অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ভোট আটকে রাখতে ট্রাম্পের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার বিতর্কিত ডাকযোগে দেওয়া ভোট আটকে দেওয়ার আবেদন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট নিয়ে বড় আইনি বিরোধের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের করা জরুরি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন আদালত। এর ফলে বিতর্কিত ব্যালটগুলো আলাদা করে আটকে রাখার জন্য সরকারের চাওয়া জরুরি নির্দেশ কার্যকর হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় এমন ২০ হাজারের বেশি মানুষের নাম রয়েছে, যাঁদের মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের নামে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালট পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করে কেন্দ্রীয় সরকার। এসব ভোটারের নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যালটগুলো অন্য ভোট থেকে আলাদা রাখার দাবি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
তবে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা সরকারের দেওয়া তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের আশঙ্কা, তালিকায় অনেক বৈধ মার্কিন নাগরিকের নামও থাকতে পারে। যথাযথ যাচাই ছাড়া এসব ভোট আলাদা করে রাখা হলে যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নির্বাচনের ঠিক আগে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিচারপতিরা আবেদনটি গ্রহণ করেননি। আদালতের আদেশে আবেদনের কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। কোনো বিচারপতিও প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানাননি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাওয়া ব্যালট আলাদা করে আটকে রাখার জরুরি ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।
এর আগে নিম্ন আদালতও সরকারের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। গত ২৮ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক ডেভিড কার্টার আবেদনটি খারিজ করেন। তিনি সরকারের তৈরি তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, যথাযথ প্রমাণ ছাড়া হাজার হাজার ভোটারের ব্যালট আটকে রাখা হলে বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আদালতে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানেও তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।
এই বিরোধের মূল কারণ হলো ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু মার্কিন নাগরিকদের রয়েছে। তাই অমার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তালিকায় ভুল থাকতে পারে। শুধু কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেই তাঁকে ভোট দেওয়ার অযোগ্য বলা যায় না।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তারা আদালতে জানিয়েছেন, তালিকার কিছু তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অসংগতি পাওয়া গেছে। তাঁদের পর্যালোচনায় এমন ব্যক্তিদের তথ্যও উঠে এসেছে, যাঁদের ভোটার নিবন্ধন বাতিল বা নিষ্ক্রিয় ছিল। কিছু ব্যক্তির জন্মস্থান সম্পর্কেও সরকারি তালিকার সঙ্গে অমিল পাওয়া গেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এত বিপুলসংখ্যক ভোটারের ব্যালট আলাদা করে যাচাই করতে গেলে নির্বাচনী কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে প্রকৃত মার্কিন নাগরিকদের ভোটও আটকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে।এমন সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোট নিয়ে আইনি বিরোধ জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সরকার কতটা হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী ব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষমতা কতটুকু—সেই প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ২ কোটি ৩০ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। ফলে ২০ হাজার ভোটারের তথ্য নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিরোধ সংখ্যার দিক থেকে তুলনামূলক ছোট হলেও নির্বাচনী অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের চাওয়া অনুযায়ী বিতর্কিত ব্যালটগুলো আলাদা করে আটকে রাখার জরুরি নির্দেশ পাওয়া যায়নি। এখন ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রচলিত আইন ও নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী ভোট গ্রহণ, যাচাই এবং গণনার কাজ চালিয়ে যাবেন।
তবে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে আদালত ২০ হাজার ভোটারের প্রত্যেকের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করেছে। একইভাবে, ওই ব্যক্তিরা সবাই বৈধভাবে ভোট দিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তও আদালত দেয়নি। নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ এবং বেআইনিভাবে ভোট দেওয়া এক বিষয় নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি প্রচেষ্টা সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেয়েছে। নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত ভোটাধিকার, নির্বাচনী নিয়ম এবং অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিতর্ককে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে নতুন সিদ্ধান্ত, পর্যবেক্ষকদের ক্ষমতা সীমিত করলেন বিচারক

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের ইতিহাস গড়ার আহ্বান জানালেন মার্কিন নেতারা

মধ্যবর্তী নির্বাচন আজ, আগাম ভোটে ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি ভোটারের অংশগ্রহণ




মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।