সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ড ব্যয়, ইলন মাস্কের অনুদান ৪৭ কোটি ডলার ছাড়ালমিশিগানে এল-সাইয়েদের পক্ষে ম্যাকমরোর জোরালো আহ্বান, ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাকমধ্যবর্তী নির্বাচন আজ, আগাম ভোটে ৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি ভোটারের অংশগ্রহণবলিউড অভিনেতা তুষার কাপুরের কাছে ৫ কোটি রুপি দাবি, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম ঘিরে আতঙ্কইরানের সঙ্গে উত্তেজনায় বাড়ল তেলের দাম, চাপে পড়তে পারেন মার্কিন চালকরা

চিকিৎসায় অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠলে তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী; তবে অরোরা হাসপাতালের দাবির সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।

চিকিৎসায় অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসায় অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসাসেবায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা কিংবা দায়িত্বে গাফিলতির কারণে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চিকিৎসার নামে রোগীর জীবন নিয়ে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে কোনো রোগীর মৃত্যু হলেই সেটিকে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। প্রকৃত ঘটনা জানতে চিকিৎসার নথিপত্র, দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্ত করতে হবে।
২০২৬ সালের ২১ আগস্ট রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কনিকা মণ্ডলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ সামনে আসে। মন্ত্রী পরিবারটির প্রতি সমবেদনা জানান এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান, অস্ত্রোপচারের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, সন্তান জন্ম দেওয়ার অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পেটের ভেতরে গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি বের করা হলেও দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনিকা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর পেট ফুলে যাওয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। পরে ৩ জুলাই তাঁকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ জুলাই পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পেটের ভেতরে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গজ বের করার পরও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। অবশেষে ১৯ আগস্ট রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি চিকিৎসার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন দেখা দেয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তাও দেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। তদন্তের উদ্দেশ্য ছিল অস্ত্রোপচারের সময় কী ঘটেছিল, চিকিৎসার দায়িত্বে কারা ছিলেন, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং পেটের ভেতরে গজ থাকার বিষয়টি কেন সময়মতো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তা খতিয়ে দেখা।
এ ধরনের ঘটনায় শুধু অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসকের ভূমিকা নয়, পুরো চিকিৎসাব্যবস্থার দায়িত্বও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন, অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহৃত সরঞ্জামের হিসাব রাখা, অস্ত্রোপচার শেষে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পরবর্তী সময়ে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ—প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কি না, তা প্রমাণের জন্য যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।
এর আগে ঢাকার মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। ২০২৬ সালের ২৭ মে হাসপাতালটির প্রসব-পরবর্তী চিকিৎসাকক্ষে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা, কক্ষের পরিবেশ, অক্সিজেন সরবরাহ এবং দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও কর্মীদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়।

৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তদন্তে দেখা যায়, নবজাতকদের রাখা কক্ষটি চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত ছিল না। সেখানে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমস্যা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাব এবং অক্সিজেনসংক্রান্ত ঘাটতির বিষয় উঠে আসে। ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়টিও তদন্তে গুরুতর ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত হয়।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। এরপর হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে ২৮ জুন জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চরম অবহেলা ও মানবিক ভুলের প্রমাণ পাওয়ায় সরকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
এসব ঘটনা থেকে বোঝা যায়, চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার কথা বলছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা এবং তদন্তের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। কোনো চিকিৎসক বা হাসপাতালের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হলে যথাযথ প্রমাণ, তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
বাংলাদেশে চিকিৎসকদের পেশাগত নিবন্ধন ও আচরণবিধি তদারকির দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল। ২০১০ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২৩ ধারায় নির্ধারিত পেশাগত আচরণবিধি বা আইনের বিধান লঙ্ঘনের দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিল এবং নিবন্ধন তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহারের ক্ষমতা কাউন্সিলকে দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ চিকিৎসায় পেশাগত অসদাচরণ প্রমাণিত হলে চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিলের মতো গুরুতর ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে। তবে এটি স্বয়ংক্রিয় কোনো শাস্তি নয়। অভিযোগ, তদন্ত, প্রমাণ এবং কাউন্সিলের আইনানুগ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

একইভাবে বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। হাসপাতালের অনুমোদন, চিকিৎসাসেবার মান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদারকির আওতায় পড়ে। কোনো প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ, পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষ করে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এসব কেন্দ্রে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাই সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সের উপস্থিতি, অক্সিজেন সরবরাহ, প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ ও বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি থাকা অত্যন্ত জরুরি।
হাসপাতালে রোগী ভর্তির পর তাঁর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ শোনা, চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য দেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়গুলোও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসায় অবহেলা এবং চিকিৎসার স্বাভাবিক জটিলতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কোনো রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেই চিকিৎসক ভুল করেছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। কারণ অনেক রোগীর ক্ষেত্রে রোগের জটিলতা, শারীরিক দুর্বলতা কিংবা চিকিৎসায় প্রত্যাশিত সাড়া না দেওয়ার কারণেও মৃত্যু হতে পারে। আবার চিকিৎসকের ভুল সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করা, ভুল ওষুধ প্রয়োগ, অস্ত্রোপচারে অসতর্কতা কিংবা জরুরি চিকিৎসা দিতে অযৌক্তিক বিলম্বের কারণে রোগীর ক্ষতি হলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে রোগীর চিকিৎসার নথিপত্র, পরীক্ষার ফলাফল, অস্ত্রোপচারের বিবরণ, ওষুধ দেওয়ার সময়সূচি, চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালনের তথ্য এবং প্রয়োজনে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রোগীর স্বজনদেরও চিকিৎসার কাগজপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র, পরীক্ষার প্রতিবেদন, ব্যবস্থাপত্র, অস্ত্রোপচারের বিবরণ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত অন্যান্য নথি ভবিষ্যতে অভিযোগ তদন্তে সহায়তা করতে পারে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন রোগী অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলে তিনি চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা রাখেন। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির দায়িত্ব। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পেশাগত মর্যাদা এবং যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো শুধু ঘটনার পর তদন্ত করা নয়, বরং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। হাসপাতালগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন, চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের পর্যবেক্ষণ, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং রোগীর অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি।
বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি এবং অনুমোদনের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনো হাসপাতাল নিয়ম ভঙ্গ করলে শুধু সতর্কবার্তা দিয়ে বিষয়টি শেষ না করে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে কনিকা মণ্ডলের মৃত্যু এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা দেশের চিকিৎসাসেবার মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে চিকিৎসায় অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে, প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়ে কোনো রোগীকে অবহেলা কিংবা অব্যবস্থাপনার শিকার হতে না হয়।


ট্যাগ: চিকিৎসায় অবহেলাস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়স্বাস্থ্যমন্ত্রীসরদার সাখাওয়াত হোসেনভুল চিকিৎসারোগীর মৃত্যুহাসপাতালের অব্যবস্থাপনাকনিকা মণ্ডলআদ্-দ্বীন হাসপাতালবাংলাদেশ মেডিকেল কাউন্সিলস্বাস্থ্য অধিদপ্তরচিকিৎসাসেবারোগীর অধিকার।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।