৩০ বছরের ইতিহাসে প্রথম, হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুর মৃত্যু নিউইয়র্কে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অঙ্গরাজ্যে হাম-সম্পর্কিত শিশুমৃত্যুর প্রথম ঘটনা এটি।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের লুইস কাউন্টিতে সোমবার (২ নভেম্বর) স্বাস্থ্য বিভাগ এক যৌথ বিবৃতিতে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে শিশুটির বয়স, পরিচয় কিংবা হাম প্রতিরোধের টিকা নেওয়া ছিল কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিউইয়র্কে কতটা ছড়িয়েছে হাম?
অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ২০২৬ সালে নিউইয়র্কে মোট ১৭৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির বাইরে ১৭০ জন এবং শহরের ভেতরে আটজন আক্রান্ত হয়েছেন।
লুইস কাউন্টিতেও আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সেখানে ১৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
শুধু নিউইয়র্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও হাম ছড়িয়ে পড়েছে। পেনসিলভানিয়ায় চলতি বছরে ১ হাজার ৪৩৩টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং পাঁচটি হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর খবর জানিয়েছে অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) হিসাবে ২০২৬ সালে দেশজুড়ে হাম-সম্পর্কিত তিনটি মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের মৃত্যুর হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো ঘর ছেড়ে যাওয়ার পরও প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ওই পরিবেশে ভাইরাস থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
রোগটির প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
উচ্চমাত্রার জ্বর।
কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়া।
চোখ লাল হওয়া এবং পানি পড়া।
কয়েক দিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এক ডোজ টিকা প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং দুই ডোজ প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দেয়।
নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। আক্রান্ত এলাকার মানুষকে টিকা গ্রহণ, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শ অনুসরণ এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
একটি শিশুর মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রতিরোধযোগ্য রোগও একটি পরিবারের জীবনকে মুহূর্তে বদলে দিতে পারে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।