কানাডার সঙ্গে শিগগিরই বড় বাণিজ্য চুক্তি হবে, জানালেন ট্রাম্প
কানাডার সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তির আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। চুক্তি হলে মার্কিন কৃষকেরা কানাডায় পণ্য বিক্রিতে শুল্ক সুবিধা পেতে পারেন।
কানাডার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর আশা, খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে একটি ভালো চুক্তি হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকেরা কানাডার বাজারে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, কানাডা একটি ভালো দেশ। দেশটির সঙ্গে খুব শিগগিরই চুক্তি করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের মধ্যে একটি ভালো বাণিজ্য চুক্তি হবে।এর আগে রোববার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। ওই আলোচনার পর দুই নেতাই অগ্রগতির বিষয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দেন। ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নিও আলোচনার অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক লাভজনক চুক্তির কাঠামো নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এই চুক্তির লক্ষ্য হবে কর্মসংস্থান বাড়ানো, পরিবারের জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং কানাডার ভাষা, সংস্কৃতি ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কার্নি আরও জানান, দুই দেশের আলোচক দল আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে চুক্তির বিষয়ে কাজ করবে। অর্থাৎ, দুই নেতা আশাবাদী হলেও এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা চলছে। দুই দেশই একে অপরের পণ্যের ওপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক আরোপ করেছে। এতে কৃষি, গাড়ি, ইস্পাতসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা চাপের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে কানাডার বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক বাধা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এসব বাধা কমিয়ে মার্কিন কৃষকদের জন্য কানাডার বাজার আরও উন্মুক্ত করতে চায়।
ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের ওপর কানাডার শুল্ক তুলে দেওয়ার বিষয়েও কথা বলেছেন। তবে কানাডা সরকার এখনো সব কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। কোন পণ্যের ওপর কত শুল্ক কমবে, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। আলোচনায় জ্বালানি খাতের বিষয়টিও উঠে এসেছে। ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে কিস্টোন এক্সএল তেল পাইপলাইন প্রকল্প আবার চালুর কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে এই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে প্রকল্পটি কীভাবে আবার চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।
এই বাণিজ্য বিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সীমান্তবর্তী রাজ্যেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মিশিগান ও মেইনের ব্যবসায়ী, কৃষক এবং সাধারণ মানুষ দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নতুন চুক্তি হলে এসব অঞ্চলের ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা পরস্পরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে কৃষিপণ্য, গাড়ি, জ্বালানি, ইস্পাত ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য নিয়মিত আদান-প্রদান হয়। তাই শুল্ক বিরোধ কমলে দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তারা উপকৃত হতে পারেন।
তবে এখনই শুল্ক কমে গেছে বা নতুন চুক্তি কার্যকর হয়েছে—এমনটা বলা যাবে না। দুই দেশের আলোচক দল আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করবে। এরপর চুক্তির শর্ত, শুল্ক ছাড় এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। ট্রাম্পের নতুন বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান শুল্ক বিরোধ পুরোপুরি শেষ হবে কি না, তা নির্ভর করছে আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।