সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
টেক্সাসে আবাসন সুবিধা, ক্যালিফোর্নিয়ায় সেবার চাহিদা - দুই স্টেটেই চাঙ্গা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিযুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চার বছর মেয়াদি ভিসা নিয়ম আদালতের আদেশে আপাতত স্থগিতপ্যাটারসন ও আটলান্টিক সিটিতে বাড়ছে বাংলাদেশিদের ব্যবসা, রাজনীতি ও সামাজিক প্রভাবদীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে হ্যামট্রাম্কের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র হওয়ার পথে মুহিত মাহমুদমামদানির নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ, নিউইয়র্কে সক্রিয় বাংলাদেশি ও মুসলিম প্রবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চার বছর মেয়াদি ভিসা নিয়ম আদালতের আদেশে আপাতত স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চার বছর মেয়াদি থাকার নতুন নিয়ম আটকে দিয়েছেন আদালত। আপাতত পুরোনো নিয়মে স্বস্তি পাচ্ছেন বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চার বছর মেয়াদি ভিসা নিয়ম আদালতের আদেশে আপাতত স্থগিত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চার বছর মেয়াদি ভিসা নিয়ম আদালতের আদেশে আপাতত স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছিল দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর। এই পরিকল্পনায় শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর অবস্থানের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর নির্ধারণের পরিকল্পনা ছিল। চার বছরের বেশি সময় পড়াশোনা, গবেষণা কিংবা প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আলাদা করে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতো।
তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ঠিক আগের দিন, ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর, ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালত এর কার্যকারিতা স্থগিত করেন। ফলে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নিয়ম চালু হওয়ার কথা থাকলেও সেটি কার্যকর হয়নি। বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আগের অবস্থানকালভিত্তিক নিয়মই বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা দপ্তরও শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে অবহিত করেছে।
এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য যান। তাঁদের অনেকেই স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি এবং গবেষণাভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, উচ্চতর ডিগ্রি কিংবা পড়াশোনার পাশাপাশি অনুমোদিত কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের জন্য নতুন নিয়মটি বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারত।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করেছিল। এর নাম ছিল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থানের অনুমতি এবং অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনসংক্রান্ত বিধিমালা। এতে বিদেশি শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অবস্থানের নিয়ম পরিবর্তনের কথা বলা হয়। বিধিমালাটি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
আগের নিয়মে শিক্ষার্থীরা সাধারণত তাঁদের শিক্ষাক্রমের মেয়াদ এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত প্রশিক্ষণ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারতেন। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় অবস্থানের মেয়াদ অনুযায়ী অনুমতি। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর অবস্থানের অনুমতি শুধু পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ দিয়ে নির্ধারিত হতো না। বরং তিনি তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে পড়াশোনা করছেন কি না, অনুমোদিত প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন কি না এবং অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করছেন কি না, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
নতুন নিয়মে এই ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা চালু করার কথা বলা হয়েছিল। সাধারণভাবে এফ-১ ও জে-১ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সর্বোচ্চ চার বছর অবস্থানের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বা গবেষণা চার বছরের মধ্যে শেষ না হলে তাঁকে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন আবেদন করতে হতো। আবেদন অনুমোদিত না হলে পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত। বিশেষ করে পিএইচডি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা এবং কয়েক বছর মেয়াদি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারত।
নতুন বিধিমালায় আরও কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, শিক্ষার বিষয় পরিবর্তন এবং একই বা নিম্নতর শিক্ষাস্তরে নতুন ডিগ্রি গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আসার কথা ছিল। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগও কার্যত সীমিত হয়ে পড়তে পারত। ফলে কোনো শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত, আর্থিক কিংবা শিক্ষাগত কারণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন করতে চাইলে তাঁকে বাড়তি জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়। বর্তমানে এফ-১ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর সাধারণত ৬০ দিন সময় পান। এই সময়ের মধ্যে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে পারেন, নতুন শিক্ষাক্রমে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন অথবা নিয়ম অনুযায়ী অবস্থান বজায় রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কিন্তু নতুন বিধিমালায় এফ-১ শিক্ষার্থীদের এই সময় ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করার কথা বলা হয়েছিল। অন্যদিকে জে-১ শ্রেণির বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা রাখার পরিকল্পনা ছিল। অর্থাৎ দুই শ্রেণির ক্ষেত্রেই নতুন নিয়মে পড়াশোনা বা কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর অবস্থানসংক্রান্ত প্রস্তুতির সময় আরও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছিল।

এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিলেন অনেক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সংগঠন। তাঁদের যুক্তি ছিল, মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে আবাসন ছাড়ার ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত, চাকরি বা প্রশিক্ষণের সুযোগ খোঁজা এবং দেশে ফেরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা পড়াশোনা শেষে অনুমোদিত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা চাকরির সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন, তাঁদের জন্য সময় কমিয়ে দেওয়া বড় সমস্যা তৈরি করতে পারত।
নতুন বিধিমালার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসনবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন এবং শ্রমিক সংগঠন। মামলাকারীদের মধ্যে ছিল উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসনবিষয়ক প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স, আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক নাফসা, ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন এবং কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সরকার নতুন নিয়ম তৈরির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, নতুন নিয়মের বিষয়ে জনমত নেওয়ার সময় প্রায় ২২ হাজার মতামত জমা পড়েছিল। এর বড় অংশেই প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিরোধিতা করা হয়। আপত্তিকারীদের বক্তব্য ছিল, শিক্ষার্থীদের অবস্থানের সময়সীমা চার বছরে সীমাবদ্ধ করলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক মেধাবী শিক্ষার্থী আকর্ষণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি গবেষণা, প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।

আদালতের বিচারক এফ ডেনিস সেইলর ১৪ সেপ্টেম্বর মামলাটির প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। আদালত মনে করেন, নতুন বিধিমালা তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি এবং সম্ভাব্য ক্ষতির মূল্যায়নে গুরুতর দুর্বলতা রয়েছে। বিশেষ করে চার বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা কেন প্রয়োজন এবং কম ক্ষতিকর বিকল্প ব্যবস্থা কেন বিবেচনা করা হয়নি, সে বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা যথেষ্ট ছিল না বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
আদালত নতুন বিধিমালার কার্যকারিতা স্থগিত করার আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে মামলাকারীদের সব দাবি মঞ্জুর করেননি এবং বিধিমালাটি চূড়ান্তভাবে বাতিলও করেননি। অর্থাৎ এটি মামলার চূড়ান্ত রায় নয়; বরং আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়া ঠেকানোর একটি অন্তর্বর্তী আদেশ।
আদালতের সিদ্ধান্তে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ এফ শ্রেণির ভিসাধারী এবং প্রায় পাঁচ লাখ জে শ্রেণির ভিসাধারী রয়েছেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বড় একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বিনিময় কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারত।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশঙ্কা ছিল, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়ম কঠিন হয়ে গেলে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পরিবর্তে অন্য দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজবেন। কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ তখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। কারণ বিদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাব্যবস্থা, গবেষণা কার্যক্রম এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু টিউশন ফি প্রদান করেন না, তাঁরা গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রেও অবদান রাখেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষাক্রমে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। আদালতের নথিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও অর্থনৈতিক অবদানের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য আরও বেশি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য শিক্ষাঋণ নেন, পরিবারের সঞ্চয় ব্যয় করেন কিংবা বৃত্তির ওপর নির্ভর করেন। তাঁদের কারও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করতে দুই বছর, আবার কারও গবেষণাভিত্তিক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে চার থেকে ছয় বছর কিংবা তারও বেশি সময় প্রয়োজন হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে চার বছরের মধ্যে শিক্ষাক্রম শেষ করতে না পারা শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত আবেদন, ফি এবং প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো।
বিশেষ করে পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সব সময় সম্ভব হয় না। গবেষণার ফলাফল, পরীক্ষাগারের কাজ, গবেষণাপত্র প্রস্তুত, তত্ত্বাবধায়কের অনুমোদন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শর্তের কারণে অনেক সময় শিক্ষাক্রম দীর্ঘায়িত হয়। চার বছর পর আলাদা অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তাঁদের পড়াশোনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারত।
তবে আদালতের আদেশের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিবাসনসংক্রান্ত সব নিয়ম বাতিল হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের আগের মতোই নিজেদের বৈধ অবস্থান বজায় রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণকালীন পড়াশোনার শর্ত, অনুমোদিত কর্মসংস্থানের নিয়ম, প্রশিক্ষণের অনুমতি এবং প্রয়োজনীয় অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র ঠিক রাখতে হবে।
এখানে আরেকটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। শিক্ষার্থীর ভিসার মেয়াদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের অনুমতি এক বিষয় নয়। পাসপোর্টে থাকা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেই সব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অবৈধ হয়ে যায় না। বৈধ অবস্থানের বিষয়টি নির্ভর করে শিক্ষার্থীর অভিবাসন শ্রেণি, প্রবেশের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে চলার ওপর। তাই শুধু ভিসার মেয়াদ দেখে নিজের অবস্থান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা দপ্তর এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরও ১৪ সেপ্টেম্বরের আদালতের সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। এসব নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালা আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের নতুন চার বছর মেয়াদি ব্যবস্থায় অবস্থান বাড়ানোর আবেদন করার প্রয়োজন নেই। পুরোনো অবস্থানকালভিত্তিক নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে অবস্থান চালিয়ে যেতে পারবেন।
তবে শিক্ষার্থীদের জন্য এখনই সব ধরনের সতর্কতা তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। মামলাটি চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আদালতের নতুন আদেশ আসতে পারে। সরকারও আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রাখে। পরবর্তী সময়ে মামলার চূড়ান্ত রায়, আপিল কিংবা নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বিধিমালাটির ভবিষ্যৎ।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা। পড়াশোনার মেয়াদ বাড়লে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে চাইলে, অনুমোদিত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে চাইলে কিংবা অন্য কোনো শিক্ষাক্রমে ভর্তি হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আদালতের স্থগিতাদেশকে অভিবাসনসংক্রান্ত সব শর্ত থেকে অব্যাহতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
সব মিলিয়ে, ১৪ সেপ্টেম্বরের আদালতের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষারত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আপাতত বড় স্বস্তির খবর। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এখন আগের নিয়মে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে চার বছর মেয়াদি নতুন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এখনো পুরোপুরি অনিশ্চিত। মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখতে হবে। নতুন কোনো নির্দেশনা এলে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অবস্থান আবারও পরিবর্তিত হতে পারে।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ফেডারেল বিধিমালাম্যাসাচুসেটস ফেডারেল আদালতের আদেশইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।