সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
মার্কিন মিডটার্মে টানটান উত্তেজনা: পর্যবেক্ষক মোতায়েনে রেকর্ড, দুই রাজ্যে আদালতের বড় রায়সুখবর! আমেরিকায় পড়ার স্বপ্ন? বাংলাদেশিদের জন্য ৪ স্কলারশিপ, আজ রাতেই ডেডলাইন ২টিরযুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় অ্যাপার্টমেন্টে আগুন, ঘর হারিয়ে বিপাকে ১৫টি পরিবারওয়াশিংটনে বার্ড ফ্লুতে প্রথম মৃত্যু, আক্রান্ত গরুর সংস্পর্শে থাকা কর্মীদের সতর্কতাযুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের একজন ২০ বছরের তরুণী সহচালক নাথালিয়া

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

মার্কিন মিডটার্মে টানটান উত্তেজনা: পর্যবেক্ষক মোতায়েনে রেকর্ড, দুই রাজ্যে আদালতের বড় রায়

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এক হাজার ফেডারেল পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে বিচার বিভাগ। ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা ও আলাস্কার নির্বাচন নিয়ে আদালতে বড় ধাক্কা।

মার্কিন মিডটার্মে টানটান উত্তেজনা: পর্যবেক্ষক মোতায়েনে রেকর্ড, দুই রাজ্যে আদালতের বড় রায়
মার্কিন মিডটার্মে টানটান উত্তেজনা: পর্যবেক্ষক মোতায়েনে রেকর্ড, দুই রাজ্যে আদালতের বড় রায়

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা পরীক্ষা এবং নির্বাচনে সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করার কথা বলে দেশটির বিচার বিভাগ এবার নজিরবিহীন সংখ্যায় ফেডারেল নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই প্রায় এক হাজার পর্যবেক্ষক পাঠানো হচ্ছে। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২০ হাজার সন্দেহভাজন অনাগরিক ভোটারের তালিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের করা মামলা এবং আলাস্কার সিনেট নির্বাচন নিয়ে মামলা আদালতে বড় বাধার মুখে পড়েছে।
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
গত ১৮ আগস্ট বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিট ধিলন প্রায় এক হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাসে বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষক কার্যক্রম হতে যাচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব হবে ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম দেখা এবং ভোটাধিকারসংক্রান্ত ফেডারেল আইন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা। ভোটারদের জাতি, বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধিতা কিংবা অন্য কোনো সুরক্ষিত পরিচয়ের কারণে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কি না, ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে কি না এবং ভোটকেন্দ্রে বৈষম্যমূলক আচরণ হচ্ছে কি না, সেসব বিষয় তাদের নজরে রাখার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর ঘটনা নতুন নয়। কয়েক দশক ধরেই বিচার বিভাগ বিভিন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে আসছে। তবে এবারের কার্যক্রমের ব্যাপ্তি আগের তুলনায় অনেক বড়।
সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিচার বিভাগ ২৮৯ জন পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছিল। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২৭টি অঙ্গরাজ্যের ৮৬টি এলাকায় ৭১৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় এক হাজারে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এক হাজার পর্যবেক্ষক মানে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে এক হাজার করে পর্যবেক্ষক নয়। এটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মোট পরিকল্পিত সংখ্যা। ৫০টি অঙ্গরাজ্যে তাদের উপস্থিতি রাখার কথা বলা হয়েছে।
২৭ অক্টোবর স্টেটস নিউজরুমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার বিভাগ সব অঙ্গরাজ্যে পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। তবে কোন কোন এলাকায় তারা দায়িত্ব পালন করবেন, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা আগে থেকে প্রকাশ করা হয়নি। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষকদের কাজ হবে সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দেখা এবং সেগুলো সম্পর্কে বিভাগকে প্রতিবেদন দেওয়া।
৩০ অক্টোবর প্রকাশিত ডেমোক্রেসি ডকেটের প্রতিবেদনে ২১টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন শহর ও কাউন্টির নাম উঠে এসেছে, যেখানে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া, অ্যালেগেনি, লুজার্ন ও লেহাই কাউন্টি; জর্জিয়ার আটলান্টাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাউন্টি; মিশিগানের ডেট্রয়েট, ফ্লিন্ট, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস ও ল্যানসিং; মিনেসোটার হেনেপিন ও র‍্যামসি কাউন্টি; ওরেগনের মাল্টনোমা কাউন্টি এবং ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি।
এ ছাড়া ফ্লোরিডার মায়ামি-ডেড, কলোরাডোর অ্যাডামস, ইন্ডিয়ানার লেক ও মেরিল্যান্ডের প্রিন্স জর্জেস কাউন্টিতেও পর্যবেক্ষক পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব এলাকার মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্র।

তবে পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। অতীতে বিচার বিভাগের পর্যবেক্ষকদের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং ভোটকেন্দ্রে বৈষম্য বা ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা। এবার প্রশাসন নির্বাচনের নিরাপত্তা ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ।
নির্বাচন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের আশঙ্কা, অতিরিক্ত সংখ্যক ফেডারেল পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি কিছু ভোটারের মধ্যে অস্বস্তি কিংবা ভয় তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটার বেশি, সেখানে এই উদ্বেগ আরও বেশি।
তবে বিচার বিভাগের বক্তব্য হলো, পর্যবেক্ষকেরা ভোটারদের ভোটদানে বাধা দিতে পারবেন না, ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারবেন না এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। তাদের দায়িত্ব মূলত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরি করা।
এদিকে বিচার বিভাগের পর্যবেক্ষক কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে অঙ্গরাজ্য প্রশাসনের বড় ধরনের আইনি বিরোধ চলছে।
গত ১৫ অক্টোবর বিচার বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের অভিযোগ, অঙ্গরাজ্যটির ভোটার তালিকায় ২০ হাজারের বেশি এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এসব ব্যক্তির ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, সাধারণ ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার কেবল দেশটির নাগরিকদের। ফলে কোনো অনাগরিক ব্যক্তি ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিলে তা আইনবিরুদ্ধ। তবে ভোটার তালিকায় কোনো ব্যক্তির নাম থাকা এবং বাস্তবে তাঁর ভোট দেওয়া দুটি আলাদা বিষয়। একইভাবে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়া মানেই তিনি অনাগরিক, এমন সিদ্ধান্তও গ্রহণযোগ্য নয়।
বিচার বিভাগের মামলায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো বিভিন্ন সরকারি তথ্য ও অভিবাসনসংক্রান্ত নথি মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার ব্যক্তিকে সম্ভাব্য অনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সরকারের দাবি, এসব ব্যক্তির কাছে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালট পাঠানো হয়েছে অথবা পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের কাছে এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই করার দাবি জানায়। পাশাপাশি যাঁদের বিরুদ্ধে সন্দেহ রয়েছে, তাঁদের ফেরত পাঠানো ব্যালট আলাদা করে রাখার এবং নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সেসব ব্যালট গণনা না করার আবেদন করে।

কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের এই দাবির বিরোধিতা করে। অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা বলেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া হাজার হাজার ভোটারের ভোটাধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না। তাঁর কার্যালয়ের যুক্তি, কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তালিকায় ভুল থাকতে পারে এবং সেই তালিকার ভিত্তিতে ব্যালট আলাদা করলে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নির্বাচনের মধ্যে ভোট গণনার নিয়ম পরিবর্তন করা হলে পুরো নির্বাচনব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।
২৮ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। এর আগে নবম সার্কিট আপিল আদালতও কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন গ্রহণ করেনি। ফলে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ব্যালট আলাদা করে না রাখার পক্ষে ক্যালিফোর্নিয়া বড় আইনি সুবিধা পায়।
এই মামলায় আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে। ২ নভেম্বর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যাম্পাসের ভোটাধিকারবিষয়ক গবেষকদের একটি বিশ্লেষণের কথা জানানো হয়।
গবেষণায় বিচার বিভাগের দেওয়া ২০ হাজার ৯৩০ জনের তালিকা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। এতে দেখা যায়, তালিকার ৮ হাজার ৮৮০ জনের নাম ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলেনি। অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশ নামের ক্ষেত্রে মিল পাওয়া যায়নি।
গবেষকেরা আরও অন্তত ২২ জন মার্কিন নাগরিককে ওই তালিকায় শনাক্ত করেছেন। পাশাপাশি প্রায় সাড়ে সাত হাজার স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিকে ভুলভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরাও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক। তাঁদের ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। ফলে শুধু অভিবাসনসংক্রান্ত পুরোনো তথ্যের সঙ্গে নামের মিল না পাওয়ার কারণে তাঁদের ভোটাধিকার বাতিল করা যায় না।
বিচার বিভাগ অবশ্য গবেষকদের এই বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, তাদের কাছে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য তথ্য রয়েছে এবং নির্বাচনে কেবল যোগ্য নাগরিকদের ভোট নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য।
৩ নভেম্বর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার ভোটারের ব্যালট আলাদা করে রাখার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও গ্রহণ করেনি। এর আগে নিম্ন আদালতগুলোও প্রশাসনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে সন্দেহভাজন ভোটারদের ব্যালট আটকে রাখার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি আইনি প্রচেষ্টা বড় ধাক্কা খেয়েছে।
অন্যদিকে আলাস্কার সিনেট নির্বাচন নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে।
গত ১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক শ্যারন এল গ্লিসন কেন্দ্রীয় সরকারের করা মামলাটি খারিজ করে দেন। মামলাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল, আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর ড্যান সুলিভান পরাজিত হলে নির্বাচনের ফলাফল অনুমোদন প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া বা বিলম্বিত করা।
এবারের নির্বাচনে ড্যান সুলিভানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটো রয়েছেন। তবে একই ব্যালটে ড্যানিয়েল জে সুলিভান নামের আরেকজন প্রার্থীও রয়েছেন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তাঁর নাম ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে দাবি করে ট্রাম্প প্রশাসন।
কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ ছিল, একই রকম নামের দুই প্রার্থী থাকার কারণে কিছু ভোটার ভুল করে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। এতে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের ভোট কমে যেতে পারে। প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, এই পরিস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই যুক্তিতে বিচার বিভাগ আদালতের কাছে আবেদন করে, ড্যান সুলিভান পরাজিত হলে নির্বাচনের ফলাফল অনুমোদন বন্ধ রাখা হোক। পাশাপাশি অন্য ড্যানিয়েল সুলিভানের পক্ষে দেওয়া ব্যালটগুলো আলাদা করে তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক।
কিন্তু আলাস্কার নির্বাচন কর্মকর্তারা এই দাবির বিরোধিতা করেন। তাঁদের বক্তব্য, ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষা করা নির্বাচনের অন্যতম মৌলিক শর্ত। কোনো ব্যক্তি কাকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করা হলে ভোটের গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
বিচারক শ্যারন গ্লিসনও কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদনে গুরুতর আইনি সমস্যা দেখতে পান। তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের এই মামলা করার যথাযথ আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পাশাপাশি কোন পদ্ধতিতে ব্যালট আলাদা করে তদন্ত করা হবে এবং কীভাবে ভোটারের গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে, সে বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনাও সরকার দিতে পারেনি।
বিচারক আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে ভোট গণনা ও ফলাফল অনুমোদনের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হলে তা অযৌক্তিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ফলে আলাস্কার নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রচেষ্টা আপাতত আদালতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে মামলাটি খারিজের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলোর মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলোর ক্ষমতার সীমা নিয়ে বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের নির্ধারিত আইন ও সাংবিধানিক সীমার মধ্যে অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেদের নির্বাচনের সময়, স্থান ও পদ্ধতি পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে ফেডারেল নির্বাচন আইন, ভোটাধিকার এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করা।
এই দুই দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে পারে, কিন্তু অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সেটি আদালতের বিবেচনার বিষয়।
এবারের নির্বাচনে বিচার বিভাগের প্রায় এক হাজার পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনাও সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২ নভেম্বর প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচার বিভাগ প্রায় এক হাজার পর্যবেক্ষকের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মীদেরও যুক্ত করছে। এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ প্রশাসন, কারাগার ব্যুরো এবং আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে। তবে বিচার বিভাগের বক্তব্য, এসব কর্মী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন; তাঁদের হাতে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বা অস্ত্র থাকার কথা নয়।
এদিকে নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপি পর্যবেক্ষক কার্যক্রমের কিছু দিক নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। তাদের আশঙ্কা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর জয়-পরাজয়ের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন, ভোটার তালিকা যাচাই, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ, ব্যালট গণনা এবং অঙ্গরাজ্যের সাংবিধানিক ক্ষমতা—সবকিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
বিশেষ করে অভিবাসী পরিবারের সদস্যদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ভোটাধিকার রয়েছে। শুধু বিদেশে জন্মগ্রহণ করা কিংবা অভিবাসী পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে কাউকে ভোট দেওয়ার অযোগ্য মনে করা যায় না। একই সঙ্গে নাগরিক নন, এমন ব্যক্তিদের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়াও আইনসম্মত নয়।
তবে ভোটার তালিকায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের দায়িত্ব যথাযথ যাচাইয়ের মাধ্যমে পালন করতে হবে। কোনো বৈধ নাগরিক যেন ভুল তথ্যের কারণে ভোটাধিকার হারিয়ে না ফেলেন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি এসব মামলা ও পর্যবেক্ষকদের কার্যক্রম ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পরিচালনার নিয়মেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্যাগ: গ: যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনমধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬ডোনাল্ড ট্রাম্পমার্কিন বিচার বিভাগনির্বাচন পর্যবেক্ষক

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।