বা ভোট গণনায় হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হচ্ছে। ফলে এই নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১ হাজার কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষক পাঠানোর ঘটনা এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

মিশিগানে এল-সাইয়েদের পক্ষে ম্যাকমরোর জোরালো আহ্বান, ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের যন্ত্র নষ্ট, নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডার কয়েক কেন্দ্রে ভোট দিতে সমস্যা

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ আবার ডেমোক্র্যাটদের হাতে আসবে,আশা প্রকাশ করলেন চাক শুমার




মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।