ওয়াশিংটনে বার্ড ফ্লুতে প্রথম মৃত্যু, আক্রান্ত গরুর সংস্পর্শে থাকা কর্মীদের সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে আক্রান্ত দুগ্ধগাভির সংস্পর্শে এসে বার্ড ফ্লুতে এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। একই এলাকায় আরও দুইজনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ইয়াকিমা কাউন্টিতে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাসে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। গত ১ নভেম্বর ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে ইয়াকিমা কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি সংক্রমিত দুগ্ধগাভির সংস্পর্শে এসেছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁর আগে থেকেই কিছু শারীরিক জটিলতা ছিল। পরিবারের গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে মৃত ব্যক্তির নাম, বয়স ও লিঙ্গ প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে একই কাউন্টিতে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত তৃতীয় ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনিও সংক্রমিত গরুর সংস্পর্শে এসেছিলেন। তবে তাঁর অসুস্থতা গুরুতর নয় এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়নি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা অন্যদের শনাক্ত করে তাঁদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছেন জনস্বাস্থ্যকর্মীরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত তিনজন মানুষের শরীরে বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের সংক্রমণের সঙ্গে আক্রান্ত গবাদিপশুর সংস্পর্শের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ইয়াকিমা কাউন্টিতে ৩৩টি দুগ্ধ খামারের গরুর শরীরে এইচ৫এন১ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পাশের বেন্টন কাউন্টির একটি খামারেও সংক্রমণ পাওয়া গেছে।
বার্ড ফ্লু সাধারণত পাখির মধ্যে ছড়ালেও গবাদিপশুসহ অন্যান্য প্রাণীর শরীরেও সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত প্রাণী বা তাদের সংস্পর্শে থাকা দূষিত পরিবেশের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে দুগ্ধ খামারের কর্মী এবং আক্রান্ত প্রাণীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করা ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
তবে সাধারণ মানুষের জন্য বর্তমানে সংক্রমণের ঝুঁকি কম বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের মধ্যে মানুষ থেকে মানুষে বার্ড ফ্লু ছড়ানোর কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। মৃত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে, যাতে নতুন কোনো সংক্রমণ হলে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা খামারকর্মীদের আক্রান্ত বা অসুস্থ প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে এবং প্রয়োজন হলে সুরক্ষামূলক পোশাক, চোখের সুরক্ষা ও দস্তানা ব্যবহার করতে বলেছেন। জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, শরীর ব্যথা কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কাঁচা দুধ ও অপরিশোধিত দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দুধ পাস্তুরিত করার প্রক্রিয়ায় বার্ড ফ্লুসহ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস হয়। তাই নিরাপদ দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে পাস্তুরিত পণ্য বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। আক্রান্ত খামারগুলোর কর্মীদের সতর্কতা মেনে চলার পাশাপাশি নতুন সংক্রমণ শনাক্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাটি গুরুতর হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।





মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।