এমআইটিসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ভর্তি কমেছে ১৫ শতাংশ
এমআইটিসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার অর্থায়ন সংকটে পিএইচডি ভর্তি কমছে, অনিশ্চয়তায় পড়ছেন দেশি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে অর্থায়ন সংকটের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কেন্দ্রীয় সরকারের গবেষণা অনুদান কমে যাওয়া, নতুন গবেষণা প্রকল্পের অর্থায়নে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন হ্রাসের কারণে দেশটির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি কমছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)।
২০২৬ সালের শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫টি শীর্ষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পিএইচডি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। এর আগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষেও পিএইচডি ভর্তি কমার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন গবেষক তৈরির কার্যক্রম সংকুচিত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতির বড় উদাহরণ এমআইটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রেসিডেন্ট স্যালি কর্নব্লুথ জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিভাগ বাদে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। এর ফলে আগের তুলনায় প্রায় ৫০০ জন কম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে এই ৫০০ জনের হিসাব শুধু পিএইচডি শিক্ষার্থীদের নয়; এটি এমআইটির নির্দিষ্ট কয়েকটি বিভাগ বাদে সামগ্রিক স্নাতকোত্তর ভর্তি পরিস্থিতির হিসাব।
এমআইটির গবেষণা কার্যক্রমেও অর্থায়নের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের গবেষণা অনুদান থেকে পাওয়া অর্থ কমে যাওয়ায় গবেষণা ব্যয় সংকুচিত হয়েছে। নতুন গবেষণা অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রেও আগের তুলনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণা প্রকল্প, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি এবং পরিচালন ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পিএইচডি আবেদনের সংখ্যা ২১ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে দেশীয় শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকলেও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন কমে যাওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে।
মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের বাজেট সংকোচন দেখা গেছে। ২০২৬ অর্থবছরে অঙ্গরাজ্যটির বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার বরাদ্দ প্রায় ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার কমানো হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিচালনা, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই সংকটের প্রভাব বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়তে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পিএইচডি শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি, গবেষণা অনুদান, মাসিক ভাতা এবং শিক্ষাব্যয় মওকুফের সুবিধা নিয়ে পড়াশোনা করেন। গবেষণা প্রকল্পের অর্থায়ন কমে গেলে নতুন শিক্ষার্থী নেওয়ার সুযোগ এবং বৃত্তির পরিমাণও সীমিত হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অর্থায়নের অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা কার্যক্রম, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের সক্ষমতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিকল্প অর্থায়নের উৎস তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা সহায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার আগে বৃত্তি, গবেষণার অর্থায়ন, মাসিক ভাতা এবং পুরো শিক্ষাকালীন অর্থায়নের নিশ্চয়তা যাচাই করা জরুরি। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।