যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় অ্যাপার্টমেন্টে আগুন, ঘর হারিয়ে বিপাকে ১৫টি পরিবার
রাতের আগুনে মুহূর্তেই ঘরছাড়া প্রায় ১৫টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্তদের অস্থায়ী বাসস্থান, আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী দিতে পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকান রেড ক্রস।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের হান্টসভিলে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ১৫টি পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর শনিবার রাতে গভর্নরস হাউস অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগার পর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুনে ভবনটির একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএএফএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাত প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটে গভর্নরস হাউস ড্রাইভের ১৬ ইউনিটের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটিতে আগুন লাগার খবর পায় হান্টসভিল ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। ঘটনাস্থলে আট থেকে দশটি অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট পাঠানো হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর সময় ভবন থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল।
আগুন নেভানোর সময় ভবনটির নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ পানির ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়। ভবন কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণে থাকা ব্যক্তিগত ফায়ার হাইড্র্যান্ট ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করেনি বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ। এ পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন কর্মীরা।
অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৫টি পরিবার সাময়িকভাবে বসবাসের জায়গা হারিয়েছে। অনেকের কাছে ঘর মানে শুধু থাকার জায়গা নয়; সেখানে থাকে পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, স্মৃতি এবং প্রতিদিনের জীবনের নিরাপত্তা। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে পড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকান রেড ক্রস। সংস্থাটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবারগুলোর অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করতে কাজ করছে। পাশাপাশি আগুনে হারিয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং জরুরি সামগ্রী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আমেরিকান রেড ক্রসের উত্তর আলাবামা শাখার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক মালিন্ডা উইলিয়ামস জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কারও চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধ কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তাকারী যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো প্রতিস্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
সহায়তা কার্যক্রমে ইউনাইটেড ওয়ে ও স্যালভেশন আর্মিসহ স্থানীয় অন্যান্য সংস্থাকেও যুক্ত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রকৃত প্রয়োজন চিহ্নিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মাধ্যমে আরও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অ্যাপার্টমেন্টের এক বাসিন্দা ক্যামেরন কিলগোর জানান, তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। প্রতিবেশীদের ফোন ও বার্তার মাধ্যমে ভবনে আগুন লাগার খবর পান। পরে নিজের চোখে আগুনের পরিস্থিতি দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশীদের অনেকেই সেখানে নিজেদের ঘর ও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে জীবন গড়ে তুলেছিলেন।
কিলগোর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই কঠিন সময়ে প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
হান্টসভিল ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ জানিয়েছে, আগুনের সূত্রপাত ও কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ঘটনাটি আবারও আবাসিক ভবনে কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির গুরুত্ব সামনে এনেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো নিরাপদ অস্থায়ী আশ্রয়, প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।